Wednesday, September 26, 2018

ম্যাডাম ও মহাশয়

ম্যাডাম ও মহাশয়

                                                           -- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়                              


ম্যাডাম ও মহাশয়


সুমিতের বাবা রজতশুভ্র এক বছর আগে এক ভোরবেলা নিরুদ্দেশ হয়ে যান।সুমিত গোয়েন্দা নিয়োগ করেছে বাবার নিরুদ্দেশ রহস্যের উন্মোচনে।গোপাল সেনের পরামর্শে গরিব, মেধাবী একটি ছেলে সুমিতের গাড়ি চালানোর দায়িত্ব পায়।ওদিকে নন্দিনী বুধাদিত্যকে খুন করার জন্য লোক ভাড়া করে।শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'ম্যাডাম ও মহাশয়' উপন্যাসে জীবনের জটিল ডালপালা পাখা মেলে ধরেছে।
                একটি গোয়েন্দাকে কেন্দ্রবিন্দু করে গড়ে ওঠা উপন্যাসটিতে তিনটি স্বতন্ত্র উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।সাথে সাথে বেশ কিছু নিম্নবিত্ত পরিবারেরও পরিচয় পাওয়া যায়।এদিক দিয়ে উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্তের সম্পর্ক ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার প্যাঁচ লক্ষ্য করার মতো।
                 সুমিতের মেয়ে মিমি।মিমির সুবিধার জন্য যে গাড়ি কেনা হয়েছে তার ড্রাইভার জোয়ার।প্রেমিক প্রেমিক নাম নিয়ে বিপজ্জনক বাইশ বছর বয়সী বলবান যুবককে পনেরো বছরের মেয়ের ড্রাইভার করতে সুমিতের মনটা কেমন যেন খুঁতখুঁত করছে।এদিকে উপায় ও নেই স্ত্রী রুমি তার ভাই গোপালের ওপর এতই নির্ভরশীল যে গোপালের পছন্দ করা কোনো বিষয়ে সুমিত কেবলই দর্শকমাত্র।এদিকে সুমিতের বউ রুমি আহামরি সুদর্শনা নয়,যদি সুদর্শনা হয়েও থাকে তবু বাড়ির কাজের মেয়ে সুমিতাকে দেখার পর থেকে রুমিকে 'ঘর কা মুরগি ডাল বরাবর' লাগছে।
                 অধ্যাপক গোপাল সেন বেশ কিছুদিন অধ্যাপনার শেষে বেশ বুঝল তার মধ্যে যে প্রতিভাটি ঘুমিয়ে আছে তা কোনো নিরামিষ অধ্যাপকের নয় বরং একজন দোর্দণ্ড উকিলের।সারাদিন ওকালতির কাজে ব্যস্ত গোপাল সেন আইন আর আইনের বইয়ের মোহে এতই উন্মাদ যে লাস্যময়ী যুবতী স্ত্রীর একাকিত্বের অমাবস্যার শিকার হলো তারই বাল্যবন্ধু বুধাদিত্য।গয়নার ব্যবসায়ী, প্রাচীনপন্থী বুধাদিত্য ন্যায়- অন্যায়ের বিচারে অন্যায়ের অবৈধ প্রেম থেকে মুক্তি চেয়ে আশ্রয় নিলো গোয়েন্দা বৈদূর্যের।আর এই বৈদূর্যই সুমিতের বাবার আকস্মিক অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের কাজে নিযুক্ত।আবার এই একই গোয়েন্দার সাহায্য নিয়ে নন্দিনী পৌঁছে যায় সুপারি কিলার বাবু-র ডেরায়।নিজে মরার আগে বুধাদিত্যকে মেরে সে নিজের ভেতরে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের আগুনটাকে জুড়োতে চায়।
                  সমান্তরালে আয়ুষ্মান গোপাল সেনের পরামর্শে হয়ে ওঠে জোয়ার।শখের জ্যোতিশাস্ত্রের প্রয়োগে সে আয়ুষ্মানের নাম পাল্টেই ক্ষান্ত হননি,যাতে ইলেভেন টুয়েলভ পড়তে ওর কোনো অসুবিধে না হয় তার জন্যে সে জোয়ারকে নিজের বোনের মেয়ে মিমির গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করে দেয়।আয়ুষ্মানের দিদি ঝিল্লি বস্তিতে থেকে বস্তির স্বভাবে ভেসে যায়, অন্যদিকে আয়ুষ্মানের বোন টুকুস আয়ুষ্মানের শুভাকাঙ্খী হয়ে ওঠে এতখানি,যে ছোট বোন হয়েও আয়ুষ্মানের প্রতি তার অধিকারবোধ আর শাসন অভিভাবকের পর্যায়ে পড়ে যায়।
                এদিকে সুমিতাও স্বামী সংসার পরিত্যক্তা হয়ে বি. কম পাশ ছেলের সাথে ব্যবসা খুলে থিতু হতে চায়।কিন্তু সুমিতার বর এত সহজে সুমিতাকে ছাড়তে রাজি নয়।আবার সুমিতাও ফাঁকা ঘরের সুযোগে বার বার সুমিতকে কফি খাওয়ার জন্য ইঙ্গিত করতে থাকে, যার স্পষ্ট এক ইঙ্গিত সুমিত ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা।
                   এরপর গল্প মোড় নেয়।আর এই মোড়েই আমরা পৌঁছে যাই গল্পের ক্লাইম্যাক্সে।টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে গোপাল-নন্দিনীর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য রকমের লক্ষ্যনীয়।এদিকে জোয়ার ভেসে গেছে নন্দিনীর লাস্যময়তার জোয়ারে।জোয়ারের প্রতি নন্দিনীর দৃষ্টি কি কেবলই করুণার! সেখানেও রয়ে গেছে না পাওয়ার বেদনা নাকি এ কেবলই অপত্যস্নেহ!চোরাগলির জটিলতার চড়াই-উতরাই এও নতুনের আগমন অনেকটা যেন নিকষ কালো অন্ধকারের শেষে হঠাৎ করেই মঙ্গলঘটের সন্ধান পাওয়ার মত।

লিখছেন : এরেনা পাত্র

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ম্যাডাম ও মহাশয়
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

দাম: ১৫০ টাকা
বইয়ের লিংক: https://amzn.to/2OOi2DK
আনন্দ পাবলিশার্স

0 comments: