Sunday, August 26, 2018

টিফিন কাহিনী

টিফিনবক্স আর টিফিন খাওয়ার সঙ্গে মেয়েদের হাসিকে মেলানো যায়!
আগেকার দিনে মালপত্র বাঁধাছাঁদা বা প্যাকিং করা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার! জেরোম কে জেরোম সেটা দারুণ দেখিয়েছিলেন!
উপচে পড়া প্যাঁটরায় প্রায় লাফিয়ে পড়ে কষে সেটা বন্ধ করে শেষে বকলস আঁটতে হত! ঠাসা টিফিনবক্স হলে দুপাশের ক্লিপ খুললেই খটাং করে ডালাটা লাফিয়ে ওঠে!
মেয়েদের হাসিও ঠিক সেরকম ই!  ভেতরে ঠাসা থাকে!  কখন যে তারা কী কারণে হাসবে তা কেউ বলতে পারে না!  হয়তো আপনি গাছতলায় গোমড়ামুখে দাঁড়িয়ে আছেন, একদঙ্গল মেয়ে খলবল করে হাসতে হাসতে গেল!  অথচ সেটার কোনো কারণই নেই!  বহু পণ্ডিত এবিষয়ে নানা জিনিস লিখে গেছেন ( তাঁরাও সেভাবে কেউ ই উত্তর খুঁজে পাননি) !  এমনকি মেরিলিন মনরো অবধি বলেছেন, ' তুমি যদি কোনো মেয়েকে হাসাতে পার, তবে তাকে দিয়ে যা ইচ্ছে করিয়ে নিতে পার।' তবেই বুঝুন মেয়েদের হাসি কতটা গভীর!
ইন্দ্রপ্রস্থে এসে দুর্যোধন জলকে স্ফটিকের মেঝে ভেবে তার উপর দিয়েই হেঁটে যেতে গিয়ে যখন জলেই পড়লেন, তখন দ্রৌপদীর হাসি দেখে তাঁর ব্যাপক প্রেস্টিজে লেগেছিল!

স্কুল-কলেজে আপনি টিফিনবক্স খুললেই কখন যে কে কী ভেবে নেবে আপনি ধারণাই করতে পারবেন না!
ইংলিশ মিডিয়াম বা কেতার স্কুলগুলোয় টিফিনবাক্স অতি কমন জিনিস!  বাচ্চারা অনেকেই সেখানে ' খাওপিও'  নিয়ে যায়!  ওই খাওপিও হ'ল এখানে টিফিনবক্স আর জলের বোতল একসঙ্গে থাকে!  গেলাও যায় ঢালাও যায়! খুব গভীর প্যানের মতো দেখতে হয় কিছুকিছু মডেল!
একবার নাকের জলে চোখের জলে নার্সারির একটা বাচ্চা খানা-পিনার পর খাওপিওর উপরে হাগতে অবধি বসেছিল! সে বাড়িতে পটি-তে হেগে অভ্যস্ত ছিল তাই খাওপিওর খোঁদল দেখেই বসে পড়েছে!
সেসব ইংরিজি স্কুলে যেমন টিফিনবক্সের কেতা তেমনি টিফিনের!
কিন্তু পাতি বাংলা মিডিয়ামগুলোয় টিফিন আর টিফিনবক্স নিয়ে প্রচুর সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম নাটক রেগুলার দেখা যায়!
প্রথম টিউশন এর ব্যাচ কিংবা প্রাইমারী স্কুলে টিফিন নেওয়া নিয়ে আমার কোনো সমস্যা হয়নি!  কারণ আমার বাড়ি ছিল পাশেই... ফিশফ্রাই,কাটলেট টাইমলি বাড়ি থেকে চলে যেত সেসব জায়গায়! চাপ ছিল না!
এই প্রাইমারী টিফিনে দুটো জিনিস দেখতাম অন্যদের ক্ষেত্রে!
এক, যেসব তাদের মুখে রোচে না কিংবা যেসব নিয়ে তারা বায়নাক্কা করে, সেসব ইচ্ছে করেই গার্জেন রা টিফিনে দিতেন!  কেউ খেতে বাধ্য হ'ত কেউ ফেলে দিতে যেত কারণ এ ব্যাপারে স্কুল ছিল অতি কড়া! সেজন্য বাচ্চারা টিফিন টাইমে মুখে টোপলা নিয়ে বাথরুমে লাইন লাগাত!  স্কুল বুঝে গিয়ে টিফিন টাইমে বাথরুমে যাওয়াটাই নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল!

দুই, বাড়িতে থাকলে মোটেও যা নন, বাচ্চাকে টিফিন দেওয়ার সময়ে গার্জেন রা অনেকে আবার অতি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে যান!  বাক্স উপচে পড়ে শশা, কলা, কমলা ইত্যাদিতে! 

একদলকে দেখতাম আজব!  গার্জেনরা কী শেখাতেন কে জানে! ব্যাগ থেকে একটু ভাত জাতীয় বা ঝোলওলা টিফিন বার করলেই তারা বলে উঠত ' এ ম্যাঃ!  বিদ্যার মধ্যে এঁটো! ইসস! ’ 
কাকে এঁটো বলে, বিদ্যাই বা কী...  আজব! 

সেই প্রাইমারী স্কুলে আরেকটা জিনিস দেখতাম সেটা সাইকোলজিকাল দিক দিয়ে খুব খারাপ!  কেয়ারটেকার মাসি হয়তো একটা পাত্র রেখে বলতেন, ' চলো আমরা সবাই সবার টিফিন ভাগ করে খাব!' সেটা শুনে কেউ আপেল,কেউ লোফ কেউ বিস্কুট ভেঙে রাখল...  কেউ হয়তো রুটি-মাংস এনেছিল... সে একপিস মাংস রাখতে যাবে... মাসি খিঁচিয়ে উঠলেন 'এব্বাবা... দিলে তো পুরো এঁটো করে, মাংস কেউ আনে? তোমারটা কেউ নেব না আমরা যাও!'
কিংবা যাকে পছন্দ করতেন না তার থেকে ভাগ চাওয়াই হত না!
তারপর প্রাইমারীর পালা চুকলে দেখলাম মানুষের এই টিফিন খাওয়া নিয়ে নানারকম ব্যখ্যা করা হচ্ছে!  তুমি ক্লাসে বসে বাক্স খোলো... তার মানে তুমি বোকা, আনস্মার্ট নয়তো হাবলু! তুমি বাইরের স্টল উজার করে যাখুশি খাও, তুমি স্মার্ট! আর ঘরে বসে বাক্স খোলো, তুমি বীর ও নও,  চালাক ও নও! 

তবু আমার দ্বিতীয় স্কুলে অনেকেই বাক্স নিয়ে যেত!  সে স্কুলে গল্পের বই ব্যাগে রাখা, খেলাধুলো করাকে ভালো চোখে দেখা হ'ত না...  তাই এন্টারটেনমেন্ট বলতে ছিল এই টিফিন খাওয়া! দেখতাম সুবোধ আর নালেঝোলে ছেলেরা খেত পরোটা, লুচি, পোলাও,  মনজিনিস ইত্যাদির দামী প্রোডাক্ট আর দোকান থেকে সবে কেনা কাগজ জড়ানো মিষ্টি !  আর বিচ্ছুরা খেত হলদে চাউ, পাউরুটি, তেল হড়হড়ে রুটি, আপেল!

আমিই প্রথম যে ক্লাসে ভাত নেওয়া শুরু করি!  ব্যাপারটায় লজিক ছিল!  প্রথমত লম্বা বাসজার্নির পর   পেট ভরানোর দরকার  দ্বিতীয়ত অনেকটা খাবার শর্টকাটে নেওয়া যেত! কিন্তু ক্লাসে বসে ঢাকনা খুলতেই কয়েকজন হাবলার মতো হাসত,  ' বববববভোয়ায়ায়ায়াত!!' যাঃ শালা... এতে এত হাসির কী আছে কে জানে!  আমি দেখাতাম ঐ দ্যাখ স্যরেরাও ভাত খাচ্ছেন!  ওরা বলত আরে ওঁরা তো বড়ো! তা বলে তুই টিফিনে ভাত আনবি??

তর্কবিতর্কে না গিয়ে ভাত নিয়ে যাওয়াই বন্ধ করে দিলাম! 
তার বদলে পোলাও বা ভাত-খিচুড়ির মিশ্রণ জাতীয় টিফিন নিতাম!
বাড়ির যাঁরা টিফিন বানিয়ে দেন তাঁরা এই একটা ব্যাপারে নাছোড়বান্দা! আমি আর ভাত নেব না সেটা নিয়ে যুদ্ধ করতে হ'ল রীতিমতো! কীভাবে কারণ বোঝাব! ওঁদের যুক্তি প্রচুর খাবার দেওয়াও যাচ্ছে,পরিশ্রম কম হচ্ছে! বললাম কয়েকটা হাবলুর জন্য হাবলু হয়ে যাচ্ছি!  তাঁরা অসাধারণ যুক্তি দিলেন- ' আরে ওরা বোকা তাই হাসছে!' বাহ! এটা একটা সমাধান হ'ল?
তারপর দেখলাম বাক্স খুলে ঝরঝরে ভাত দেখলেই সব আবার হাসি শুরু করেছে...  কিন্তু ভাত-ডিমসেদ্ধ,আলুভাজা সব মিলে চটকে পাঁচ-সাতটা ক্ষীরকদম্বর মতো বানিয়ে নিয়ে গেলে আর কেউ সেভাবে হাসছে না! 
আজব! 

তাও সেই স্কুলে বাক্স খুলে দেদার টিফিন খেয়েছি কিন্তু তারপর থেকে টিফিন নেওয়া ব্যাপারটাই ভজঘট হয়ে গেছে!
 তৃতীয় স্কুলটা ছিল সরকারী! 
সেখানে টিফিন দেওয়া হত স্কুল থেকে! সে টিফিন ছিল বাঁধাধরা!  কখনো একটা লুচি-একটা আলুরদম একটা লাড্ডু , কখনো দুটো লুচি দুটো আলু একটা লাড্ডু , কখনো সিঙারা আর লাড্ডু,  কখনো একটাই কিং সাইজের নিমকি, কখনো চিনি-মাখন দেওয়া লম্বা পাউরুটি ...  কালেভদ্রে তাতে লাল জ্যাম দেওয়া থাকত! তিলক কেটে দেওয়ার মতো কাঠি দিয়ে প্রায় সাত হাজার পাউরুটিতে জ্যাম মাখালে যা পাওয়া যায় আর কী!
স্বামী শিবানন্দ সেই স্কুলের প্রাক্তনী ছিলেন বলে তাঁর জন্মদিনে মঠ থেকে গামলা গামলা বোঁদে আসত!  আর কখনো কখনো দেওয়া হত দু'পিস পাউরুটি আর একটা ইয়াব্বড়ো জিলিপি!  যেন পাউরুটির মাঝে জিলিপিটা রেখে খাওয়া যেত!
কাজে বুঁদ থাকাকালীন তাড়াতাড়ি খাওয়ার জন্য জন মন্টেগু দুই পাউরুটির মাঝে অন্য খাবার বসিয়ে গিলতেন! সেভাবেই স্যান্ডউইচ এর ভাবনা আসে!
আমি বাড়ি থেকেই টিফিন নিয়ে যেতাম আর ঐগুলো বাক্সবন্দি করে বাড়ি আনতাম,দাদু খেয়ে নিতেন সেসব! পরে বাড়ির টিফিন-স্কুলের টিফিন আর যখন জোরকদমে খেলা শুরু হল তখন সবাই হুড়ো লাগাত বলে স্কুলের টিফিন গবগবিয়ে গিলে বাড়ির টিফিন ছুটির সময় খেতাম!
 টিফিন দেওয়া হত বলে সেই স্কুলের অধিকাংশই বাড়তি  টিফিন নেওয়ার হাঙ্গামায় যেত না! 

সেই স্কুলে পড়তে পড়তে একটা নতুন বাই চেপেছিল!  স্টিলের একধরণের টিফিনবক্স পাওয়া যায়,সেটাকে আমরা 'প্রেগন্যান্ট টিফিনবক্স' বলতাম!  চৌকো টিফিনবক্সের মধ্যেই পানের ডিবের মতো আরেকটা ছোট্ট স্টিলের বাক্স থাকত! বড় বাক্সে রুটি নিলে ছোটবাক্সে তরকারি আর কি! সেই স্কুলেই বাক্স আনা দিয়ে টীচারদের ক্লাসিফিকেশন করা হত!  ট্যাঁশেরা খেতেন স্যান্ডউইচ, দালিয়া ইত্যাদি, আর যাদের গিন্নিরা তয়ে তয়ে করে রাখতেন তাঁরা অফিস টেবিলে গন্ডা গন্ডা ব্যঞ্জনের বাটি সাজিয়ে বসতেন! রথের মতোই দোতলা,তিনতলা, চারতলা টিফিনবক্স আনতেন!
আর একদল কে দেখতাম টিফিনে ডিম নিয়ে যাওয়ার ঘোর বিরোধী!  কেউ জলহাতির মতো হাঁ করে ডিমসেদ্ধ খেলে তারা ঘেন্না পায়! কেউ ঘেন্না পায় পরাগধানীর মতো ডিম ফেটে কুসুম ছড়িয়ে পড়লে!  বাড়ি থেকে ডিমসেদ্ধ দিলে ফিরে গিয়ে বাড়ি মাথায় তোলে!

কলেজে এসে দেখলাম ও তেরি! বাক্সে করে টিফিন নিয়ে যাওয়াটাই সেখানে প্রেস্টিজের ব্যাপার! 

কেউ টিফিন আনেই না!  অন্তত বাক্সে করে তো নয় ই! স্ট্রেঞ্জ!  তাহলে সবাই খায়টা কোথায়?
 ক্যান্টিন ক্যান্টিন করে মাতামাতি সবাই করে,আমার বাড়িতেও সবাই 'ক্যান্টিন' শব্দটা বারেবারে উচ্চারণ করে আনন্দ পায়!  দিনে কুড়ি ঘন্টা করে বলে যায় ক্যান্টিনে খাসনা কেন তুই? কিন্তু ক্যান্টিনে খাব কি...  সেখানে এতোটাই ভিড় যে ঢুকতে ঢুকতেই পিরিয়ড শেষ হয়ে যাবে!  সবার সঙ্গে পাল্লা দিতে জাঙ্কফুড খাওয়া ধরলাম, কিন্তু ক্যান্টিনেও জাঙ্কফুড পাওয়া যায় তা বাড়িতে মানবেই না! 
যাদবপুরে এসে দেখলাম  ইউনিভার্সিটিটা একটা দ্বীপ, চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র খাবারের দোকান!  সবরকমের খাবার, যা চাইব সব মিলবে!
শুরু করলাম বেদম বাইরে খাওয়া। তারপর ফেরার পথে টিফিনবক্স খুলে বাড়ির খাবারটাও খেতাম!  মুড বিন্দাস থাকলে বারাসাতে এসে আবার কোনো একটা জাঙ্কফুড!  এভাবে চললে শিগ্রিই হিট উইকেট হয়ে যাব!  ভেতরমহল থেকে বয়কটের ডাক আসবেই!
 তাই ওই হারে জাঙ্কফুড প্যাঁদানো থামালাম!
কিন্তু পুরো কলেজ জীবনে আমিই সেই রেয়ারতমদের একজন যে নিয়মিত টিফিনবক্স নিয়ে গেছি! 
কিন্তু টিফিনবক্স অধিকাংশ জন ই নেয় না কেন? কারণ কী?

আর কলেজ লাইফের একটা প্রবল সমস্যা আছে! সেখানে স্কুল- অফিসের মতো নির্দিষ্ট টিফিন টাইম সেভাবে থাকে না!  আর টানা সকাল থেকে বিকেল অবধি একেকটা এক-দেড় ঘন্টার ক্লাস করে করে খাওয়ার প্রচণ্ড অসুবিধা হয়! বহুক্ষণ পেট খালি রয়ে যায়! বন্ধুদের  অনেককেই দেখতাম ডাক্তার বলতেন অতক্ষণ পেট খালি না রাখতে!  মুভি দেখতে দেখতে পপকর্ণ খাওয়ার মতো ক্লাস চলতে চলতে তাদের অনেকেই দেখতাম টুকটাক কুঁচো খাবার খেতে!  স্কুলে কেউ এটা করলে বেদম মার খেয়ে যেত!  কিন্তু কলেজে শিক্ষকরা বুঝিয়েছিলেন খাওয়া মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি!  এর সঙ্গে অসম্মান করার কোনো সম্পর্ক নেই!
আর কলেজে ছিল ঘরের অভাব। তিন বছরে ঠান্ডা মাথায় বাক্স খুলতেই পারিনি। প্রথমত, অন্যরা বাক্সফাক্সই আনত না; দ্বিতীয়ত, কোনো ফাঁকা ঘরে ফাঁক পেয়ে যেই বসে খাওয়া শুরু করতাম, কোনো প্রোফেসর স্টুডেন্টের পাল নিয়ে চলে আসতেন!

বন্ধুদের অনেককেই দেখতাম টিফিন ফিফিনের বালাই টালাই রাখত না!  ঘন্টার পর ঘন্টা শুধু রাশিরাশি চা আর সিগারেট খেয়েই কাটিয়ে দিত!  মুশকিল হ'ল এই দুটোর কোনোটাই আমি খাই না! 

অনেককে দেখতাম আরও সেরা!  এর থেকে এক গ্রাস, ওর থেকে দু চামচ এভাবেই খেয়ে খেয়ে গোটা দিন চালিয়ে দিত!  বাড়ি থেকে টিফিন আনার ল্যাটাই আর তার থাকত না! 

অনেকে মিলে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। কেউ তাতে কবিতা খুঁজে পাবেন,কেউ বিবিধের মাঝে মিলন পাবেন কিন্তু তিনি অন্যদের ভাগ না পেলে ক'দিন পর বিরক্ত হয়ে যাবেন! টিফিনবক্স খুলতে না খুলতেই দশ হাত পড়ে গেলে আপনি আর কী পাবেন! ধরুন আপনার ফেভারিট লুচি  নিয়ে এসেছেন, দশ হাত পড়ার পর যদি দেখেন আপনার ভাগ্যে জুটল মাত্র এক পিস!  ব্যাস!
আর ঐসব দশ হাতের মালিকরা এবার অন্যের বাক্স টার্গেট করবে!  এভাবে খাজনা আদায় করে করে তাদের গোটা দিনের লাঞ্চ সারা হয়ে যাবে!
 টিফিনবক্স নেওয়ার মধ্যে কি বাচ্চামো লুকিয়ে আছে? 
তা নাহ'লে কলেজে এতজন এড়িয়ে যায় কেন? এই রহস্যটা মেয়েদের হাসির মতো আজও ভাঙতে পারিনি!
আপনি ক্লাসে বসে টিফিনবাক্স বার করলে লোকে বলবে হাবলু,কিন্তু ওটাই ক্যান্টিনে অন্য পাত্রে ঢেলে খেলে আপনি স্মার্ট!
স্কুলে বাইরের স্টল উপচে পড়ে কিন্তু টিফিনবক্স খোলায় অনীহা!  আজব! 
'পঞ্চতন্ত্র' তে টিফিনবক্স( সেটা টিফিনবক্স ছিল না কর্পূরের বাক্স ছিল? কর্পূর ই হবে,কারণ টিফিনবক্সে কেউ কাঁকড়া রাখে না যাহোক,গল্পটা না বলে পারছি না) জাতীয় কনসেপ্ট নিয়ে একটা গল্প আছে!  ছেলে দূরে যাবে... মা টিফিনবাক্সে একটা কাঁকড়া রেখে দিলেন বিশ্বাসী বলে! পথশ্রমে কাহিল হয়ে ছেলে যখন ঘুমন্ত এক সাপ এসে বাক্সটা ঠুকে খুলে ফেলল, অমনই কাঁকড়া বেরিয়ে এসে সাপের মাথা দাঁড়া দিয়ে চেপে মেরে ফেলল! ছেলে প্রাণে বাঁচল! 

আসলে পৃথিবীতে বাড়ির টিফিনবক্স এমন একটা জিনিস যেখানে কোনো ভেজাল কখনো থাকতে পারে না! অনেকটা ভালোবাসা, পরিশ্রম, মিটমাট সব মিশে থাকে টিফিনবক্সে! পরিসংখ্যান বলছে
বোম্বের ডাব্বাওয়ালাদের কাজ ১০০% ঠিক হয়, সেজন্য ' দ্য লাঞ্চবক্স' সিনেমাটা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল!

বাড়িতে তুলকালাম করে  অফিসের নাইট ডিউটিতে গিয়ে গভীর রাতে যখন টিফিনবক্স খুলে চামচ পাই না, মাথা আগুন হয়ে যায়! কিন্তু মাথায় এটাও কাজ করে যে এই ভুলটা হবেই না যত ঝামেলাই করে আসি না কেন!  ভাবতে ভাবতেই দেখি ব্যাগের কোণায় ঠিক চামচ লুকিয়ে রয়েছে!

( অন্বয়_গুপ্ত)

0 comments: