Sunday, May 17, 2020

পড়তেই হবে এমন ২০০ বইয়ের তালিকা

Must read bangla books,bengali books one should read,top 200 bengali books
#pendrive


পড়তেই হবে এমন ২০০ বইয়ের তালিকা


কালেকশনে রেখে দিতে পারেন -


১। পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২। জোছনা ও জননীর গল্প- হুমায়ুন আহমেদ

৩। পথের পাঁচালি- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

৪। লোটা কম্বল- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

৫। পদ্মা নদীর মাঝি- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

৬। একাত্তরের দিনগুলি- জাহানারা ইমাম

৭। দিবারাত্রির কাব্য- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

৮। কবি- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

৯। আরন্যক- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১০। চরিত্রহীন – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১১। লালসালু- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

১২। অপরাজিত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৩। শ্রীকান্ত -শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৪। চোখের বালি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৫। গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

১৬। আলালের ঘরের দুলাল- প্যারিচাঁদ মিত্র

১৭। হুতোম পেঁচার নকশা- কালী প্রসন্ন সিংহ

১৮। দৃষ্টিপ্রদীপ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯। সূর্যদীঘল বাড়ি- আবু ইসহাক

২০। চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ

২১। জননী- শওকত ওসমান

২২। খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

২৩। হাজার বছর ধরে- জহির রায়হান

২৪। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র – আলাউদ্দিন আল আজাদ

২৫। চিলেকোঠার সেপাই- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

২৬। সারেং বউ- শহীদুল্লাহ কায়সার

২৭। আরোগ্য নিকেতন- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

২৮। প্রদোষে প্রাকৃতজন – শওকত আলী

২৯। খেলেরাম খেলে যা- সৈয়দ শামসুল হক

৩০। রাইফেল রোটি আওরাত- আনোয়ার পাশা

৩১। গঙ্গা- সমরেশ বসু

৩২। শঙ্খনীল কারাগার- হুমায়ুন আহমেদ

৩৩। নন্দিত নরকে- হুমায়ুন আহমেদ

৩৪। দীপু নাম্বার টু- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

৩৫। মা- আনিসুল হক

৩৬। আট কুঠরি নয় দরজা- সমরেশ মজুমদার

৩৭। কড়ি দিয়ে কিনলাম- বিমল মিত্র

৩৮। মধ্যাহ্ন- হুমায়ূন আহমেদ।

৩৯। উত্তরাধিকার- সমরেশ মজুমদার

৪০। কালবেলা- সমরেশ মজুমদার

৪১। কৃষ্ণকান্তের উইল- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

৪২। সাতকাহন- সমরেশ মজুমদার

৪৩। গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

৪৪। পূর্ব-পশ্চিম- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

৪৫। প্রথম আলো- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

৪৬। চৌরঙ্গী – শঙ্কর

৪৭। নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শঙ্কর

৪৮। দূরবীন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

৪৯। শুন বরনারী- সুবোধ ঘোষ।

৫০। পার্থিব- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

৫১। সেই সময়- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

৫২। মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

৫৩। তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

৫৪। পাক সার জমিন সাদ বাদ- হুমায়ুন আজাদ

৫৫। ক্রীতদাসের হাসি- শওকত ওসমান

৫৬। শাপমোচন – ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

৫৭। মাধুকরী- বুদ্ধদেব গুহ

৫৮। দেশে বিদেশে- মুজতবা আলী

৫৯। আরেক ফাল্গুন – জহির রায়হান

৬০। কাশবনের কন্যা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম

৬১। বরফ গলা নদী- জহির রায়হান

৬২। গাভী বৃত্তান্ত- আহমদ ছফা

৬৩। বিষবৃক্ষ – বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়

৬৪। দৃষ্টিপাত- যাযাবর

৬৫। তিতাস একটি নদীর নাম- অদৈত মল্লবর্মন

৬৬। কাঁদো নদী কাঁদো- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

৬৭। শিবরাম গল্পসমগ্র

৬৮। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা – শহীদুল জহির

৬৯। আনন্দমঠ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

৭০। নিশি কুটুম্ব- মনোজ বসু।

৭১। একাত্তরের যীশু- শাহরিয়ার কবির

৭২। প্রজাপতি – সমরেশ বসু

৭৩। নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

৭৪। মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

৭৫। হুযুর কেবলা- আবুল মনসুর আহমেদ

৭৬। ওঙ্কার- আহমদ ছফা

৭৭। আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর- আবুল মনসুর আহমদ

৭৮। কত অজানারে- শঙ্কর

৭৯। ভোলগা থেকে গঙ্গা- রাহুল সাংকৃত্যায়ন

৮০। টেনিদা- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

৮১। বিষাদ সিন্ধু- মীর মোশাররফ হোসেন।

৮২। বিবর- সমরেশ বসু

৮৩। তারাশঙ্করের সব গল্প

৮৪। বুদ্ধদেব বসুর সব গল্প

৮৫। বনফুলের সব গল্প

৮৬। পরশুরামের সব গল্প

৮৭। কবর- মুনীর চৌধুরী

৮৮। কোথাও কেউ নেই- হুমায়ুন আহমেদ

৮৯। হিমু অমনিবাস – হুমায়ুন আহমেদ

৯০। মিসির আলী অমনিবাস- হুমায়ুন আহমেদ

৯১। আমার বন্ধু রাশেদ- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

৯২। অসমাপ্ত আত্মজীবনী – জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান

৯৩। শঙ্কু সমগ্র- সত্যজিৎ রায়

৯৪। মাসুদ রানা- কাজী আনোয়ার হোসেন।

৯৫। ফেলুদা সমগ্র- সত্যজিৎ রায়

৯৬। তিন গোয়েন্দা- সেবা প্রকাশনী

৯৭। কিরীটী সমগ্র- নীহাররঞ্জন গুপ্ত

৯৮। কমলাকান্তের দপ্তর- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

৯৯। পথের দাবি- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১০০। গোরা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১০১। শবনম- মুজতবা আলী

১০২। নৌকাডুবি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১০৩। আদর্শ হিন্দু হোটেল- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১০৪। বহুব্রীহি – হুমায়ুন আহমেদ

১০৫। দেবদাস – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১০৬। মধ্যাহ্ন- হুমায়ুন আহমেদ

১০৭। বাদশাহ নামদার- হুমায়ুন আহমেদ

১০৮। বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিস্কার- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১০৯। হাসুলিবাকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

১১০। গল্পগুচ্ছ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১১১। শেষ নমস্কার- সন্তোষ কুমার ঘোষ

১১২। হাঙ্গর নদী গ্রেনেড- সেলিনা হোসেন

১১৩। আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু- শহীদুল জহির

১১৪। সাহেব বিবি গোলাম- বিমল মিত্র

১১৫। আগুনপাখি- হাসান আজিজুল হক

১১৬। কেয়া পাতার নৌকো- প্রফুল্ল রায়

১১৭।পুষ্প ও বিহঙ্গ পিরাণ- আহমদ ছফা

১১৮। আনোয়ারা- নজীবর রহমান

১১৯। চাপাডাঙ্গার বউ- তারাশঙ্খর বন্দ্যোপাধ্যায়

১২০। চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ

১২১। কপালকুণ্ডলা – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১২২। প্রথম প্রতিশ্রুতি – আশাপূর্ণা দেবী

১২৩। মরুস্বর্গ- আবুল বাশার

১২৪। রাজাবলী – আবুল বাশার

১২৫। কালো বরফ- মাহমুদুল হক

১২৬। নিরাপদ তন্দ্রা- মাহমুদুল হক

১২৭। সোনার হরিণ নেই- আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

১২৮। যদ্যপি আমার গুরু- আহমদ ছফা

১২৯। মৃতুক্ষুধা- কাজী নজরুল ইসলাম

১৩০। প্রদোষে প্রাকৃতজন’ – শওকত আলী

১৩১। শেষের কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৩২। লৌহকপাট -জরাসন্ধ(চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)

১৩৩। অন্তর্লীনা- নারায়ণ সান্যাল

১৩৫। হাজার চুরাশির মা- মহাশ্বেতা দেবী

১৩৬। যাও পাখি -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১৩৭।তবুও একদিন- সুমন্ত আসলাম

১৩৮। অন্তর্জলী যাত্রা- কমলকুমার মজুমদার

১৩৯। ব্যোমকেশ সমগ্র- শরদিন্দু

১৪০। অন্য দিন- হুমায়ূন আহমেদ

১৪১। কালপুরুষ- সমরেশ মজুমদার

১৪২। মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

১৪৩। বিন্দুর ছেলে- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৪৪। নামগন্ধ – মলয় রায় চৌধুরী

১৪৫। মতিচূর – বেগম রোকেয়া

১৪৬। সুলতানার স্বপ্ন- বেগম রোকেয়া

১৪৭। চাঁদের পাহাড়- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৪৮। অপুর সংসার- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৪৯। কারুবাসনা – জীবনানন্দ দাশ

১৫০। বেনের মেয়ে- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

১৫১। আবদুল্লাহ – কাজী ইমদাদুল হক

১৫২। সূবর্ণলতা- আশাপূর্ণা দেবী

১৫৩। ঢোঁড়াই চরিত মানস- সতিনাথ ভাদুরী

১৫৪। উপনিবেশ – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

১৫৫। সাহেব বিবি গোলাম- বিমল মিত্র

১৫৬। পদ্মার পলিদ্বীপ – আবু ইসহাক

১৫৭। নারী- হুমায়ুন আজাদ

১৫৮। বিত্ত বাসনা- শংকর

১৫৯। সংশপ্তক- শহিদুল্লা কায়সার

১৬০। জীবন আমার বোন- মাহমুদুল হক

১৬১।ক্রাচের কর্নেল- শাহাদুজ্জামান

১৬২।১৯৭১- হুমায়ূন আহমেদ""

১৬৩।দেয়াল- হুমায়ূন আহমেদ

১৬৪।পরিনীতা- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৬৫।উত্তম পুরুষ-রশীদ করীম

১৬৬।ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা- শিবরাম চক্রবর্তী

১৬৭।শতকিয়া-সুবোধ ঘোষ

১৬৮।নিষিদ্ধ লোবান- সৈয়দ শামসুল হক

১৬৯। নীল দংশন – সৈয়দ শামসুল হক

১৭০। কুকুর সম্পর্কে দু একটি কথা যা আমি জানি- সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

১৭১। অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী- আহমদ ছফা

১৭২। ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল – হুমায়ুন আজাদ

১৭৩। শুভব্রত ও তার সম্পর্কিত সুসমাচার, রাজনীতিবিদগণ -হুমায়ুন আজাদ

১৭৪। ১০,০০০, এবং আরো একটি ধর্ষণ – হুমায়ুন আজাদ

১৭৫। নভেরা- হাসনাত আবদুল হাই

১৭৬। দুচাকার দুনিয়া- বিমল মুখার্জী

১৭৭। চাকা- সেলিম আল দীন

১৭৮। হার্বাট- নবারুণ ভট্টাচার্য

১৭৯। নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে- অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

১৮০। ন হন্যতে – মৈত্রেয়ী দেবী।

১৮১। কেরী সাহেবের মুন্সী- প্রমথনাথ বিশী

১৮২। আগুনপাখি- হাসান আজিজুল হক

১৮৩। পঞ্চম পুরুষ- বাণি বসু

১৮৫। অলীক মানুষ- সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ

১৮৬। আমি বীরাঙ্গনা বলছি- নীলিমা ইব্রাহিম

১৮৭। পুত্র পিতাকে – চানক্য সেন

১৮৮। দোজখনামা- রবি শংকর বল

১৮৮। মাতাল হাওয়া- হুমায়ূন আহমেদ

১৮৯।বিষাদবৃক্ষ – মিহিরসেন গুপ্ত

১৯০। অলৌকিক নয়,লৌকিক – প্রবীর ঘোষ

১৯১। সৃষ্টি রহস্য – আরজ আলী মাতুব্বর।

১৯২। ফালি ফালি ক’রে কাটা চাঁদ – হুমায়ুন আজাদ

১৯৩। নিমন্ত্রণ – তসলিমা নাসরিন

১৯৪। বসুধারা- তিলোত্তমা মজুমদার

১৯৫।উপকণ্ঠ – গজেন্দ্র কুমার মিত্র

১৯৬। অসাধু সিন্ধার্থ- জগদীশ গুপ্ত

১৯৭। কুহেলিকা- কাজী নজরুল ইসলাম

১৯৮। সৃষ্টি ও বিজ্ঞান – পূরবী বসু

১৯৯। ঈশ্বরের বাগান- অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

২০০। আয়না- আবুল মনসুর আহমদ

২০১। ক্রান্তিকাল- প্রফুল্ল রায়

২০২। কেয়া পাতার নৌকা- প্রফুল্ল রায়

২০৩। গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে – মাহবুব আলম

২০৪। একাত্তরের ডায়েরী- বেগম সুফিয়া কামাল

২০৫। রাজাকারের মন (১ম ও ২য় খন্ড) – মুনতাসীর মামুন

২০৬। ভিনকোয়েস্ট জেনারেল – মুনতাসীর মামুন

২০৭। যাপিত জীবন – সেলিনা হোসেন

২০৮।খেলারাম খেলে যা - সৈয়দ শামসুল হক

২০৯। সোনালী হরিণ নেই- আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

২১০। চতুষ্পাঠী- স্বপ্নময় চক্রবর্তী।

#সংগৃহীত পোস্ট

Monday, May 4, 2020

BOOK REVIEW : ঢোঁড়াই চরিত মানস



'ঢোঁড়াই চরিত মানুষ' বাংলা সাহিত্যে দলিত মানুষদের এক অনন্য দলিল - একটি আলোচনা।
সতীনাথ ভাদুড়ীর জন্ম ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ সালে। জন্মেছেন তৎকালীন বিহারের পূর্ণিয়ায়। পিতা ইন্দুভূষণ জীবিকা সূত্রে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে সেখানে গিয়েছিলেন।
সতীনাথের স্কুলজীবন শুরু হয় সেখানেই। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতিতে এম এ এবং বি এল পাস করেন। পিতার সহকারীরূপে আইন ব্যবসা শুরু করলেও তিনি জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবা এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। সেই সময়ের স্বনামধন্য সাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহ তাঁকে সাহিত্যের দিকে ঠেলে দেয়। পাশাপাশি গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ফলে জেল জীবনের স্বাদ পান। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ফলে দ্বিতীয় জেল জীবনে লেখেন 'জাগরী'। এসময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ফণীশ্বরনাথ রেণু সহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে। জাগরী উপন্যাস তাঁকে সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এরজন্য রবীন্দ্র পুরস্কার পান। 'জাগরী' এবং 'ঢোঁড়াই চরিত মানস' তাঁর এই দুটি ব‌ইয়ের কথাই বেশি চর্চিত হয়। সেই হিসেবে তিনি খুব জনপ্রিয় লেখক নন। তবু বাঙালি মানসে তিনি জেগে আছেন তাঁর এই দুই উপন্যাসের শিল্পিত বৈশিষ্ট্যের জন্য।

ঢোঁড়াই চরিত মানস দুটি পর্বে লেখা। প্রথম পর্ব ১৯৪৯-এ প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্ব ১৯৫১ সালে।

পূর্ণিয়া সংলগ্ন উত্তর বিহারের ধাঙড় সম্প্রদায় দলিত বর্গের মানুষের একটি গোষ্ঠী। এরা একেবারেই অচ্ছুৎ। বিহারের জাতপাতের সমস্যা ভারত বিখ্যাত। কিন্তু ১৯৪৮-৫০ সময়ে সেখানে জাতপাতের ব্যাপারটা কেমন ছিল ২০২০ সালে তা আমাদের কল্পনায় আসবে না। খানিকটা আন্দাজ করা যায়, যদি মৃণাল সেনের 'মৃগয়া' ছবিটি দেখা থাকে! কারণ ওই ছবি তৈরি হয়েছে হিন্দি সাহিত্যের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ফণীশ্বরনাথ রেণুর কাহিনি নিয়ে। ফণীশ্বরনাথ ছিলেন সতীনাথের কারাবাসের বন্ধু। সতীনাথ ভাদুড়ীকে নিয়ে তাঁর 'ভাদুড়ীজি' নামে একটি স্মৃতিকথা আছে।

তাৎমাটুলীর কাহিনি ‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’ বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কয়েকটি উপন্যাসের অন্যতম। দেড় বছর বয়সে ঢোঁড়াইয়ের বাপ মারা গেছে। তার মা আবার বিয়ে করেছে বাবুলালকে। ঢোঁড়াই মানুষ হয়েছে পূজারি বামুন বৌকাবাওয়ার কাছে।

তাৎমাটুলীর মেয়েরা পশ্চিমে ধান কাটতে যায়। রামিয়া-কাণ্ডের শুরু সেখানে। পশ্চিম মানে গঙ্গা কিনারে মুঙ্গের। সেখানে রামিয়াকে দেখতে পায় রবিয়ার বউ। রামিয়ার মা মারা গেছে রবিয়ার বউয়ের সঙ্গে রামিয়া গ্রামে ফেরে। রামিয়ার যৌবনে মুগ্ধ ঢোঁড়াই বিয়ে করে তাকে। ঢোঁড়াইয়ের আশ্রয়দাতা বৌকাবাওয়া নিরুদ্দেশ হয়।

রামিয়ার সাথে সামুয়র ঢলাঢলি ঢোঁড়াই মানতে পারে না। তার মাথা গরম হয়। রামিয়ারকে শাসন করে। সামুয়রকে রামিয়ার ভালো লাগে। ঢোঁড়াইয়ের প্রতি বিরক্ত রামিয়া ঘরে ফেরে না। অথচ ঢোঁড়াই ভাবে রাত কাটিয়ে সে নিশ্চয় ফিরবে। তারপর সে মাফ চাইবে তার কাছে। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে সে উনুনে বসবে ঢোঁড়াইয়ের জন্য ভাত রাঁধতে। না না, আজ সে ছটপরবের ‘ঠেকুয়া’ তৈরি করবে। এই সব
আকাশপাতাল ভাবে ঢোঁড়াই।

রামিয়াকে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। অথচ এক বছর পার না হতেই পরপুরুষের সঙ্গে প্রেমে মশগুল সে! রামিয়ার পেটে ঢোঁড়াইয়েরই সন্তান। সে আর ভাবতে পারে না। সামুয়র যত নষ্টের গোড়া। ঢোঁড়াই সারা রাত জেগে কাটায়।
রামিয়া ফেরে না, গাঁয়ের পঞ্চকে টাকা খাইয়ে হাত করে সামুয়র রামিয়ার সঙ্গে ঢোঁড়াইয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। রামিয়াও রাজি। ঢোঁড়াই গ্রাম ছাড়ে। রামিয়ার বিচ্ছেদ তাকে ঠেলে দেয় উদ্বাস্তু জীবনে।

রামিয়া সামুয়রকে বিয়ে করে। মরা ছেলে জন্ম দিয়ে মারা যায়। ঢোঁড়াই জানে না রামিয়া মারা গেছে। সে আবার স্বপ্ন দেখে অ্যান্টনিকে নিজের ছেলে ভেবে। ১৫ বছর পর অ্যান্টনির হাত ধরে রামিয়ার আশায় তাৎমাটুলীতে এসে দাঁড়ায় ঢোঁড়াই। জানতে পারে অ্যান্টনির মা রামিয়া নয়। বুঝতে পারে অ্যান্টনি তার ছেলে নয়।

ভারতীয় গ্রামীণ জীবনের আঁধি সতীনাথের উপন্যাসের আদি অকৃত্রিম স্পন্দন। ঢোঁড়া সাপ কখনো গোখরোর সঙ্গে পারে! রামিয়া হল গোখরো সাপ। তার দংশনের বিষে নীল হয়ে গেছে ঢোঁড়াইয়ের জীবন।

অনেকে বলেছেন রামায়ণের আদর্শ এই গঙ্গা পাড়ের মানুষের মধ্যে দারুণভাবে প্রভাবশালী। ঢোঁড়াই ‘এ যুগের’ রামচন্দ্র। রামায়ণের আদলে এই কাহিনি লিখেছেন সতীনাথ। কিন্তু ঢোঁড়াই সারা জীবন একটু ভালোবাসার খোঁজে ঘুরে বেড়িয়েছে। সে ভালো বাসা পায়নি।

ভারতীয় সাহিত্যে নিম্নবর্গের অর্থাৎ দলিত মানুষ বোধহয় এমন ভাবে আগে কোনোদিন আসেনি। যদিও বাংলা সাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এর সূচনা হয়েছিল। ‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’-এ সতীনাথ সেই দলিত মানুষের জীবনকে দিয়েছেন মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি। এই অর্থে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'ঢৌঁড়াই চরিত মানস'।

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৪৮ সালে সতীনাথ রাজনীতির সংশ্রব সম্পূর্ণ ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। একটানা ১৭ বছর লিখে গিয়েছেন। ৩০ মার্চ, ১৯৬৫ তিনি প্রয়াত হন।

কলমে : শুভম নন্দ 

Wednesday, April 22, 2020

Suchitra Bhattacharya E-book Collection

Suchitra Bhattacharya




সংক্ষিপ্ত জীবনী

সুচিত্রা ভট্টাচার্য ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি ভারতের বিহারের ভাগলপুরে মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তাঁর পিত্রালয় ছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরশহরে, তবে কলকাতা শহরে তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে। তিনি কলকাতা শহরের যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক হন।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভের সময় তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। বিভিন্ন স্থানে চাকরি করার পর তিনি সরকারী চাকরিতে যোগদান করেন। লেখিকা হিসেবে সম্পূ্র্ণ রূপে সময় দেওয়ার জন্য তিনি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৫ সালের ১২ই মে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের জীবনাবসান হয়।
রচনা
তিনি বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষের দিকে ছোট গল্প ও আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে উপন্যাস রচনায় মনোনিবেশ করেন। সমকালীন সামাজিক ঘটনাগুলির ওপর ভিত্তি করে তাঁর কাহিনীগুলি রচিত হয়। শহুরে মধ্যবিত্তদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, বর্তমান যুগের পরিবর্তনশীল নীতিবোধ, বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে নৈতিক অবক্ষয়, নারীদের দুঃখ-যন্ত্রণা তাঁর রচনাগুলির মূল উপজীব্য ছিল। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি বহু ছোট গল্প ছাড়াও চব্বিশটি উপন্যাস রচনা করেছেন। দহন নামক তাঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল-

  1. কাছের মানুষ
  2. দহন
  3. কাঁচের দেওয়াল
  4. হেমন্তের পাখি
  5. নীল ঘূর্ণি
  6. অলীক সুখ
  7. গভীর অসুখ
  8. উড়ো মেঘ
  9. ছেঁড়া তার
  10. আলোছায়া
  11. অন্য বসন্ত
  12. পরবাস
  13. পালাবার পথ নেই
  14. আমি রাইকিশোরী
  15. রঙিন পৃথিবী
  16. জলছবি
  17. যখন যুদ্ধ
  18. ভাঙ্গন কাল
  19. আয়নামহল
পুরস্কার

নঞ্জাগুডু থিরুমালাম্বা জাতীয় পুরস্কার, ব্যাঙ্গালোর (১৯৯৬)
কথা পুরস্কার (১৯৯৭)
তারাশংকর পুরস্কার (২০০০)
দ্বিজেন্দ্রলাল পুরস্কার (২০০১)
শরৎ পুরস্কার (২০০২)
ভুবনমোহিনী মেডেল (২০০৪)
ভারত নির্মাণ পুরস্কার (২০০৪)
সাহিত্য সেতু পুরস্কার (২০০৪)
শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার (২০০৪)

 
*** প্রেম অপ্রেম -সুচিত্রা ভট্টাচার্য  
 
***এখন হৃদয়-সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
***পরবাস -সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
***আয়না মহল -সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
***অদ্ভুত আধার এক -সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
***শূন্য থেকে শূন্য -সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
 
 
 
 
***কাছের মানুষ-সুচিত্রা ভট্টাচার্য 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
***তিন মিতিন  
 
***হাতে মাত্র তিনটি দিন  
 
***সর্প রহস্য সুন্দরবনে  

***টিকরপাড়ার ঘড়িয়াল 
 
***মার্কুইস স্ট্রীটে মৃত্যুফাঁদ  
 
***ভাঙনকাল  

Tuesday, April 21, 2020

**পালঘর মব লিঞ্চিং ও ইসলাম বিদ্বেষ**

palghar,Moblynching


গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার কাসা তালুকের অন্তর্গত গড়চিঞ্চালে গ্রামে দুজন সাধু ও তাদের গাড়ির চালককে মব লিঞ্চিং করে খুন করা হয়৷

#ঘটনা_কি_ছিল?

দুজন সাধু,যথাক্রমে কলপভরুক্ষ গিরি(৭০) ও সুশীলগিরি মহারাজ(৩৫) তাদের আশ্রমের নিকট কান্দিভালি থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়ির চালক ছিলেন নীলেশ ইয়েলগারে(৩০)।তারা একটি শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সুরাটের দিকে রওনা হয়েছিলেন। মেইন রাস্তায় লকডাউনের কারণে ধরপাকড় চলছিল, তাই সেই সমস্যা এড়াতে তারা গ্রামের পথ নেয়৷ গড়চিঞ্চালে গ্রামে গাড়ি ঢুকতেই তাদের গাড়ি থামানো হয়৷গাড়ি থেকে বের করে ২০০ জনের মব উন্মত্তের মতো লাঠি, পাথর, বাঁশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই তিনজনের ওপর।

পুলিশ খবর পেয়ে এলেও পুলিশের সামনেই গণপিটুনি চলতে থাকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় কলপভরুক্ষ গিরি উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের হাত জড়িয়ে বাঁচার প্রার্থনা করে চলেছেন৷ কিন্তু দু চারজন পুলিশ ওই ২০০ জনের সামনে নিরুপায় নিরব দর্শক হয়ে থাকল, আবার ওই সাধুকে তাড়া করে মারতে মারতে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিল জনতা৷ অবশ্য এর কিছুক্ষণ পরে পালঘর জেলা পুলিশ বিরাট বাহিনী নিয়ে এসে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে ও শূণ্যে গুলি চালায়। যদিও ওই তিনজনকে বাঁচানো যায়নি৷ তবে গ্রাম থেকে ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দোষীদের ধরার বিষয়ে তারা তৎপর।

#কারা_মারল_কেন_মারল_ওই_দুই_সাধু_ও_তাদের_গাড়ির_চালককে_?

গত বেশ কিছুদিন ধরেই কাসা তালুকের বিভিন্ন গ্রামে উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে বিভিন্নভাবে বাইরের থেকে চোর এসে গাছের ফলমূল, বাড়ির বাচ্চা চুরি করতে পারে।একেই লকডাউনের ফলে গ্রামের খাবারের সঙ্কট তারপর এই উড়ো খবর এসে পড়ায় গ্রামের মানুষ কিছুটা তেতেই ছিল। সেইজন্য শুধু গত সপ্তাহেই তিনটে গণপিটুনির খবর পাওয়া গেছে। সাধুদের মেরে ফেলার ঘটনাটি তৃতীয়।
তা, এই সাধুরা বৃহস্পতিবার গাড়ি নিয়ে ওই গ্রামে পৌঁছালে তাদের চোরসন্দেহ করা হয় ও সেই সন্দেহের বশেই তাদের মেরে ফেলা হয়।

#গ্রামবাসীদের_ধর্মীয়_ও_জাতিগত_পরিচয়_কি?

২০১১ সালের জনবিন্যাস অনুসারে গড়চিঞ্চালে গ্রামে মোট ২৪৮টি পরিবারের বসবাস। মোট জনসংখ্যা ১২৯৮ জন। এই জনসংখ্যার ৯৩% আদিবাসী। পুরো গ্রামের স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৩০%। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই দিনমজুর ও শ্রমিক। ধর্মীয়ভাবে সংখ্যাধিক্য মানুষ খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত।

#মৃত_সাধুদের_ধর্মীয়_ও_জাতিগত_পরিচয়_কি?

তারা কান্দিভালি এলাকার একটি আশ্রমে থাকতেন। দুজন সাধুই যাযাবর গোষ্ঠী গোসাভি সম্প্রদায়ের মানুষ।ঐতিহাসিক কারণে মহারাষ্ট্রে যাযাবর গোষ্ঠীরা তফশিলি জাতির আওতায় পড়ে কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে তফশিলি উপজাতির আওতায় পড়ে।

এই দুই সাধু বারাণসীর সনাতনী সংগঠন "জুনা আখড়া" সদস্য সুতরাং বলা চলে তারা সনাতনী অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

#ভারতে_ঘটে_যাওয়া_বিভিন্ন_মব_লিঞ্চিং_এর_সাথে_এই_ঘটনার_ফারাক_কোথায়?

মব লিঞ্চিং সংস্কৃতি দেশে আমদানি করে বিজেপি। ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের গত কয়েকবছরে বহুবার লিঞ্চ করে মেরে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে মেরে ফেলার আগে বলিষ্ঠ কন্ঠে হিন্দুত্ববাদের জয়ধ্বনী দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকবার মৃতপ্রায় মুসলিম লোকজনদের দিয়েও "জয় শ্রী রাম" ধ্বনি দেওয়া হয়েছে জোরজবরদস্তি।
এই ঘটনার কোনো ধর্মীয় ও জাতিগত দৃষ্টিকোণ নেই। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও কোথাও কোনো ধর্মীয় শ্লোগান শোনা যায় নি, ফলত বাকি ঘটে যাওয়া মব লিঞ্চিং এর কারণের সাথে এর কারণের ফারাক রয়েছে।

#আরএসএস_চালিত_মিডিয়া_ও_আইটি_সেল_ফেসবুক_টুইটার_ও_হোয়াটসঅ্যাপ_কি_প্রচার_চালাচ্ছে?

গতকাল থেকে টুইটারসহ ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে এই মব লিঞ্চিং এর ঘটনাকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা সংঘটিত বলে ছড়িয়ে দেওয়া চলছে৷ কোথাও কোথাও 'শান্তিবাহিনী' আবার কোথাও কোথাও 'জেহাদি' ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করা হচ্ছে৷ পুলিশও যেখানে গ্রেপ্তার করেছে আদিবাসীদের সেখানে মুসলমানদের নাম না থাকাটা হয়ত তাদের পেটের ভাত হজম করতে বাঁধা দেবে৷ তাই একটি সর্বৈব মিথ্যাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিশ্বাস করানো ও মানুষের মনে আরো ইসলামোফোবিয়ার বিষ ঢোকানোই তাদের লকডাউনের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ আবার ভিডিওর মধ্যে 'মার ইসকো শোয়েব', কেউ কেউ আবার 'মার ইসকো সোহেল' শুনতে পাচ্ছেন৷ আমি বার দশেক ভিডিওটি শুনতে বাধ্য হলাম এবং কোথাওই শোয়েব বা সোহেলের নাম উচ্চারিত হতে শুনলাম না৷ শুনলাম উন্মত্ত জনতার চিৎকার।

#বিজেপিসহ_হিন্দুত্ববাদীদের_জন্য_বার্তা_কি_থাকবে?

যারা পশ্চিমবঙ্গে মব লিঞ্চিং বিরোধী বিলের পক্ষে ভোট দেয়না তারা এখন মব লিঞ্চিং এর বিরোধীতায় নেমেছে৷ বিজেপির দ্বিচারিতা আজ প্রকাশিত৷ মুসলমানদের মেরে কেটে ফেললে বিজেপির ছিঁটেফোঁটা সমস্যা ছিল না, কিন্তু আজ যখন আদিবাসীরা হিন্দু সাধুদের মব লিঞ্চিং করছে তখন ভারতে মব লিঞ্চিং এর জন্মদাতারাই এর বিরোধীতা করছে। এই সংস্কৃতি স্বাভাবিক তৈরী করে ফেলেছে এই গেরুয়া বাহিনীই৷ তাদের দেখানো পথেই হেঁটেই অপরাধের শিকার হচ্ছে মানুষরা৷ এই আপামর ভারতের জনগণকে বিপথে চালিত করার দায় বিজেপি নেবে না?
উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপরে দোষারোপ করা বন্ধ করুক বিজেপি। লকডাউনের সময়ে মানুষকে খেপিয়ে তোলা বন্ধ হোক। সরকার এই অপপ্রচারকাীদের গ্রেপ্তার করুক।

#ফেসবুকে_এই_হিংসামূলক_পোস্ট_ঠেকাতে_কি_করা_যায়_আপাতত?

মিথ্যা অপপ্রচার দেখামাত্রই পোস্টগুলি রিপোর্ট করতে হবে, কলকাতা পুলিশের পেজে দিতে হবে, তাছাড়া সিআইডি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে দ্রুত৷ তাদের মেইল এড্রেসে মেইল করা যেতে পারে।(কমেন্ট বক্সে দেওয়া থাকবে)

#অনুরোধ_রইল

দেশে ঘটে যাওয়া আরো একটি মব লিঞ্চিং এর ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। আরো অনভিপ্রেত যখন গুজবের শিকার হয়ে দুজন নির্দোষ সাধুকে প্রাণ দিতে হয়। এই মৃত্যুর বিরোধিতা হোক,মব লিঞ্চিং এর বিরোধিতা হোক, কিন্তু অনুরোধ রইল ঘটনাটি না জেনে, না খোঁজখবর নিয়ে শুধুমাত্র ভিডিও দেখে রক্ত গরম করে পোস্ট দিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন কিংবা কোনো পোস্টে মুসলিম বিদ্বেষী কথাবার্তা থাকলে সেগুলো যাচাই করুন,পোস্টদাতাকে প্রশ্ন করুন।অসতর্কতার শিকার হয়ে ইসলামোফোবিকদের ফাঁদে পড়বেন না। সাধুদের বা গেরুয়াবসন পরিহিত মানুষদের মারছে, সুতরাং তারা মুসলমান ছাড়া আর কেউ না, এই বোকা বোকা সরলীকরণে যাবেন না। এই কঠিন সময়ে যারা ভুলবার্তা দিয়ে আমাদের বিভক্ত করতে চায় তারা নরাধম, তাদের বয়কট করুন।

Please visit our website :
www.pendrive.online

(তথ্যসংগ্রহ- বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও উইকিপিডিয়া)
লেখা: আকাশ দা
*পালঘর মব লিঞ্চিং নিয়ে কোনো ইসলাম বিদ্বেষী পোস্ট,কোনো ভুয়ো তথ্য দেওয়া পোস্ট দেখলে নীচের ইমেই এড্রেসে পোস্টের লিঙ্ক, প্রোফাইলের লিঙ্ক ও পোস্টের স্ক্রিনশটসহ নিজের নাম,ঠিকানা দিয়ে মেইল করুন*

*মেল আইডি - occomp.cid-wb@gov.in*

ছবি: টুইটার

Wednesday, April 1, 2020

Dekha Hbe (দেখা হবে) || কবি - Sunil Gangopadhay


Dekha Hobe ( দেখা হবে )

ভ্রূ-পল্লবে ডাক দিলে, দেখা হবে চন্দনের বনে-
সগন্ধের সঙ্গে পাবো, দ্বিপ্রহরে বিজন ছায়ায়
আহা, কি শীতল স্পর্শ হৃদয়-ললাটে, আহা, চন্দন চন্দন
দৃষ্টিতে কি শান্তি দিলে, চন্দন, চন্দন
আমি বসে থাকবো দীর্ঘ নিরালায়

প্রথম যৌবনে আমি অনেক ঘুরেছি অন্ধ, শিমূলে জরুলে
লক্ষ লক্ষ মহাদ্রুম, শিরা-উপশিরা নিয়ে জীবনের কত বিজ্ঞাপন
তবুও জীবন জ্বলে, সমস্ত অরণ্য-দেশ জ্বলে ওঠে অশোক আাগুনে
আমি চলে যাই দূরে, হরিণের ক্রস্ত পায়ে, বনে বনান্তরে,অন্বেষণ।

ভ্রু-পল্লবে ডাক দিলে ….এতকাল ডাকো নি আমায়
কাঙালের মতো আমি এত একা, তোমায় কি মায়া হয়নি
শোনো নি আমার দীর্ঘশ্বাস?
হৃদয় উন্মুক্ত ছিল, তবুও হৃদয় ভরা এমন প্রবাস!

আমার দুঃখের দিনে বৃষ্টি এলো, তাই আমি আগুন জ্বেলেছি,
সে কি ভুল!
শুনিনি তোমার ডাক, তাই মেঘমন্দ্র স্বরে গর্জন করেছি, সে কি ভুল?
আমার অনেক ভুল, অরন্যের একাকীত্ব অসি’রতা ভ্রাম্যমান ভুল!
এক মুহুর্তেই
সর্ব অঙ্গে শিহরণ, ক্ষণিক ললাট ছুঁয়ে উপহার দাও সেই
অলৌকিক ক্ষণ
তুমি কি অমূল-তরু, স্নিগ্ধজ্যোতি, চন্দন, চন্দন,
দৃষ্টিতে কি শান্তি দিলে চন্দন, চন্দন
আমার কুঠার দূরে ফেলে দেব, চলো যাই গভীর গভীরতম বনে।


কবি - Sunil Gangopadhay
কন্ঠ : এরেনা
#Bangla_kobita

Bonolota Sen ( বনলতা সেন ) || Jibanananda Das





Bonolota Sen ( বনলতা সেন )


হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের 'পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতোদিন কোথায় ছিলেন?'
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে—সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

- Jibanananda Das
#bangla_kobita

Ami Ekta Tui Chai Poem Lyrics (আমি একটা তুই চাই) || Bangla Kobita


Ami Ekta Tui Chai Poem Lyrics

 (আমি একটা তুই চাই) 


আমি একটা 'তুই' চাই...
একটা সত্যিকারের 'তুই' চাই।

যে জানবে আমার পুরো ভিতরটা...
জানবে আমার লুকানো সব দোষ...
আমার বদমাইশি, আমার নোংরামি...
আমার কলঙ্ক...
যে নিজে থেকে আমার ভুলগুলোর
অংশীদার হবে...

আমার পাপগুলোকে অর্ধেক
করে লিখে নেবে নিজের খাতার
প্রথম পাতায়...

আমি এমন একটি 'তুই' চাই...
যাকে আমি নির্দ্বিধায় উপহার দেব
আমার সব অনিয়ম...
আমার অপারগতা... আমার বদভ্যাস...
আমার উশৃঙ্খলতা...

আমি পিঠ চাপড়ে তার
কাঁধে তুলে দেব আমার
অসহায়ত্বের ঝুলি...

আমার একাকীত্ব, আমার
নিঃসঙ্গতার কষ্ট, আমার
দুশ্চিন্তা, আমার হতাশা...

সবগুলো ঝাড়ুদারের
মতো কুড়িয়ে নিয়ে সে বাধবে মস্ত
বড় এক বস্তা...

তারপর কুলির মতো মাথায়
করে বয়ে নিয়ে যাবে সেইসব
অভিশাপ...
আর হাসতে হাসতে বলবে--
"ভীষণ ভারী রে... কি করে এতদিন
বইলি এই বোঝা??"

তারপর
ঠিকানা ছাড়া পথে হাটতে থাকবে অসীম
সমুদ্র পর্যন্ত...

সাগর পাড়ে এসে প্রচন্ড
শক্তিতে ছুড়ে ফেলে দেবে সেই
বোঝা...

ঠিক সাগরের
মাঝখানে হারিয়ে যাবে আমার সব
অভিশাপের ঝুলি...

আমি ঠিক এরকম একটা 'তুই' চাই...
যে কোনদিন "তুমি" বা "আপনি"গুলোর
মাঝে হারিয়ে যাবে না...

#Bangla Kobita