Sunday, September 16, 2018

ফোটোগ্রাফি | লেন্সের প্রকারভেদ

ফোটোগ্রাফি,লেন্স,লেন্সের প্রকারভেদ,লেন্স কিনবেন কিভাবে ?
(ফোটোগ্রাফি )বিষয় - লেন্সের প্রকারভেদ

                                                                  বিষয় : ফোটোগ্রাফি 

লেন্সের প্রকারভেদ:

সঠিক তরবারি ছাড়া যেমন একজন দক্ষ যোধ্য়ার কর্মক্ষমতা কমে যায়,একইভাবে একজন আলোকচিত্রীর ছবির গুণমান,তার দক্ষতা এবং ব্যবহৃত লেন্স এর ওপর অনেকটা নির্ভর করে,তাই একটা ভালো ছবি তৈরী করতে গেলে প্রয়োজন একটি সঠিক লেন্স | 
সেজন্যই আজ আমরা আলোচনা করবো লেন্স কতপ্রকার সে সম্পর্কে :

১. ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স: 
  • এই লেন্সগুলোর ফোকাল লেংথ অনেক কম হয়ে থাকে | সাধারণত :১০ মিমি থেকে ২৪ মিমিএর মধ্যে হয় |  
  • এদের অ্যাঙ্গেল অব ভিউ অনেক ‘wide’ অর্থাৎ বড়; কাজেই অনেক বড় দৃশ্যের ছবি ধারন করতে পারে।
  • এধরনের লেন্স ব্যবহার করে আপনি ভালো ভালো Landscape এর ছবি,Group পিকচার্স( অনেকেই ফ্যামিলি ফটো তোলেন যেখানে পরিবারের সকল সদস্যকে একটি ফ্রেম এ কভার করতে হয় তাই সেক্ষেত্রে এধরনের লেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে ) 


২. নরমাল লেন্স: 
                ১৮  থেকে ৫৫ মিমি ফোকাল লেংথ এর মধ্যের লেন্সুগলোকে নরমাল লেন্স বলে।                             এগুলো অনেকের কাছে "কিট লেন্স" নামেও পরিচিত,কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা                       যায়,ক্যামেরার সাথেই এধরনের লেন্স কামেরার কোম্পানি (Nikon,Cannon,Sony                             etc.)দিয়ে থাকেন | 

৩.টেলিফটো লেন্স: 
  • সাধারণত যে সব লেন্স অনেক দুরের ছবি তুলতে পারে তাদেরকেই আমরা টেলিফটো লেন্স বলবো।
  •  এগুলো ন্যারো অ্যাঙ্গেল লেন্স, অর্থাৎ অ্যাঙ্গেল অব ভিউ অনেক কম,কাজেই দুরের জিনিস কাছে এনে ছবি তোলা যায়।
  •  ৭০ মিমি’র উপরে হলে সেটাকে টেলিফটো লেন্স বলা যেতে পারে…সাধারনতঃ ৭০ মিমি থেকে ৫০০ মিমি’র মধ্যে বাজারে বিক্রি হয়। 
  • এখানে একটা বিষয় বলা দরকার,এই ৫০০মিমি  এর বেশি লেন্স গুলোকে অনেকেসুপার টেলিফটো লেন্সও বলে থাকেন |

** জুম লেন্স আকারে বড় হয় কেন ? আর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স আকারে ছোট হয় কেন? 
=> কারণ,লেন্স এর দৈর্ঘ্য তার ফোকাল লেংথ এর সাথে সম্পর্কিত। যত বেশি ফোকাল লেংথ হয়, লেন্স তত বড় করতে হয় |

৪ . ম্যাক্রো লেন্স:  
এই ধরনের লেন্স এর কাজ কোন একটি বিষয়কে খুব কাছে থেকে তোলা। সাধারনতঃ বিষয়বস্তু থেকে একটু দুরে লেন্সকে রাখতে হয়, তা না হলে ফোকাস করা সম্ভব হয়না। ম্যাক্রো লেন্স গুলোকে আপনি বিষয় বস্তুর একদম কাছে নিয়ে যেতে পারবেন..কাজেই একটা ভিন্ন পার্সপেক্টিভ থেকে ছোট জিনিসের ছবি তুলতে পারবেন।

৫ . ফিক্সড ফোকাল লেংথ বা প্রাইম (Prime) লেন্স: 
  • এইধরনের লেন্স এর ফোকাল লেংথ ফিক্সড। যেমন ধরুন ৩৫ মিমি ফিক্সড লেনস। আপনি চাইলেও এই লেন্স এর ফোকাল লেংথ বাড়াতে বা কমাতে পারবেন না।
  • এটা একটি চওড়া এবং সর্বোচ্চ অ্যাপারচার পেতে সাহায্য করে |
  • কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রাইম লেন্স  : ৫০মিমি প্রাইম লেন্স ,৮৫মিমি প্রাইম লেন্স 
  • এগুলি মূলত পোর্ট্রেট ফোটোগ্রাফি এর জন্য ব্যবহার করা হয় | Wedding Photographer দের কাছে ৮৫ মিমি প্রাইম একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেন্স |

৬ . ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তনশীল ফোকাল লেংথ এর লেন্স: 
আমরা বেশিরভাগ সময়ই এই ধরনের লেন্স ব্যবহার করি। যেমন ধরুন ১৮ – ১৩৫ মিমি লেন্স। এই লেন্সটির ফোকাল লেংথ ১৮ মিমি (ওয়াইড অ্যাঙ্গেল) থেকে ১৩৫ মিমি (মোটামুটি জুম) পর্যন্ত কম বেশি করা যাবে। এই ধরনের লেন্স এর জনপ্রিয়তার কারণ সিম্পল: একের মধ্যে বহু অপশন। আপনি একই লেন্স এর জুম কম বেশি করে বিভিন্ন দুরত্বের বস্তুর ছবি তুলতে পারছেন, যেটা প্রাইম লেন্স এ সম্ভব নয়। 
তাহলে অনেকরই প্রশ্ন আসতে পারে, 
আমরা কেন প্রাইম লেন্স ব্যবহার করি? উত্তর খুবই সহজ,প্রাইম লেন্স এর ছবির কোয়ালিটি অনেক বেশি উন্নত হয়ে থাকে সাধারন জুম লেন্স এর তূলনায়। যেহেতু পরিবর্তনশীল ফোকাল লেংথ এর লেন্সগুলোর ভিতরের এলিমেন্টগুলো মুভেবল এবং এইধরনের লেন্স অনেকগুলো ফোকাল লেংথ এ কাজ করে, ছবির মান ঠিক রেখে কম খরচে ভাল জুম লেন্স তৈরী খুবই কঠিন। 

৭ . ফিশ আই (Fish eye) লেন্স: 
এগুলোও এক শ্রেনীর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স কারণ ,এই লেন্সগুলোর Angle of view অনেক বেশি, প্রায় ১৮০ ডিগ্রীর কাছাকাছি। কাজেই ক্যামেরা তাক করলে পুরো ডান থেকে বামের সব কিছুই ছবিতে চলে আসে এবং অনেকটা এরিয়া কভার করা যায় |


লিখছেন : শুভম নন্দ 

0 comments: