Sunday, August 26, 2018

ছবি

Bengali Short Story ছবি, By - Pendrive


রাই দিনের পর দিন বারান্দায় বসে বসে লোক গোনে।বড়ো প্রিয় ওর এই বারান্দাটা।বারান্দা লাগোয়া ঘরটাতে ওর বাবা-মা থাকে।আর অন‍্য একটা ঘরে রাই একা থাকে।মাঝে মাঝেই ফাঁক পেলে উঁকি দিয়ে যায় বারান্দায় কখনো বা ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েও দেয়।মন দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে,এতটাই উদাস আর ভাবুক যে রক্তিম যে রাস্তা থেকে ওর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে, সেটাও বোঝেনা।বাবার অফিস আর মা র স্কুল।সারাদিন ব‍্যস্ত থাকায় ওনাদের মেয়ের সাথে খুব একটা সময় কাটানোর সময় হয়না।রাই তাই নিজের মতো করে নিজেকে গুছিয়ে তোলে।বারান্দায় বসে ও যেন কাউকে খুঁজে চলে সবসময়।অন্নপ্রাশনের একটা ছবি প্রায়ই হাতেধরে থাকে।অতি সুদর্শণ এক বয়স চল্লিশের লোকের কোলে রাই।লোকটা এত্ত সুন্দর দেখতে।মায়ের কাছে শুনেছে উনি নাকি মায়ের ছোটোকাকু।রাই এর অন্নপ্রাশনে এসেছিলেন।বিদেশে থাকতেন, চাকরি করতেন।বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল।প্রচুর টাকা ছিল ওনার।কিন্তু উনি নাকি অন্নপ্রাশন শেষে বিদেশে ফেরার জন‍্য ফেরৎ যাওয়ার পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।এটা শুনেই রাই এর দৃঢ় ধারণা হয়েছিল যে উনি নিশ্চয় হারিয়ে গেছেন এবং ঠিক ফিরে আসবেন।ওনাকে দেখে রাই ভাবতেই পারেনা যে উনি এতটা দায়িত্ব-জ্ঞান হীন যে ফিরে গিয়ে কোনো খবর দেবেন না অন্নপ্রাশনে উনি রাইকে যে সোনার হারটা দিয়েছিলেন রাই এই পনেরো বছর বয়সে সেটা সবসময় গলায় পরে থাকে।হাতে ছবিটা নিয়ে সে যেন দু'চোখ দিয়ে ওর সেই হারিয়ে যাওয়া দাদুকেই খোঁজে।

                 আজ রবিবার।বেশ রোদের তাপ।তবু রাই হাতে ছবিটা নিয়ে বারান্দায় বসে।যথারীতি রক্তিম তাকিয়ে তবু রাই এর কোনো হুঁশ নেই।সে আপনমনে তাকিয়ে, তার চোখ যেন একজনকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে।

―"মা,মা......ও মা,একবার এসো দেখে যাও,তাড়াতাড়ি।ও মা।"

রাই এর মা ভয় পেয়ে ত্রস্ত পায়ে ছুটে আসেন।

―"কি হয়েছে রাই?অমন চিৎকারকরছিস কেন?রান্না চাপানো আছে তাড়াতাড়ি বল"

―"মা,ঐ যে দেখো।ওনাকে দেখো।ছোটোদাদুর মতো দেখতে,ভালো করে দেখো।"

―"ওটা তো পাগল একটা,যাঃ"

পাগলটাও তখন ভয় পেয়ে গুটিশুটি।একমাত্র সম্বল ঐ লাল কাপড়ের পুঁটলীটা আঁকড়ে ধরেছে।মুখখানা ভয়ে শুকিয়ে কাঠ।

―"মা একবার ভালো করে দেখো,দেখো না মা।"

মেয়ের জোরাজুরিতে বাধ‍্য হয়ে মা নীচে নামল,

―"এই যে শোনো...."

―"নো,নো,নেভার।সি ইজ মাই লাভ,ডোন্ট টাচ্ হার"

 পাগল আবার ইংরেজী কথা বলে।আবার কোন মেয়ের কথা বলছে।রাই এর মায়ের ও এবার সন্দেহ হয়।রাই এর ডাকাডাকিতে তার বাবাও বেরিয়ে আসে,দু'জনে মিলে আটকে রাখে ঐ পাগলকে।সঙ্গে সঙ্গেফোন যায় ডাক্তার কাকুর কাছে, দেরী না করে উনি ও আসেন তাড়াতাড়ি।একটা ঘুমের ইন্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয় পাগলটাকে,তারপর ঘরে নাপিত ডেকে চুল দাঁড়ি কাটা হলে আসল চেহারা ধরা পড়ে।অবিকল সেই মুখ শুধু কালচে গায়ের রং,অতি শীর্ণ চেহারা, পিঠে লাঠির দাগ,হয়তো পয়সা না দিয়ে খেতে চাওয়ার ফল।বিদেশে বাড়ি-গাড়ি র মালিক, শুধু দু'টো খেতে পায়নি কতদিন, হাজার হাজার ইউরোর মালিক একটা নোংরা কাপড়ের পুঁটুলী নিয়ে ঘুরছে।নোংরা জিনিসের প্রতি হাজার ঘেন্না সত্বেও রাই এর মা পুঁটুলিটা খুলল।ভেতরটা দেখে অবাক হয়ে গেল।রাই এর অন্নপ্রাশনে পরা সেই কোর্ট-প‍্যান্ট আর একটা ছবি।একটা মেয়ের ছবি।এই সেই মেয়ে যার সাথে ওনার বিয়ে ঠিক হয়েছিল।


লিখেছেন :
Arena Patra

0 comments: