Monday, July 23, 2018

Ragging

অনিন্দ্য আর তার বন্ধুরা মিলে জুনিয়ার ছাত্রদের র্rগিইটা ভালই করে কিন্তু আজ যে এভাবে ফেঁসে যাবে সেটা সে নিজেও ভাবতে পারে নি।ছেলেটার নাম রাহুল।নতুন ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।যথারীতি অনিন্দ্য আর তার বন্ধুরা মিলে ওকে র্যাগিং করতে গেল।ওকে হোস্টেলের নেড়া ছাদে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে একটা চাকা লাগানো চেয়ারেদাঁড় করিয়ে তারপর পুরো ছাদে ঘুড়িয়ে নিয়ে এসে বলল,"এবার তুই চেয়ার থেকে নিচে লাফ দে।"...ওরা চেয়ারটাকে ছাদের মাঝখানেই নিয়ে এসেছিল কিন্তু চোখ বাঁধা অবস্থায় রাহুল ভাবল বোধহয় ওরা চেয়ারটাকে ছাদের ধারে নিয়ে এসেছে তাই ও লাফ দিলেই পাঁচতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাবে।এই ভেবেই দূর্বল চিত্তের রাহুল হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেল।রাহুলের মৃত্যুতে অনিন্দ্য আর ওর বন্ধুরা বেশ ভয় পেয়ে গেল।যাই হোককরে কোনরকমে লুকিয়ে হোস্টেলের পাশের জঙ্গলে ওরা রাহুলের বডি পুঁতে দিয়ে আসল আর হোস্টেলের বাকী সবাইকে শাসিয়ে দিল যাতে কেউ তাদের মুখ না খোলে।দুদিন পর রাহুলের বাবা অমিতবাবু এসে কলেজে প্রিন্সিপালের কাছে রাহুলের খোঁজ করলেন আর খোঁজ না পাওয়ার পর তিনি প্রিন্সিপালকে বললেন যে তিনি পুলিশে খবর দিতে যাচ্ছেন।এই বলে তিনি কলেজ থেকে বেরিয়ে গেলেন।এদিকে প্রিন্সিপালও এবার হোস্টেলে এসে জিজ্ঞাসাবাদশুরু করলেন। সকল ছাত্রদের দাঁড় করিয়ে জেরা করা শুরু হল। কিন্তু জানা সত্বেও কেউ উত্তর দিল না।যাই হোক প্রিন্সিপালও জিজ্ঞাসাবাদ করেই চলেছেন এমন সময় রাহুলের বাবা আবার ফিরে আসলেন আর অদ্ভুতভাবে সাথে রাহুলও ছিল।রাহুলের বাবা অমিতবাবু হাসতে হাসতে বললেন,"সরি আমি মিথ্যা আপনাদের সন্দেহ করছিলাম।রাহুল তো পাশের জঙ্গলে একা একা ঘুড়ছিল।যাক গে আমি কদিনের জন্য ওকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।"....অমিতবাবু তো রাহুলকে সাথে নিয়ে চলে গেলেন কিন্তু অনিন্দ্যর মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকল।ওর স্পষ্ট মনে আছে যে রাহুলের দেহটা ও জঙ্গলে পুঁতে দিয়ে এসেছিল।তাহলে রাহুল বেঁচে উঠল কি ভাবে??...এই চিন্তা মাথায় নিয়েই সেদিন মাঝরাতে জঙ্গলের দিকে রওনা দিল অনিন্দ্য।ও ওর বন্ধুদের সাথে নিতে চেয়েছিল কিন্তু কেউ যেতে রাজি হয় নি।ওর হাতে শুধু একটা টর্চ ছিল।যে জায়গায় ও লাসটা পুঁতেছিল সেই জায়গাটা খুঁজে বের করে অনিন্দ্য গর্তটা আবার খুঁড়তে লাগল।উদ্দেশ্য লাসটা ভিতরে আছে কিনা তা জানা।এমন সময় হঠাৎ পিছন থেকে কেউ ডাকল,"কি অনিন্দ্যদা এখানে কি করছ?"...ও চমকে পিছনে তাকিয়েদেখল যে রাহুল আর রাহুলের বাবা দাঁড়িয়ে রয়েছেন।দুজনের মুখেই মিষ্টি মধুর হাসি।....পরদিন সকাল থেকে কিছুতেই অনিন্দ্যর খোঁজ না পাওয়ায় শেষে ওর বাবা-মা এসে পুলিশে খবর দিলেন।অবশেষে পুলিশ জঙ্গলে অনিন্দ্যর লাস আবিষ্কার করল।ঘাড়টা কে বা কারা যেন মটকে দিয়েছে।এদিকে বেশ কিছুদিন পর রাহুলের মামা কলেজে এসে রাহুলের খোঁজ করলেন।তখন প্রিন্সিপাল বললেন যে,"রাহুলকে তো ওর বাবা নিয়ে গেছে"..।এই শুনে রাহুলের মামা বললেন,"কি যা তা বলছেন।রাহুলের বাবা মা বহু বছর আগেই গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছেন।ও তো আমার কাছে মানুষ হয়েছে।খাতায় দেখুন গার্জিয়ান হিসেবে আমার নাম রয়েছে।"...এই কথা শুনে কলেজের প্রিন্সিপাল হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
#নালন্দা_চক্রবর্তী

0 comments: