Tuesday, August 28, 2018

হারামির গল্প


আমাদের স্কুলে এক লাইব্রেরিয়ান ছিলেন!  তাঁকে সবাই হারামি বলত!  আমাদের কাকারাও আবার ঐ স্কুলেই পড়েছেন!  তাঁরাও বলেন ভদ্রলোক তিন প্রজন্ম ধরে লাইব্রেরি আটকে রেখেছিলেন!  আমাদের স্কুল-লাইব্রেরি ছিল নর্থ ২৪ পরগনার অন্যতম সেরা!  ফাটাফাটি সব বই ছিল গর্ভগৃহে! উনি যখ হয়ে সেসব বই আগলাতেন!  কেউ ঢুকতেই পারত না!  উনি টেবিলে যা সাজিয়ে রাখতেন, সেসব ই নিতে হ'ত!  তাই ক্লাস ফাইভের ছেলে বাড়ি নিয়ে যেত মোপাসাঁর ছোটগল্প! (আমি যদিও জ্ঞানপাপী...  ফাইভেই টলস্টয় পড়েছিলাম)
ঝাল মেটাতে ছেলেরা ভদ্রলোকের পেছনে সাংঘাতিক লাগত! একবার তাঁর জুতোয় রথের চাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল! দুষ্কৃতি ছাত্রের নির্বিকার উত্তর ছিল ' আপনি স্যর এতোই স্লো... এতে যদি আপনার স্পীড বাড়ে তাই...!'

এক মফঃস্বলে বেজায় হারামি একটা লোক থাকত! সারাজীবন নানান লোকের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার হারামিগিরি করে শেষদিকে তার অনুতাপ জন্মালো! গভীর রাতে একটা গাছের মগডালে ফাঁস লাগিয়ে তাই সে ঝুলে পড়ল! এবার পুলিশ এসে এলাকাসুদ্ধ লোককে জেরা করে একেবারে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল!কীসব জটিল ক্লু টু আন্দাজ করে আজ এই বন্ধুকে তুলে নিয়ে গিয়ে বাটাম দেয় তো কাল ঐ বন্ধু! এলাকার লোকজন একেবারে খাপপা হয়ে গিয়ে বলল - ' ব্যাটা মরে গিয়েও হারামিগিরি ছাড়ল না!'


'হারামি' শব্দটা 'হারাম' থেকেই মনে হয় এসেছে!  এই হারাম কিন্তু শূকরকে বলে!

মোল্লা নাসিরুদ্দিন, বীরবল আর গোপাল ভাঁড় - এই তিন রসিকের রঙ্গরসিকতাকে তুলনা করলে নাসিরুদ্দিন আর বীরবলকে চতুর মনে হলেও গোপাল ছিলেন একেবারে বেদো হারামি বলতে যা বোঝায় সেটাই!
তাঁর বেশিরভাগ রসিকতাই ছিল কুৎসিত!  কখনো গ্রামের মেয়ের পাছায় সর্দি বার করে মোছা,কখনো জামাইকে ভাগানোর জন্য যৌনতা ভরা ইয়ার্কি মারা, কখনো অপোনেন্টকে জব্দ করার জন্য সকলের সামনে খাওয়ার পাতেই হেগে দেওয়া কিংবা বাঁহাতের উপর পায়খানা করে অপোনেন্টকে জড়িয়ে ধরে সেটা তার গায়েই মুছে দেওয়া ইত্যাদি!

এই গোপালের এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী বন্ধু আমির আলি একবার মাছ খেতে খেতে বলছিলেন দেখো তোমাদের বিষ্ণুর প্রথম  অবতার(মৎস্য)কে আমি গ্রাসে গ্রাসে খাচ্ছি!
গোপালও বললেন ভুল করে তৃতীয় অবতার( বরাহ)কে খাচ্ছ না তো?
তাঁদের অস্পৃশ্য বরাহের নাম শুনে আমির আলি তোবা তোবা বলে পাত ছেড়েই উঠে পড়লেন!
কিন্তু এই 'হারামি' বলতে ঠিক কাদের বুঝি, এই 'হারামি' শব্দের সঙ্গে সমান্তরালে 'চুতিয়া ', 'চুতিয়াপ্পা' এসব শব্দকেও রাখা হয়!
তাহলে হারামি কারা?  যাদের পদে পদে কাঠি করা স্বভাব তারা?নাকি যাদের দেখলে আনখশির জ্বলে ওঠে তারা?নাকি চলতে ফিরতে যাদের খোঁচা খেতে হয় তারা?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শেয়াল পন্ডিতের মতো এরা চতুর আর মিচকে হয়! এদের চোখে চোখে সংকেত ঘোরে! মোটা মাথা অথচ হারামি এমন মানুষ কি আদৌ দেখা যায়? গবেট কিংবা পাগলা হলেও তালের একটা দিক কিন্তু এদের ঠিক থাকে!
হারামিরা সেইসব ট্যাক্সিওয়ালাদের মতো হয় যারা দশ মিনিটের রাস্তা না ধরে আধাঘন্টার বিবিধ গাড্ডাওয়ালা রাস্তায় ট্যাক্সি ফেলে মিটার বাড়িয়ে দেয়!
এই হারামিদের সংজ্ঞা বার করা মুশকিল!  একেকজনের কাছে একেকরকম!
ভালো করে জানতে হবে কাদের 'হারামজাদা' আর কাদের 'হারামি' বলে!  অবৈধ সন্তানকে 'হারামজাদা' বলা হলেও এর অন্য অর্থ ও রয়েছে। যে লোকের পিতৃদেব   জীবনভর হারাম কাজ করত তাকে সহজেই 'হারামজাদা' বলা যায়। এসব লোকের পক্ষে  নির্দ্বিধায় আর অতিসহজে যেকোনো খারাপ করা কোনো ব্যাপারই না।

 অন্য দিকে 'হারামি' বলা হয় তাকেই যে সর্বদা নিজেকে হারাম কাজে ব্যস্ত রাখে! আর এক্ষেত্রে সে হারামজাদা না হয়েও দক্ষতার সাথে হারামিপনা চালিয়ে যেতে পারে।

এই 'হারামি' শব্দটা এখন আর কুৎসিত গালাগালির পর্যায়ে পড়ে না! বহু ব্যবহৃত হতে হতে এর লঘুকরণ হয়ে একদম ঘরোয়া শব্দ হয়ে গেছে! এর ব্যবহারে এখন অনেকটাই মধুর দুষ্টুমি পাওয়া যায়! কিন্তু এটাকে আর কুৎসিত গালাগালি বলা যায় না!

এই হারামিরা সবার যে ক্ষতি করে তা ও নয়,মোট কথা সবার কাজ পন্ড হওয়ার পরিস্থিতি হয় এদের জন্য!এই হারামিরা ক্ষেত্রবিশেষে গাছে তুলে মই ও কাড়তে পারে!

স্কুল-কলেজ সর্বত্র প্রচুর হারামি দেখেছি!  এদের নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প ও শুনে এসেছি!
হয়তো কলেজের বিরাট ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রাম নিয়ে সাজো সাজো চলছে, একজন বিরাট দায়িত্ব নিয়ে নিল!  বলল এইটা সেইটা কলাটা মুলোটা সব সে নিয়ে আসবে!  এই এই বিশাল বিশাল সব জিনিসের দায়িত্ব সে একাই নিল!  এবার প্রোগ্রাম যখন ঠিক দোরগোড়ায়, ঠিক তখনই সে ফোন করে মিষ্টি গলায় বলবে তার অমুক অমুক অসুবিধা আছে,সে যেতে পারবে না!
ব্যস! সবার আক্কেল গুড়ুম!
এদের বলে হারামি!

আরেকজনকে চিনতাম সে আরও এককাঠি উপরে! সে ব্যাটা মুখটা এমন ভালোমানুষ  বেড়ালের মতো করে রাখত যে তাকে কিচ্ছু বলাও যেত না!  টেনিদার ভাষায় 'বেশ অহিংস ছাগল ছাগল ভাব!' সে টাকাপয়সার ব্যাপারে ছিল বেদম হারামি! ধরুন আপনি তার কাছে একশ টাকা পাবেন, আপনি তার কাছে যতক্ষণ না যেচে চাইবেন,সে ভুলে যাওয়ার নাম করে চুপ মেরে থাকবে!  তাকে বই ধার দেওয়াটাও বিপদ!  তার তাল থাকবে আপনার বইটা মেরে দেওয়ার!  আপনি যতক্ষণ না চাইবেন, সে কিছুতেই দেওয়ার নাম অবধি করবে না! ব্যাগে করে সাথে বই নিয়েও ঘুরবে,কিন্তু আপনি না চাওয়া অবধি দেবেই না!
এই ছেলেটাকে নিয়ে আমরা দুই বন্ধু একবার খেতে গেছিলাম। কীসব অফারটফার চলছিল! হারামি নিজের জন্য মাত্র ১০০ টাকার প্যাকেজ নিয়েছিল! নিজের খাওয়া শেষ হতেই পুরো চুপ মেরে যায়!  আমি আর আমার বন্ধু আমাদের পছন্দের প্যাকেজ নিয়ে বিপদে পড়ি! প্রায় ৮০০ টাকা খসে আমাদের! আমার বন্ধু তার উপরেও আইসক্রিম স্পনসর করে!  হারামি চুপচাপ দেখে যায়! ভদ্রতাবশত এক পয়সাও শেয়ার দেওয়ার অফার দেয়না!  অন্তত মুখে কপট অভিনয় করলেও তার দোষ মাপ করা যেত!

স্কুলে থাকতে 'হারামি' শব্দটা প্রথম শুনি! আমায় একজন বলেছিল ' হারামির বাচ্চা!' আমি পাল্টা দিয়েছিলাম ' তুই শালা ঘরামির বাচ্চা!' আনন্দ করে বাড়িতে এই গল্প শোনাতে আমায় ধুনে দিয়েছিল!

সেই শুরু.... তারপর অগুনতি  হারামি দেখে এসেছি!
হয়তো একজন হুজুগ তুলল চল এগ্রোল মেরে আসি!  এমন টোনে বলল যাতে শুনে মনে হয় সে ই খাওয়াবে!  এবার সে শুধু নিজের বিলটুকু দিয়েই চম্পট দিল! এদিকে আমাদের তেমন পয়সা নেই, নেচে নেচে চলে গেছিলাম!

আরেকদল হারামি ছিল এন্টারটেনার!  কথার জাদু ছিল তাদের! কোনো বিনয় টিনয় কিস্যু ছিল না!  রেশন টু শ্মশান সবজায়গাতেই যেত বললে! কিন্তু এরা একটা ফুটো কড়িও নিজেদের পকেট থেকে দিত না!  চা, বিড়ি থেকে শুরু করে সিনেমা সব অন্যের পয়সায়!মেয়েদের সাথে ডেটিং এ গেলেও চা-চাউ-চাপাটি সব ওদের পয়সাতেই গিলত!
সবাই পরিবর্তে পেত শুধু কথার ম্যাজিক!
স্কুল লাইফে বহু বহু হারামি মানুষজন দেখেছি!  তার মধ্যে অনেক সম্মানীয় গুরুজন ( সম্মান তাঁরা আশাও করতে পারেন না) ছিলেন!  টীচারদেরও দেখতাম নম্বর নিয়ে অসভ্যতামো করতে!অতি ভদ্র গার্জেনদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করতে! সে এক পঞ্চম বেদ!
এক অন্ধ মাস্টার ছিলেন স্কুলে! তাঁর ক্লাসে ছেলেরা যা ইচ্ছে তাই করত! কেউ তাস পিটত, কেউ বেরিয়েও যেত! স্যর খিস্তির ফোয়ারা ছোটাতেন! ' হারামি' শব্দটা বারবার বলতেন তিনি!  বলতেন ' এই হারামিগিরি  এসেছে সব তোদের বাড়ি থেকে।' কাছিম বলে একটা ছেলে বলেছিল ' আপনি নিজে একটা হারামি'।
ঢ্যাঙামামা বলে এক বন্ধু ছিল হারামিগিরির চূড়ান্ত!  হারামিগিরির বীজ ভর্তি ছিল ওর মধ্যে!  ওকে কেউ পছন্দ না করলেও আমাদের সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল!  কিন্তু হারামি যারে কয়! মাঝপথে এইচ এস না দিয়ে পলিটেকনিক দিতে চলে গেল আর যাওয়ার আগে মোবাইল ইউজ করে আমাদের বিশ্রীভাবে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেল!  অকারণে!  আমরা এত আন্তরিক ব্যবহার করার পরেও! আমরা ভালোরকম বিপদে পড়ে গেছিলাম!  আমার প্রাণ নিয়ে অবধি টানাটানি হয়ে গেছিল!  মামার ঐ হারামিগিরি আজ ও ক্ষমা করিনি!
হারামি- পুরাণ না লিখে বরং ছোট কয়েকটা গল্প শোনাই!

মিস কল দেওয়া বহু মানুষের জঘন্য স্বভাব। আমার এক হারামি বন্ধু ছিল এই স্বভাবের! জীবনে মিস কল ছাড়া দেয়নি। আমি মিস কল দিই কালেভদ্রে!  হয়তো আমার ফোনে একটাকা পড়ে আছে... আর্জেন্ট কাজে ওকে মিস কল দিলে ও ব্যাটাও পাল্টা মিস কল ই দিত! ওর বাবাও ওর বন্ধুদের বাবাদের মিস কল দিত! আমার বাড়ির ল্যান্ডফোনে মিসড কল হলেই বুঝেই যেতাম ওর ই কীর্তি সেটা!  ওর এই স্বভাবের জন্য আমরা সবাই ওর উপরে  খুব বিরক্ত ছিলাম! এমনও নয় যে সংসারে খুব টানাটানি ছিল!
বেজায় দরকারে ওর বাড়িতে ফোন করলে ওর মা ধরে বলতেন - ' বাবু তো বাড়িতে নেই,  আচ্ছা ও এলে বলব তোমায় মিসড কল করতে!'

আরেক হারামি ছিল আমাদের এক পরিচিত ক্লার্ক বিল্টুদা!  ওর হারামিগিরির বহু গল্প শুনতাম!  ওর সিনিয়র পঞ্চান্নোর্ধ্ব প্রভাতবাবুও কম হারামি ছিলেন না! বাজারের মাসিকে বলতেন - ' কি মাসি... ডাঁটা শক্ত আর ডাঁটায় রস হবে তো?... মাছটা বেশ ডবকা... ইত্যাদি! ' অল্পবয়সী কচুরীওয়ালীকে বলতেন ' সব ই তো মিইয়ে পড়া গুলো দিচ্ছিস... ফুলকোগুলো কার জন্য তুলে রাখছিস? আমি কখন থেকে লাইনে!' এই প্রভাতবাবু যখন বৌদিবাজি আর মাঝবয়েসী মহিলাদের সঙ্গে ফ্লার্ট  করতেন, রাম হারামি বিল্টুদা সামনে এসে বলত' প্রভাতদা...  আপনার নাতিকে স্কুলে যেতে দেখলাম!  বড়ো হয়ে গেল!'

আইজাক নিউটন ছিলেন মহা অন্যমনস্ক ব্যোম ভোলে টাইপের লোক! একদিন এক বন্ধুকে খাওয়ার নেমন্তন্ন করে নিজেই তা ভুলে গেলেন আর বাড়ির বাইরে অন্য কাজে বেরিয়েও গেলেন! বন্ধু এসে ঘণ্টার পর ঘন্টা ধরে বসে রইলেন, নিউটনের দেখা নেই! রেগে গিয়ে তাঁর একটু হারামিগিরি করার শখ হ'ল!  শেষে খিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে বন্ধু খাওয়ার ঘরে ঢুকে নিউটনের ঢাকা দিয়ে রাখা খাবার শেষ করে তো দিলেনই, আর যা সব উচ্ছিষ্ট সব সাজিয়ে রেখে আবার ঢাকা দিয়ে রাখলেন!  ভোলাবাবা নিউটন ফিরে এসে বললেন ' আরে তুমি! এ তো সারপ্রাইজ!  যাক ভালোই হয়েছে এসেছ... তুমি একটু বসো... আমি চট করে খেয়ে আসি! খেতে গিয়ে উচ্ছিষ্ট দেখে তিনি অবাক হলেন!  বললেন -' দেখেছ কী ভুলো মন হয়েছে আমার!  আমার যে খাওয়া  হয়ে গেছে তা ভুলেই মেরে দিয়েছিলাম! '

বিল্টুদার স্কুলেরই সিনিয়র ক্লার্ক নস্করবাবু!  ভালো-ভোলে লোক!  একদিন তিনি কাজে ব্যস্ত...  বিল্টুদারা তাঁর টিফিনবক্স চুরি করে লুচি- আলুরদম খেয়ে ফেলল, আর বলল বাক্স ফাঁকা রাখতে নেই! ক্যান্টিন থেকে কয়েকটা লেচি জোগাড় করে বক্সে রেখে দিয়ে ভালোমানুষের মতো মুখ করে বসে রইল!
টিফিন টাইমে টিফিনবক্স নিয়ে অদৃশ্য হয়েও চটজলদি নস্করদা ফিরে এলেন!  বললেন ' দেখেছ! মিসেস এর ভুলো মন!  লুচি দেবে বলে ভুল করে টিফিনবক্সে লেচিই রেখে দিয়েছে! ' বিল্টুদা ফচকেমি মারলেন ' টিফিনবক্সটার কি টাইম ট্র‍্যাভেল হয়ে গেছিল নস্কর দা?'

জোনাথন সুইফট আর তাঁর ছোকরা চাকর দুজনেই ছিলেন সমান হারামি!
ছেলেটা তাঁর এই ওই জিনিস বয়ে আনত, দরকারি জিনিস এনে দিত কিন্তু সুইফট কোনো  বকশিস দিতেন না!  উপরন্তু ছেলেটাকে তিনি একদিন আদবকায়দা শেখাতে গিয়ে বললেন ' তুই আমার মতো আর আমি তোর মতো অভিনয় করব... দেখে শেখ!' ছেলেটা সুইফটের উপরে এমনিতেই চটা ছিল... এবার সুযোগ পেয়ে গেল! ভৃত্যবেশী সুইফট অভিনয় করে আদবকায়দা শিখিয়ে বললেন ' এই আপনার কুরিয়ার স্যর...'
সুইফটরূপী  ছেলেটাও বলল ' বেশ... এই নাও হে তোমার বকশিস! '
দারুণ লজ্জা পেয়ে গেছিলেন সুইফট!
শিব্রামও কম হারামি ছিলেন না! সম্পাদকরা তাঁকে এন্তার ঠকিয়েছেন!  তিনিও একই গল্প নাম পাল্টে বিভিন্ন জায়গায় চালিয়ে দিয়েছেন!

আমার এক কলিগ বদমাশ এক সিনিয়রের নামে আমায় বলছিলেন ' উনি বড্ড হারামি, ওঁর থেকে সাবধানে থেকো। '
একজন অচেনা ছেলের কাছে  দুম করে 'হারামি' শব্দটা উনি যে ব্যবহার করলেন, এর থেকে বোঝা যায় শব্দটা তুচ্ছ আর ঘরোয়া হয়ে পড়েছে!
ওঁর হাবভাব দেখে মনে হয়েছিল উনি চাইলেই আরও খারাপ শব্দ ব্যবহার করতে পারতেন!  'হারামি' শব্দটা তাঁর লাইট মনে হয়েছিল বলেই বলেছিলেন!

তবে যে যাই বলুক, হারামি আখ্যা পাওয়া মানুষরা আমার পছন্দ নয়!  নন্দিতা - শিবপ্রসাদের ' মুক্তধারা' সিনেমায় দলছুট হ্যাপীকে ওর সঙ্গী কয়েদিরা জোর করে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে বলে তুই না থাকলে জেলে আমাদের সঙ্গে কে হারামিগিরি করবে?
আসলে হারামিপনা দেখে একদল খোরাক পায়! যেমন ' অরণ্যের দিনরাত্রি ' সিনেমায় বেকার শেখরকে ( রবি ঘোষ) কে সবাই নিত ফ্রিতে এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য! যদিও শেখর সো কলড হারামি ছিল না!

এই হারামি আখ্যা পাওয়া মানুষজনের জগৎটা খুব ছোট!  নিজেদের জোক শুনে নিজেরাই হাসে আর হাসে গুটিকয়েক খোরাকলোভী!
যতোই উদার হোক না কেন, কেউ হারামি আখ্যা পাওয়া মানেই সমাজ তাকে ভালো চোখে দেখে না! এই হারামিদের ছোঁয়াচ আমি বাঁচিয়ে চলি !  আমি লাইফবয় নই,  পতিত উদ্ধারের কোনো দায় ই আমার নেই!
এই হারামিদের উপরে আমার কোনো বিশ্বাস নেই! এদের আপনি চর্ব্যচোষ্যলেহ্যপেয় দিয়ে আপ্যায়ন করলেও আপনাকে নিয়ে খোরাক করবে! এদের জন্য করুণা হয়!

যারা লাইফে ফ্রাস্ট্রেটেড আর যাদের জীবনে বাড়ির অতিসাপোর্ট হারামি বানিয়ে দেয়! ডান গালে বাবার, বাঁ গালে মায়ের আর কপালে অন্যদের অতিচুমু রাম হারামি বানিয়ে দিতে পারে!

( অন্বয় গুপ্ত)

#pendrive

1 comment: