Sunday, August 26, 2018

Movie Review :উমা

উমা প্রসঙ্গ

Movie Review :উমা 



[আমার মধ্যমেধা নিয়ে ভয়ংকর জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ আমি করতে চাই নি ! প্রশংসা করেও আমার নিজের কোনো লাভ নেই ,নিন্দা করেও ! খিল্লি করতে চাইলে রম্যরচনায় হাত একটু মকশো হ'ত হয়ত কিন্তু আমি নিজের মতো করে একটু ভাববার চেষ্টা করি !]

দ্বিমাত্রিক অবয়বে যিনি সঞ্জীবনী ছোঁয়াতেন সেই ওয়াল্ট ডিজনির জীবনের ঘটনা...!
শিল্পের স্বার্থে একটা ব্যাপারে তিনি ছিলেন চরম একগুঁয়ে ! কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাইরের কাউকে কিছুতেই তা দেখতে দিতেন না ! সে তিনি যত বড় হোমরাচোমরা হোন না কেন !
দায়ে পড়ে আগে একবার তিনি নিয়ম ভেঙেছিলেন ! একটা চিঠি আবার তাঁকে নিয়ম ভাঙতে বাধ্য করল !
সালটা ১৯৫৫। তখন তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন ' ডিজনিল্যান্ড' নিয়ে । ' ডিজনিল্যান্ড' এর উদ্বোধন হওয়ার কথা ১৭ ই জুলাইতে ! দুই মার্কিন সেনেটার, একজন অ্যাম্বাস্যাডর আর এক বিদেশী রাজা অসমাপ্ত ' ডিজনিল্যান্ড' দেখতে চেয়ে ডিজনিকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখেছিলেন। বলাই বাহুল্য যে ডিজনি সবাইকেই ভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ! বলেছিলেন যে অসমাপ্ত শিল্পকর্ম দেখানো নীতিবিরুদ্ধ। তাঁরা যখন উদ্বোধনের পরে আসবেন ,তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তাঁদের সব ঘুরিয়ে দেখাবেন।

এপ্রিল মাসেই তাঁর জেদ ভেঙে খানখান হয়ে গেল ! এক জরুরি মিটিং ডেকে  তিনি বিভাগীয় কর্মীদের বললেন যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি তাঁর
 নীতি লঙ্ঘন করতে চলেছেন। এক অতিথি সেদিন আসবেন! আগামী শনিবার সবাইকে তিনি যতদূর সম্ভব সব গুছিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন যাতে সেই 'ভি.আই.পি' গেস্ট খুশি হন ।

সবকিছুর পেছনেই ছিল একটা চিঠি। বব নামের এক এগারো বছরের বাচ্চা তাতে লিখেছিল ,' আঙ্কল ডিজনি, আমি একজন মিকি-ফ্যান। তোমার সব ছবিই আমি থিয়েটারে কিংবা টেলিভিশনে দেখেছি। এখন আমি অসুস্থ বলে স্কুলে যাই না। জুলাই মাসে ' ডিজনিল্যান্ড' উদ্বোধনের দিন আমি উপস্থিত থাকতে চাই। সেদিনের টিকিট এখানে বসে কিভাবে কাটতে হবে আমায় জানিও । মা কথা দিয়েছে আমায় নিয়ে যাবে । ইতি তোমার ছোট্ট বন্ধু বব।'
কিন্তু এরও পেছনে ছিল ববের মায়ের ছোট্ট কয়েক আঁচড় - ' ডিয়ার মি. ডিজনি, ববের ইচ্ছায় এই চিঠি পাঠানো। ওর বাবা নেই,ও আমার একমাত্র সন্তান। আপনি ব্যস্ত না হয়ে ওর নামে শুধু একটা আমন্ত্রণলিপি পাঠিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি, তাকে নিয়ে যাব না। কারণ তিনমাস পরে তাঁর পক্ষে আর নড়াচড়া করা সম্ভব হবে না। ডাক্তাররা সেরকমই বলেছেন ! এখনও ও সুস্থ। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই... বলা হয়নি বব লিউকোমিয়া মানে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছে। ইতি, ববের অসহায় মা।'

পত্রপাঠ ডিজনি ভদ্রমহিলাকে লং-ডিস্টেন্স টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানালেন।
বব আর তার মা লস অ্যাঞ্জেলস এয়ারপোর্ট এ এসে দেখলেন স্ত্রী আর কন্যাসমেত স্বয়ং ডিজনি তাঁদের রিসিভ করতে এসেছেন!
ডিজনিল্যান্ডের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি এসে পৌঁছাতেই ব্যান্ডপার্টির বেজে উঠল!
আর. কোলিয়ারের লেখা থেকে জানা যায় ডিজনির সঙ্গে ইঞ্জিনে বসে ডিজনিল্যান্ডের রেলরোড ধরে সেদিন বব নিজেই চালিয়েছিল রেলগাড়িটা!
দু ঘন্টা ধরে ট্রেন চলেছিল সেদিন!  এগিয়ে পিছিয়ে।  দিগন্তরেখার কাছে গিয়ে ডিজনি বাঁ হাতে ববকে বুকে টেনে নিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দিগন্তের দিকে।
ববকে তিনি আর কোথায় কী তৈরি হওয়া বাকি আছে বুঝিয়ে বলছিলেন!
রামধনু গুহা, টম সয়্যার দ্বীপ, ভূতের বাড়ি দুজনে ভাগাভাগি করে উপভোগ করলেন!
দূর থেকে ভেসে আসছিল গ্র‍্যান্ড ব্যান্ড মাস্টার বাষট্টি বছরের বৃদ্ধ কর্নেল ওয়াকারের 'পিনোক্কিও' ছবিতে বাজানো সেই অমর তালপাতার ভেঁপুর তান -
'when you wish upon a star/ Makes no difference who you are /Anything your heart desires /Will come to you'

এর একটা অসাধারণ অনুবাদ করেছিলেন নারায়ণ সান্যাল!  ইংরিজিটাকেও মনে হয় সেটা ছাপিয়ে যায়-
'' তারার পানে চাইবি যখন, চাইবি রে তোর প্রাণ খুলে/ 'তুই কে? ' সেটা তুচ্ছ তখন, যাসনে যেন গান ভুলে। / তারার কাছে হাত পেতেছে যে,/ সে পৌঁছে গেছে 'সব-পেয়েছির' র দেশে।।''

 মা- সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে অনেক ছবি আমরা দেখেছি!
বাবা - সন্তানের সম্পর্ক নিয়েও অনেক ছবি হয়েছে..
' দ্য নিক অব টাইম ', ' দ্য পারসু অব হ্যাপীনেজ '.. বাংলায় ' শাখাপ্রশাখা ', হালের ' চ্যাপলিন ', ' ময়ূরাক্ষী' ও তার মধ্যে পড়ে!

বাস্তবের এক মা-ছেলের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে Srijit Mukherji তাঁর 'উমা' ছবিটি বানিয়েছেন এক বাবা- মেয়ের গল্প নিয়ে!

পুরাণের অনুষঙ্গ রয়েছে এখানে। আগমনী-বিজয়া পর্যায়ের শাক্ত পদ রচনাকারেদের লেখায় কিংবা দুর্গা - আখ্যানে মা মেনকা আর উমার কথা বেশি পাওয়া গেলেও বাবা গিরিরাজ অর্থাৎ হিমালয়ের কথাও কিছু আসে!
কমলাকান্তের পদে পাই 'কবে যাবে বল গিরিরাজ,
গৌরীরে আনিতে।
ব্যাকুল হইয়েছে প্রাণ
উমারে দেখিতে হে।
কবে যাবে বল গিরিরাজ।

গৌরী দিয়ে দিগম্বরে,
আনন্দে রয়েছো ঘরে।।
কি আছে তব অন্তরে,
না পারি বুঝিতে।
কবে যাবে বল গিরিরাজ।'

গিরিরাজ এখানে পাষাণ, নিশ্চল। নিজের কাজে প্রচণ্ড ব্যস্ত! কিন্তু তাঁর ও মন ব্যাকুল হয়!

ছবিতে সুইজারল্যান্ডবাসী উমার বাবা হিমাদ্রি স্বল্পায়ু মেয়ের আয়ু কমে আসছে জানতে পেরে তাঁর উইশ লিস্ট পূরণ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন!
হিমালয় দুর্গা র বাহন করে দিয়েছিলেন একটা সিংহকে। এখানে হিমাদ্রী বা হিমু নিজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সিংহ বিক্রমে!
উমা কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে চেয়েছে!  কিন্তু তখন সময় না, সময় আসার আগেই সে মারা যাবে!
তখন কলকাতা জুড়ে নকল এক দুর্গাপুজো তৈরি করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন!  সাহায্য চান টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির!
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, সূর্য, বরুণ এঁরা দুর্গাকে পরিপূর্ণ হ'তে সাহায্য করেছিলেন,
এখানেও সেই কাজে এগিয়ে আসেন ব্রহ্মানন্দ, গোবিন্দ,মহেশ, অর্ক এঁরা!

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভরা গরমে কলকাতা জুড়ে নকল এক দুর্গাপুজো বানিয়ে ফেলেন এঁরা!

 মনোজকুমার কিছুদিন আগে ' কাহানি মেঁ কাহানি' নামে একটা ছবি তৈরি করবেন ভেবেছিলেন।  এই ছবিতেও সেই কাহিনি মধ্যে কাহিনি রয়ে গেছে। অদ্ভুত ভাবে অঞ্জন দত্ত, বাবুল সুপ্রিয় এদের সবারই একটা কাহিনি আছে!  বিশেষ করে বাবুলের কাহিনিটা একেবারেই খাপ খায় না!

 বিস্তৃত আলোচনায় লেখার কলেবর না বাড়িয়ে কতগুলো পয়েন্ট বরং তুলে ধরি-

১. জনি ডেপ এর ' পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান ' সিরিজ আর ' দ্য লোন রেঞ্জার ছবিটা পরপর দেখেছেন?
লোন রেঞ্জার এ বলাই আছে 'পাইরেট' এর টীম নিয়েই সে ছবি তৈরি!  অতএব লোন রেঞ্জার পাইরেট এর টীমের ম্যানারিজমকে ইচ্ছে করে ধরে রেখেই তৈরি করা!
লোন রেঞ্জার আলাদা একটা ছবি কিন্তু, সেটা দেখতে দেখতে পাইরেটের কথাই আপনার মনে পড়বে!  টীমের উদ্দেশ্য সেটাই!  পুরনো চমকদার ছবির মতো করেই নতুন ছবি বানানো!একই টিম নিয়ে!
বোঝাতে পারলাম কি?
সৃজিত কি এটাই ভাবেন নাকি বারেবারে তাঁর প্রিয় একই চরিত্রগুলোকে নানান খোলস পরিয়ে ইচ্ছে করেই পাঠান?
অঞ্জন দত্তের ব্রহ্মানন্দ, ' চতুষ্কোণ এর দীপ্ত,' বাইশে শ্রাবণ' এর প্রবীর, কিছুটা জাতিস্মরের কুশল হাজরা - এরা একই ধরণের চরিত্র! জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া!  কেউ বাবা হিসেবে ব্যর্থ! সংসারে ঠিক স্যুট করে না! প্রায় মানববোমা একেকজন!
এখানকার বাবুল সুপ্রিয়র চরিত্রও মিলে যায় ' রাজকাহিনী' র যিশুর সঙ্গে!
সৃজিতের স্টাইল একই শট নানাভাবে নির্মাণ করা!প্রধান চরিত্রকে স্থির রেখে তাকে চলমানতার মধ্যে ফেলা!
 'মিশর রহস্য' তে স্থির কাকাবাবুর চারদিকে ছুটন্ত পুলিশ, 'ইয়েতি'তে প্রায় স্থির কাকাবাবুর চারদিকে ছুটন্ত লামা, ' নির্বাক ' এর প্ল্যাকার্ড নিয়ে দৌড়ের দৃশ্য কিংবা মার্শাল আর্টিস্ট দের দৌড়  মিলে যায়!
একইভাবে মিলে যায় ' বাইশে শ্রাবণ' এর প্রসেনজিৎ আর 'নির্বাক ' এর সুস্মিতা সেন এর রাস্তায় টেবিল পেতে বসার কল্পনা- দৃশ্য!
' জাতিস্মর' এ কুশল হাজরার হাতে আক্রান্ত যিশু আর 'উমা' তে নন্দবাবুর হাতে আক্রান্ত যিশুর সিন ও মিলে যায়!

২. পুরাণে মেনকা এক সঙ্গী-তে আবদ্ধ নন! এখানেও কি তাই সেটা ইচ্ছে করে দেখানো হয়েছে?

৩. মাত্র তিনদিনে গোটা দশেক অত বড় বড় থিমপুজো বানানো কি আদৌ সম্ভব?  ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে সামান্য  কাপড়ে রঙ ধরানোটাই বেশ সমস্যার!
অনেক সময় পুজো- কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্যান্ডেল সংরক্ষণ করে রাখেন... সেগুলোই কি লাগানো হ'ল? সেটাই যদি হয় তবে সেটা উল্লেখ করা হ'ল না
 কেন?

৪.ছবির শেষে প্রসেনজিৎ, দেব এঁদের ক্যামিও এবং লোক ভরে যাওয়া নিয়ে অনেক কথা উঠলেও এই ব্যাপারটা আমার অন্তত অযৌক্তিক লাগেনি!  কারণ সুপারস্টারেরা আর তাঁদের ফ্যান ক্লাবের মেম্বাররা এলে ক্রাউড হওয়া সম্ভব!

কিন্তু ঐটুকু সময়ের মধ্যে কাজটা মোটেই সহজ নয়!

 গল্প এখানে অত্যন্ত একরৈখিক!  অনেক আগের থেকেই সবার জানা!  কিন্তু কিভাবে ব্ল্যাঙ্ক জায়গা ভরতে ভরতে ভরতে ক্লাইম্যাক্সে এগিয়ে যাবে সেটা নিয়েই চিন্তা ছিল!  সেই কাজটা করে দিয়েছেন অঞ্জন দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য আর রুদ্রনীল ঘোষ!
অনবদ্য অভিনয় করে এঁরাই পুরো ছবি টেনে দিয়েছেন! বিশেষত অঞ্জন রাক্ষুসে অভিনয় করেছেন! যে সামনে এসেছে স্রেফ খেয়ে ফেলেছেন তাকে! মিনিট চারেকের একটা দৃশ্যে বোমা ফেলে গেছেন মনোজ মিত্র!
অনির্বাণ এর মহীতোষ সুর ( মহিষাসুর)  খানিক ' প্রতিদান' ছবির নাসিরুদ্দিন 'বংশী ' শাহকে মনে করিয়ে দেয় - ' ডাকাতি আজ দিলাম আমি ছেড়ে।'
কিন্তু তাঁর ক্ষমতা স্রেফ থানা, উকিল লাগানো  আর গুন্ডা ভাড়া করা অবধিই!
স্রেফ অভিনয়ের জোরেই সৃজিতের অন্য ছবিগুলোর থেকে 'উমা' আলাদা হয়ে থাকবে!  ছবি, গল্প সব সব ছুটন্ত  কামানের মতো পিছিয়ে গেছে, গোলার মতো এগিয়ে গেছে অভিনয়!

ছবি হিসেবে এ ছবি কখনোই সৃজিতের সেরা নয়! কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় কাহিনিতে অসঙ্গতি থাকলেও এই ছবিতে সৃজিত 'সৎ!'
কিংবদন্তি এক বাঙালি সাহিত্যিক আর সৃজিতের চরিত্রগুলোর একটাই মিল - সব শ্রেণির মানুষ ই বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ বলে! এই ছবিতে সংলাপ কিন্তু বেয়াড়া নয়!  বরং যার যার লিপে ঠিকঠাক সংলাপ ই আছে!  ব্রহ্মা কিংবা গোবিন্দর সংলাপ মারকাটারি হ'লেও মানিয়ে যায়!
সৃজিত সাধারণত ফ্ল্যাশব্যাক সিন কিংবা আগের পরের ঘটনা বা কারুর বলা গল্পকে অতীত- ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখান না, বরং দু-তিনটে গল্প হিসেবে সেগুলোকে প্যারালালি চালান, তাতে অনেকসময় দর্শক বিভ্রান্ত হন!  এ ছবিতে কিন্তু সেরকম কিছু সেভাবে নেই!  বরং ফ্ল্যাশব্যাক ফ্ল্যাশব্যাকের মতোই দেখানো হয়েছে!অন্য ছবির মতো অকারণ ক্যামেরার চরকিপাক ও নেই!

কিন্তু প্রশ্ন একটাই... উমার জন্য প্রতিটা মানুষ গলে গিয়ে কাঁধ লাগিয়ে ফেলল!  এমন কি সম্ভব? এরকম মানবিকতা কি আছে? আর সবাই কিসের দায়েই বা নির্দ্বিধায় পরোপকার করে গেল যেখানে সাহায্যপ্রার্থী বহু মানুষকেই দরজা দেখিয়ে দেওয়া হয়!
হিমু কিংবা বরুণ  কিন্তু তেমন হোমরাচোমরা কেউ নন, তাদের কথা কে ই বা শুনবে?

 বিদেশের একটা পাড়া আর প্রায় গোটা কলকাতা কিন্তু এক নয়!

যে উমাকে নিয়ে যাবতীয় নোনতা সেন্টিমেন্ট, সেই উমা কিন্তু ভোলেভালা সরল নয়, বরং যথেষ্ট স্মার্ট আর বুদ্ধিমতী!  সে দুর্গাপুজো নিয়ে অনেককিছু ই জানত!

এ ছবির এডিটিং খুব খারাপ!
তবে অনুপম রায়ের সঙ্গীত মনে রাখার মতো!

ছোট্ট দুই চরিত্রে আমার ভীষণ প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী স্বাগত দে ( তাঁর গাওয়া ' ময়না ছলাৎছলাৎ ' আর ' বিহুরে লগন' এর মতো হিট খুব কম গান আছে) আর অভিনেত্রী সোমা দে কে দেখে খুব ভালো লাগল!

সৃজিতের 'উমা' দেখে মনখারাপ হয় না ঠিকই কিন্তু মন ভালো হয়ে যায় সবার স্পিরিট দেখে!

আসলে কনসেপ্ট সুন্দর হ'লেও প্লট সেভাবে দানা বাঁধে না!

মনে থেকে যায় অভিনয়!



( অন্বয় গুপ্ত)
#pendrive

3 comments: