Friday, September 28, 2018

গল্প : এক্সপেক্টেশন

 এক্সপেক্টেশন

                           


রাত বারোটা বেজে চুয়ান্ন। ফোন টা আসার পরই যাহোক করে ট্রাউজার আর একটা টি-শার্ট গলিয়ে নিয়ে রুদ্ধশ্বাসে বাইক নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন ড.শুভ্রনীল সেন। গন্তব্য-'হিউম্যানিটি হসপিটাল'। অয়ন সুইসাইড এটেম্পট নিয়েছে; সাকসেসফুল হয়নি, তবে অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। ভেন্টিলেশন এ রাখা হয়েছে ওকে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের শারীরবিদ্যার অধ্যাপক ড. শুভ্রনীল সেন। অনেকে বলে ছাত্রদের সঙ্গে নাকি যুবক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভাববিনিময় বেশি ভালো হয়, কিন্তু পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রৌঢ়  ড. শুভ্রনীল সেন ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। সমস্ত ছাত্ররাই ওনাকে খুব পছন্দ করে, আর উনিও ওদের ওনার সন্তানের মতো ভালোবাসেন, ওদের বিপদে আপদে ছুটে যান, প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্যও করেন।আসলে শুভ্রনীল সেন বিয়ে করেননি; একলার সংসারে পিছুটানহীন এই নির্ঝঞ্ঝাট মানুষটির কাছের বলতে কলেজ আর ছাত্রছাত্রীরা।আর অয়ন তো ওনার অন্যতম প্রিয় ছাত্র। তাই তার এই পরিস্থিতির কথা শুনে একমুহূর্ত দেরি করেননি উনি।রাতের কলকাতার ফাঁকা রাস্তায় ঘন্টায় প্রায় আশি কিলোমিটার বেগে ছুটছে ড. শুভ্রনীল সেনের বাইক, আর তার থেকেও বেশি দ্রুত ওনার হৃৎস্পন্দন। মাথার মধ্যে একরাশ চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। ওনার একটুখানি অবহেলার জন্যই কি অয়ন আজ এই অবস্থায়? সন্ধ্যেয় ওর ম্যাসেজের কথাগুলো সেরকম গুরুত্ব দিলেন না কেন উনি? আর এইধরণের পরিস্থিতি প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে আসে, ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু সুইসাইড করার মনস্থির করলো কেন ছেলেটা? আর এখন ও আছেই বা কেমন? আর কোনো ফোন আসছেনা কোনো? তাহলে এতক্ষনে কি...? না,না, তাহলেও তো ফোন আসতো। তাহলে মনেহয়..... --এইসব হাজার প্রশ্ন,চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু উত্তর খোঁজার মতো মনের অবস্থা বা সময় কোনোটাই ওনার নেই এখন।

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের  দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অয়ন। ছাত্র হিসেবে খুব উচ্চমানের না হলেও ওর চিন্তাভাবনায় একটা স্বতন্ত্রতা আছে, সবার তালে তালে মেলায় না। একটু চাপা স্বভাবের ছেলে হলেও কল্পনাপ্রবণ অয়ন তার প্রিয় শুভ্রনীল স্যারের কাছে নিজের মনের সব কথা নির্দ্বিধায় বলে যেত। শুভ্রনীল সেনও ওর  সাথে বন্ধুর মতো মিশতেন, কলেজের বাইরেও নিজের বাড়িতে ডেকে পড়া বুঝিয়ে দিতেন। অয়ন এর স্মৃতিশক্তি ছিল প্রবল, তবে কম্পিউটর যেমন কয়েকটা নির্দিষ্ট ভাষা ছাড়া বোঝেনা, সেরকম এ ওর মাথায় কোনো বিষয় ঢোকাতে গেলে সেটা ওর মতন করেই ওকে বোঝাতে হতো, যে কাজটাতে এই পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্রৌঢ় শুভ্রনীল সেন সিদ্ধহস্ত ছিলেন।বিগত দুই বছর ধরে অয়নকে উনি দেখছেন,ছেলেটা একটু অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ আর সরল, ঠিক তথাকথিত আধুনিকতার স্রোতের অনুকূলে যায়না, প্রত্যেকের দিকে নিঃস্বার্থ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়,নিজের যেটুকু প্রয়োজন তার বেশি চাহিদা কখনো ওর মধ্যে দেখা যায়না, সম্পূর্ণ উদাসীন। খুব ভালো রবীন্দ্রসংগীত গায়, অসাধারন ছবি আঁকে, দুর্দান্ত ফুটবল খেলে,পড়াশুনাতেও চলনসই, কিন্তু কোনকিছুতেই ওর বিশেষ হেলদোল নেই। অত্যন্ত সরল মন কিন্তু অত্যন্ত সূক্ষ অনুভূতিও ওর মনকে নাড়া দেয়। প্রতিদিন বাড়ি থেকে নিয়ে আসা টিফিনের খাবার কলেজের পাশের গলিতে বসে থাকা অন্ধ ভিক্ষুকটিকে দিয়ে আসে নির্দ্বিধায়,মাঝে মাঝে টাকাকড়িও দিতে দেখেছেন ওকে। তবে আত্মসম্মান বোধ ছিল খুব বেশি।কেউ ওকে অপমান করলে  একেবারে মুষড়ে পড়তো ছেলেটা, বন্ধুরা  কখনো ওর কীর্তিকলাপে হাসিঠাট্টা করলে মাঝে মাঝে কলেজ আসা বন্ধ করে দিতো।তারপর ড. সেন ওর বাড়িতে গিয়ে বুঝিয়ে আবার নিয়ে আসতেন আর অন্য ছেলেদেরও বলতেন ওকে বিরক্ত না করতে। কিন্তু অয়নের বাবা-মা ছিলেন আর পাঁচটা সাধারণ গার্জেন এর মতোই, ওনাদের একমাত্র ছেলে অয়ন, ভালো সরকারী চাকরি না পেলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবেন না।  তাদের কাছে তাদের ছেলেই সবার সেরা, তাই সারাদিন পড়াশুনা আর কোচিং এর চাপে অতিষ্ট হয়ে ওঠে অয়ন।কিন্তু চাপ দিয়ে কোনো কিছু করা  ওর প্রকৃতিবিরুদ্ধ । তাই ফল হয় উল্টো। রেজাল্ট খুব একটা ভালো কখনোই আর হয় না। তখনই  মায়ের দিক থেকে ছুটে আসে একের পর এক তুলনার তীর। --"অমলকাকুর ছেলেকে দেখেছিস? আই. এ. এস অফিসার। রবীন মামার ছেলে বিখ্যাত সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকায় থাকে।তোর বাবার অফিসের কলিগের মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে লন্ডনে। আর তুই কি করছিস? সারাদিন ফুটবল, গান আর ঘুরে বেড়ানো; লজ্জা করেনা?"©সৌরিন ঘোষ।
বাবা বাক্যালাপ বন্ধ করে দেন কখনো, কখনো আবার গম্ভীর মুখে বলেন-"প্রতি মাসে তোমার পেছনে এতগুলো করে টাকা খরচ হচ্ছে,আর তুমি তার এই প্রতিদান দিচ্ছ?" সেই সঙ্গে মা এর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল-" দু পয়সা রোজগার করতে মানুষটা সারাদিন খেটে যাচ্ছে, তোর কি একটুও মায়া হয়না? টেনশনে টেনশনে তোর বাবা একদিন শেষ হয়ে যাবে, তখন দেখবি কেমন লাগে? আমরা তো তোর কোনো অভাব রাখিনি, তুই আমাদের কথা এতটুকুও ভাববিনা?"
কোনো কথা বলতে পারেনা অয়ন। মাঝে মাঝে মনে হয় বাবার স্পন্ডেলাইসিসের ব্যাথাটাও মনে হয় তার জন্যই বেড়ে যাচ্ছে। সমস্ত কিছুর জন্যই সে দায়ী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হতে পারেনি অয়ন, এই এক বছরে ওর পারিবারিক জীবন তাই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। নিজের কোনো ইচ্ছের কথা মুখ ফুটে আর বলেনা। উঠতে বসতে বাবার বকুনি,পড়াশুনার অধঃপতন,আত্মীয়-পরিজনের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়া, প্রতিবেশীদের সম্মুখের কপট সহানুভূতি আর ভেতরে ভেতরে খুশি হওয়া,দিনরাত মায়ের খোঁটা শোনা, এই সবকিছুতে আহত হয়েও একরকম অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল অয়ন।ও ভেবেই নিয়েছে ওর দ্বারা আর কিছু হবার নয়, তাই কারো কথার কোনো উত্তর না দিয়ে নিশ্চল একটা জীবন কাটাচ্ছিল। শুধু শুভ্রনীল স্যার ছিলেন ওর অন্তরের আকুলতা প্রকাশের একমাত্র জায়গা। দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্ট বেরোনোর পর যখন দেখলো মাত্র চল্লিশ শতাংশ নম্বর,মানে ওই টেনেটুনে পাস আরকি, তখন ওর মনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল, ঠিক রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বলে নয়, মা- বাবার এক্সপেক্টেশনের দাম দিতে পারেনি বলে। বাবার মৌনব্রত অবলম্বন,মায়ের বাড়ির কাজ করতে করতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না, এসব দেখে প্রতিনিয়ত তার মনে হচ্ছিল সে ওই মানুষগুলোকে ঠকিয়ে যাচ্ছে।

সেদিন  ছিল রবিবার। দুপুরে খেতে বসে একথা সেকথা হতে হতে শেষে বাবা বললেন-" পয়সা খরচ করে গাধা পুষলে সেও কাজে লাগতো , এবার দয়া করে পড়াশুনা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমাকে উদ্ধার করো।"-- তারপর মা-বাবা দুজনেই উঠেগেলেন অর্ধেক খেয়ে। অয়ন চুপচাপ খাবার শেষ করে নিজের ঘরে চলে গেল। ফোন করলো শুভ্রনীল স্যার কে। শুভ্রনীল সেন সেদিন একটা বিশেষ সেমিনার এ গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ফোন ধরতে পারেননি। সন্ধ্যেবেলা ফেরার সময় দেখেন অয়নের ম্যাসেজ-"স্যার, আমি আর নিতে পারছিনা এত এক্সপেক্টেশনের চাপ। বাবা মা খুবই হতাশ। আমার করণীয়ই বা কি সেটা বুঝতে পারছিনা।" সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত শুভ্রনীল সেন ওকে ম্যাসেজ পাঠালেন-"পরে আলোচনা করবো।"
তারপর বাড়িতে এসে স্নান করে একটু পড়াশুনা করলেন, রাত 10টা নাগাদ ডিনার সেরে শুয়ে পড়লেন। ওদিকে অয়নের মন তো এমনিতেই বিচলিত ছিলই, দুপুরের পর থেকে বাবা-মা দুজনেই একটাও কথা বলেননি, তার উপর শুভ্রনীল স্যার এর ওই উত্তর পেয়ে ও ভাবলো স্যারও হয়তো ওকে ইগনোর করে যাচ্ছেন। অসফল হয়ে ও স্যারের বিশ্বাস রাখতে পারেনি হয়তো। ওর বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় ও। অয়নের বাবা এগ্রিকালচার অফিসে চাকরি করেন, কিছু নতুন  মেটাসিড স্যাম্পল বাড়িতে এনে রেখেছিলেন। রাতে খাবার আগে বাবার ড্রয়ার থেকে একটা 100ml এর ফাইল নিয়ে আসে অয়ন। রাতে শান্তভবেই খাওয়া দাওয়া সেরে ঘরে গিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে কিছুক্ষণ, তারপরে পুরো ফাইল টা মুখে ঢেলে নেয়। মিনিট পনেরো পরে অয়নের মা ছেলের ঘরের আলো বন্ধ করতে এসে  দেখতে পান ছেলের মুখদিয়ে ফেনা বেরোচ্ছে,তারপরে  ওনারা ওকে হিউম্যানিটি হসপিটালে নিয়ে আসেন ও ওর দুজন বন্ধুকে খবর দেন,তাদেরই একজন খবর দেয় শুভ্রনীল সেনকে।

হসপিটালের রিশেপশনে জিজ্ঞেস করে সোজা থার্ড ফ্লোরে এমার্জেন্সি ওয়ার্ড এ চলে গেলেন ড. শুভ্রনীল সেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের তিন নম্বর ঘরে অয়নকে রাখা হয়েছে,মেশিনের সাহায্যে ওর পাকস্থলী ওয়াশ করা হচ্ছে, ভেতরে আছেন  দুজন ডাক্তার আর দুজন নার্স। বাইরে অয়নের বাবা এদিক ওদিক পায়চারী করছেন আর ওর মা একটা চেয়ারে বসে আছেন মাথা গুঁজে। শুভ্রনীল সেনকে দেখে দুজনেই ওনার কাছে এলেন। অয়নের বাবা বললেন-"স্যার আমরা শুধু চেয়েছিলাম ছেলে জীবনে বড়ো হোক, কিন্তু এটা ও কোনো করলো?" শুভ্রনীল সেন শান্ত ভাবে বললেন-" বড়ো হওয়া বলতে আপনারা বড় চাকরি পাওয়ার কথা ভেবেছেন, অনেক টাকা রোজগার করে উচ্চতর সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে এই আশাই অন্ধ হয়ে প্রতিনিয়ত ছেলের  উপর চাপ বাড়িয়ে গেছেন, ওর মনের অবস্থাটা কখনো বোঝার চেষ্টা না করে নিজেদের এক্সপেক্টেশন জোর করে ওর উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সত্যি করে বলুন তো কোনোদিন জানতে চেয়েছেন ছেলে কি চায়?
আপনারা হয়তো ছেলের ভালো চেয়েছেন কিন্তু ছেলেকে ভালোবাসেননি।
সেইজন্যই হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।আপনাদের....."
-" অয়ন মণ্ডলের বাড়ির লোক কে আছেন?" -তিন নম্বর রুম থেকে ডাক্তারবাবু বেরিয়ে এসে কথাটা বলতেই ওনারা তিনজনেই দৌড়ে গেলেন ওখানে। অয়নের ট্রিটমেন্ট করছেন ডা. রঞ্জন দত্ত; উনি শুভনীল সেনের ছেলেবেলার বন্ধু। ওনাকে দেখেই উনি চিনতে পারলেন। অয়নের বাবার মুখে পুরো ঘটনাটা আগেই শুনেছিলেন ডা. দত্ত। উনি বললেন-" দেখুন, যেহেতু আপনারা খুব তাড়াতাড়ি হসপিটালাইজড্ করেছেন তাই বিষক্রিয়া বেশি ছড়াতে পারেনি। আমরা সম্পূর্ণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশাকরি এযাত্রা ও সুস্থ হয়েই বাড়ি ফিরতে পারবে।"
-" থ্যাংক গড।"-অয়নের বাবা-মা নিশ্চিন্ত হলেন।
ডা.দত্ত, শুভ্রনীল সেনকে বললেন-" দেখ আমার মনে হয় তোর এই ছাত্রটি মানসিক বিপর্যয়ের শিকার। আমার ওর ব্রেইন স্ক্যান করে দেখেছি ছেলেটির মধ্যে স্ট্রেসের মাত্রা খুব বেশি তাই ব্রেইন সেলগুলো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। ইমিডিয়েট কাউন্সেলিং না করালে ও পাগল ও হয়ে যেতে পারে।"
শুভ্রনীল সেন অয়নের বাবাকে ব্যাপারটা জানিয়ে বললেন- " দেখুন আপনার ছেলেকে এখন স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে দিন ওর উপর আপনাদের মতামত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না, ওর ইচ্ছেটাকেও গুরুত্ব দিন। একটু ভালোবাসুন। তাহলেই ওর মঙ্গল। নাহলে একদিন বড়লোক তৈরি করার উচ্চাকাংক্ষায় ছেলেটাকেই হারিয়ে বসবেন।চলি....।"

তার প্রায় পনেরো বছর পরে এক সন্ধ্যায় অয়ন ওর ছেলে অম্লানকে নিয়ে আসে ড.শুভ্রনীল সেনের বাড়ি। অয়ন এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিদ্যার স্বনামধন্য অধ্যাপক। চা এর পর্ব চলতে চলতে ছাত্র-শিক্ষকে সাধারণ কথোপকথন চলতে থাকে। একসময় অয়ন বলে-" জানেন স্যার , এ ছেলের তুখোড় বুদ্ধি, ওর মায়ের ইচ্ছে ছেলে বড় ডাক্তার হবে, আর আমি চাই বড় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হোক।"
অভিজ্ঞ শুভ্রনীল সেনের মনে পড়ে যায় অতীতের সেই দিনটার কথা, যেদিন এক্সপেক্টেশন একটা প্রতিভাকে শেষ করে দিচ্ছিল,মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল অয়ন। উনি ওনার চিরাচরিত শান্ত স্বরে বললেন-" তোমার জন্য একটা উপহার আছে অয়ন।একটা বই। সময় করে পড়ো, পারলে স্ত্রীকেও পড়তে বোলো।"- বলে ওনার আলমারি থেকে একটা সাদা খামে মোড়া ছোট বই অয়নের হাতে দিলেন। অয়ন স্যারকে প্রনাম করে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি চলে গেল। বাড়ি গিয়ে মোড়ক খুলে বইটা বের করে শিরোনামটা দেখে চমকে গেল -"EXPECTATIONS,WHICH HURT"।



 ~সৌরিন ঘোষ।

0 comments: