Saturday, September 22, 2018

Movie Review : The prestige

The prestige

The prestige



তাঁর জন্ম হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের রাতে। এরকম ঘটনাকে অশুভ সংকেত মনে করে সেই সময়ে ধাত্রী টেসলাকে ‘অন্ধকারের সন্তান’ (Child Of Darkness) বলেন। কিন্তু এতে টেসলার মা অপমানিত বোধ করে এর বিরোধিতা করে বলেন, তিনি হবে ‘আলোর সন্তান’(Child of Light);মিসেস টেসলার   সেই ভবিষ্যদ্বানী যে কতটা ফলেছিস ছিল তা নিশ্চয়ই বলতে হবে না!
১৮৮০ সালে বাবার মৃত্যুর পর কাকাদের টাকায় প্রাগ-এ পড়তে যান তিনি । কিন্তু দেরি হয়ে গেছিল। ইউভার্সিটিতে রেজিস্ট্রেশন টাইম ই খতম হয়ে গেছিল। তাছাড়া, ইউনিভার্সিটির নিয়ম  ছিল যে গ্রিক আর চেক ভাষা জানতে হবে, তিনি এ দুটো তখনও পারতেন না। পরে তিনি  কথা বলতে পারতেন আটটা ভাষায়- সার্বিয়ান, ইংলিশ্,জার্মান, চেক, ফ্রেঞ্চ, হাঙ্গেরিয়ান, ইতালিয়ান আর লাতিন।
'৮১ সালে বুদাপেস্টে গিয়ে সেখানে এক টেলিগ্রাফ কোম্পানিতে কাজে লাগলেন । সেখানে তিনি টেলিফোনের অ্যাম্পলিফায়ার নিখুঁত করে তোলেন। কিন্তু কোনদিন সেটার পেটেন্ট নেন নি। ৮৪ সালে গেলেন টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে কাজ করতে ! স্বয়ং এডিসনই তাঁকে হায়ার করেন..নিউ ইয়র্কে। গোড়ার দিকে তাঁর কাজ ছিল সিম্পল ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর!..এরপর ক্রমশঃ কঠিন সব প্রব্লেম আসতে থাকে। তাঁর উপরে ভার দেওয়া হল ডিসি জেনারেটর রিডিজাইন করা। ১৮৮৫ সালে তিনি বললেন তিনি সেটা আরও ভালো করে বানাতে পারবেন।”
এডিসন বললেন, ''পারলে তোমাকে ৫০ হাজার ডলার দেব।''

বহুমাস কাজ করার পর তিনি পেরে গেলেন। এডিসনকে বললেন পেমেন্ট দিতে । হাসিমুখে এডিসনের উত্তর ছিল, “আরে টেসলা, তুমি দেখি ম্যারিকান হিউমার বোঝোই না।” টেসলার বেতন কেবল ১৮ডলার  থেকে বাড়িয়ে ২৮ ডলার করে দিলেন এডিসন, এই ছিল তাঁর পুরস্কার। কিন্তু টেসলা সেটা নিতে অস্বীকার করলেন।  কোম্পানি থেকে রিজাইন ই করলেন।
১৮৮৬তে তিনি নিজস্ব “টেসলা ইলেক্ট্রিক লাইট অ্যান্ড ম্যানুফেকচারিং” কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করলেন। সেখানে  ডায়নামো ইলেকট্রিক মেশিন কম্যুটেটর বানালেন,  কিন্তু টেসলার নতুন নতুন জিনিসে ইনভেস্টররা আগ্রহ পেতেন না। টেসলা হয়ে পড়লেন কপর্দকশূণ্য। এক পর্যায়ে তার পেটেন্টগুলোও হাতছাড়া হয়ে যায়। টাকার জন্য তিনি রিপেয়ারের কাজ করে বেড়ালেন, এমনকি দিনে মাত্র দুই ডলারের বিনিময়ে গর্ত খোঁড়ার কাজও করলেন। ১৮৮-৮৭ সালের সেই শীতকালে তিনি ভাবছিলেন, ''কী লাভ হ'ল আমার এত পড়াশুনো করে!''
'৮৭ তে দুজন ব্যবসায়ীর সাথে মিলে একটা কোম্পানি করলেন। প্রথমবারের মত সেই ল্যাবে টেসলা এসি কারেন্ট দিয়ে চলা ইন্ডাকশন মোটর চালান, আজকের ইলেকট্রিক দুনিয়ার শুরুয়াৎ সেই ল্যাবেই, টেসলার হাতে। রোটেটিং ম্যাগনেটিকফিল্ডের ধারণাও টেসলা দেন প্রথম, ১৮৮২ সালে।
১৮৮৮ সালে এসি কারেন্ট প্রদর্শন করেন টেসলা।IEEE তে দেখালেন তিনি। সবাই ব্যাপারটা দেখে অবাক হল, ভালভাবেই নিল এই প্রথম। এমনকি ষাট হাজার ডলারের অফার পেলেন পর্যন্ত।

কিন্তু এতে এডিসন বেজায় ক্ষেপলেন ! টেসলার এসি কারেন্ট বাজারে হিট কররে এডিসনের ডিসি কারেন্ট যে মার খেয়ে যাবে ! এডিসন এসি কারেন্টকে নাম দিলেন ''ডেথ কারেন্ট'' ! এডিসন লোকাল ছেলেদের পার হেড ২৫ সেন্ট করে দিলেন জীবিত কুকুর আর বিড়াল এনে দেবার জন্য। সেই কুকুর,বিড়াল আর একটা হাতিকে পর্যন্ত পাবলিকলি এডিসন টেসলার এসি কারেন্ট দিয়ে ইলেক্ট্রোকিউট করে মারেন।সবাইকে বোঝানোর জন্য যে, এসি কারেন্ট বিপজ্জনক।
 ১৯৩১ সালে এডিসন মারা যাবার পর, নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লাখো স্তুতিবাক্যের ভীড়ে এডিসনের নামে একমাত্র নিন্দাটা ছিল টেসলার। সারা জীবনের ঝাল তিনি সেখানেই মেটান।

ছোটবেলা থেকেই টেসলার বেজায় ভক্ত আমি ! তাবড় বিজ্ঞানীদের মাথায় রেখেই বলছি ' জিনিয়াস' আমার মনে হত এই টেসলাকেই !একবার আইনস্টাইন কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পৃথিবীর স্মার্টেস্ট ব্যক্তি হতে কেমন লাগে?’
উনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এর উত্তর আমার জানা নেই। আপনি নিকোলা টেসলা কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন!’
স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও টেসলার ভালো সখ্যতা ছিল!

হাইড্রো-ইলেক্ট্রিসিটির প্রথম ধারণা দেন টেসলা! তিনিই নায়াগ্রা ফলস থেকে প্র্যাক্টিকাল এনার্জি সোর্স তৈরির কথা বলেন। ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনিয়ারিং উদ্ভাবনের অর্ধ শতক আগেই সেটা নিয়ে কাজ করছিলেন নিকোলা টেসলা! ট্রানজিস্টর বানানোর উপকরণগুলোর পেটেন্ট কিন্তু টেসলারই ছিল। আজকের কম্পিউটার আসতই না এটা ছাড়া। বহির্বিশ্ব থেকে প্রথম রেডিও ওয়েভ ধরেন এই টেসলা।পৃথিবীর রেজোন্যান্ট ফ্রিকুয়েন্সি আবিষ্কার করেন- টেসলাই। ৫০ বছর পর বিজ্ঞানীরা সেটা বিশ্বাস করেন,আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে টেস্ট করার পর !
একটা ভূমিকম্পযন্ত্র উদ্ভাবন করে তিনি সেটা চালু করার পর নিউ ইয়র্কের একটা নেইবারহুড প্রায় ধ্বংসই হয়ে যায়! বল লাইটনিং বলে একটা জিনিস আছে। মাটির কয়েক ফিট উপরে ভেসে থাকে। এটাও সেই ১৮৯০ এর দশকে টেসলা করে দেখিয়েছিলেন। রিমোট কনট্রোল কে আবিষ্কার করেন? টেসলা।
নিওন লাইট কে উদ্ভাবন করেন? টেসলা। আজকের ইলেকট্রিক মোটর? টেসলা। এমনকি আজকের তারহীন প্রযুক্তিও কিন্তু টেসলারই আবিষ্কার।

'৭০ এর এক ঘটনা !বেশ কটা ক্লাসের পর  কঠিন কঠিন ইন্টিগ্রেশন শুরু।
বোর্ডে কতগুলো অঙ্ক লিখে টিচার পেছন ফিরলেন সবাই অঙ্ক করছে কিনা দেখতে। সবাই মনোযোগ দিয়ে করছে। কিন্তু দেখলেন  একজন বসেই আছে। স্যার তার দিকে এগিয়ে গেলেন-'' কেন করছ না?'' ১৪ বছরের সেই ছেলেটা বোর্ডের সবগুলো অংকের উত্তর বলে গেল।
স্যার ভাবলেন ছেলেটা উত্তর হয়ত মুখস্ত করে এসেছে। তিনি বানিয়ে কয়েকটা দিলেন। ছেলেটা এবারও সবগুলোর নির্ভুল উত্তর বলে দিল! একবারও খাতা কলম হাতে নিল না। টিচার সেদিন বুঝলেন, এই ছেলে ভয়ঙ্কর মেধাবী !
বিশ্বে খুব কম মানুষের ফোটোগ্রাফিক মেমোরি আছে। টেসলা তাদের একজন। পুরো বই তিনি মুখস্ত বলতে পারতেন! হাজার হাজার ডিজাইন তিনি মনের মধ্যে সবটা করে ফেলতে পারতেন। কোনদিন হাতে লিখতেন না। আঁকতেন না। মেমোরি থেকেই সব করে ফেলতেন। কোন ডাইমেনশন কত হবে সব হিসেব নিকাশ মাথাতে করে ফেলতে পারতেন।
তাঁর শেষ বয়েসের শখ ছিল পায়রা খাওয়ানো !  শেষ বয়সে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এক আহত পায়রা প্রতিদিন তার কাছে আসত। তিনি দুহাজার ডলার খরচ করে সেই পায়রার জন্য একটা ডিভাইস বানিয়েছিলেন তাকে হীল করার জন্য। ধীরে ধীরে সেই পায়রার ডানা আর হাড় ঠিক হয়ে আসে !
সবাই জানি যে ইতালির মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেন। কিন্তু জানি না যে তাঁর কাজগুলো ছিল টেসলার কাজের উপর ভিত্তি করে!! মার্কনির প্রথম রেডিও মেসেজ পাঠানোর সংবাদ পাবার পর টেসলা বলেছিলেন,''মার্কনি লোকটা ভালো। ওকে কাজ করতে দাও। ও আমার ১৭টা পেটেন্ট ইউজ করছে।''

তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের দিকে। নিকোলা টেসলা দাবী করে বসলেন, তিনি ডেথ-রে নামে এমন এক অস্ত্র আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন, যা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের সাহায্যে মুহূর্তেই মানুষকে মেরে ফেলতে পারে! গল্পটা ছিল টেসলা ফাঁকা জায়গায় বাতাসের মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিশালী এনার্জি পাঠাবেন, যা ২০০ মাইল দূর থেকে শত্র“পক্ষের ১০ হাজার প্লেন ধ্বংস করে দেবে। এটাই ডেথ রে।

১৮৮৭ সালে টেসলা নিউইয়র্ক সিটিতে একটা ল্যাবরেটরি তৈরি করেন। ১৮৯১ সালে তিনি ফ্লুরোসেন্ট লাইট, নতুন ধরনের স্টিম ইঞ্জিন, অল্টারনেটিং কারেন্ট পাওয়ার ট্রান্সমিশন ইত্যাদি আবিষ্কার করেন। ১৯০০ সালে ডেথ রে তৈরির জন্য টেসলা লং আইল্যান্ডে ওয়্যারলেস ব্রডকাস্টিং টাওয়ার তৈরির প্রজেক্টের জন্য জে পিয়েরপন্ট মরগ্যান নামে এক ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে মূলধন হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেলেন। কিন্তু ওই প্রজেক্ট অসম্পূর্ণই থেকে গেল। কারণ মরগ্যান আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। এরপর টেসলা সেই সময়ের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেনের কাছে গিয়ে তার আবিষ্কারের কথা জানালেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই নেভিল পদত্যাগ করায় টেসলার স্বপ্ন সার্থক হল না। টেসলা বলেছিলেন, এই ডেথ রে বা ডেথ বিম পৃথিবী থেকে যুদ্ধ নিশ্চিহ্ন করে দেবে। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যুদ্ধ আর কোনওদিনও হবে না। কারণ এই ডেথ রে-এর সাহায্যে প্রত্যেক দেশে একটা করে ‘অদৃশ্য চাইনিজ ওয়াল’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর তা হলে তো এই বিমের নাম হওয়া উচিত ‘পিস বিম’। তবে তিনি যেটাকে পিস বিম বলেছিলেন, এখন সেটাকেই বলা হয় ‘চার্জড পার্টিকল বিম ওয়েপন’।

 আমেরিকানরা চিন্তায় পড়লো; এরকম মারণাস্ত্রের আবিষ্কার যদি সত্যিই হয়, তাহলে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে যাবে! যদিও তখন পর্যন্ত টেসলা তার আবিষ্কার সম্পর্কিত কিছুই প্রকাশ করেননি, তাও তার মৃত্যুর পর আমেরিকান সরকার বেশ সতর্ক হয়ে গেলো। তাদের ছিলো একটাই চিন্তা, যদি সত্যিই টেসলা এমন কিছু আবিষ্কারের পরিকল্পনা করে থাকেন আর এ আবিষ্কারের নকশা যদি প্রতিপক্ষের হাতে কোনোমতে পড়ে, প্রায় জিতে যাওয়া যুদ্ধের কন্ট্রোল হাত ফসকে যাবে! তাই তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রুমের যেখানে যা কাগজপত্র পাওয়া গেলো, সব ধ্বংস করা হল।
১৯০৮ সালের ৩০ জুন, সকাল ৭:১৭ মিনিটে  সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের উত্তর-পশ্চিমের দুর্গম পার্বত্য এলাকা টাঙ্গুস্কা নদীর কাছে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার এ এলাকায় জনবসতি প্রায় শূণ্য। ধারণা করা হয় যে ঐ স্থানের সমুদ্র সমতল থেকে ৫-১০ কিমি উপরে বায়ুমণ্ডলে মহাশূন্য থেকে আসা কোন বৃহৎ উল্কা বা ধূমকেতুর সাথে বায়ুর সংঘর্ষের ফলেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কিন্তু  কী কারনে বা কীভাবে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছিল তা আজও রহস্য। এটা এখন পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরস্থিত বায়ুমণ্ডলে ঘটা সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ। যদিও এই বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থল বায়ুমণ্ডলে ছিল কিন্তু ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব কম ছিলনা। এই বিস্ফোরণের শক্তি ছিল হিরোশিমার পারমানবিক বোমার চেয়ে ১০০০ গুন বেশী। এ বিস্ফোরণ ঐ স্থানের আশেপাশের ২১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আনুমানিক ৮ কোটি গাছকে মাটির সাথে শুইয়ে দিয়েছিল। আশেপাশের অধিবাসীদের কথা অনুযায়ী প্রথমে তারা আকাশে একটি সূর্যের মত উজ্জ্বল নীলাভ আলোর রেখা ছুটে যেতে দেখে । এর ১০ মিনিট পর ঐ স্থানে উজ্জ্বল আলোক শিখা দেখতে পায় এবং এর সাথে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। শব্দের তীব্রতা (শক ওয়েভ) এতই ছিল যে তা ঐ স্থান থেকে ৩০০ কিমি দূরের মানুষকেও শক ওয়েভের ধাক্কায় ফেলে দিয়েছিল। এক স্মৃতিচারণায় জানা যায় - ''সে দিন আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় উত্তরদিকে মুখ করে চেয়ারে বসেছিলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম উত্তরের আকাশ চিরে দুই ভাগ হয়ে গেল। সে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল আগুন। সারা উত্তর দিকের আকাশের পুরোটা জুড়ে আগুন আর আগুন। তা থেকে আসছিল প্রচন্ড তাপ। মনে হল আমার গায়ের শার্টে আগুন লেগে গেছে। খুলে ফেলতে চাইলাম শার্ট। এ সময় এল প্রচন্ড শব্দ। ছিটকে পড়লাম চেয়ার থেকে কয়েক মিটার দূরে। গরম বাতাসের হলকা ঘিরে ধরল এলাকাকে। কেপে উঠল মাটি। কিছুক্ষন জ্ঞানহীন পড়ে রইলাম মাটির উপরে, মনে হচ্ছিল ছিটকে আসা পাথরের চাঁই মুহুর্তে এসে পিষে দেবে আমাকে। কিছুক্ষন পর আবিস্কার করলাম বেঁচে আছি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষেত খামারের ফসল, এলাকার অনেক বাড়ী ঘরদোরের চুর্নবিচুর্ন কাচের জানালা, ছাদ ইত্যাদি।''
টেসলা চেয়েছিলেন ওয়্যারলেস ইলেকট্রিসিটির সাহায্যে মানে, কোনওরকম তার ছাড়াই বহু দূরে ইলেকট্রিসিটি বিম ছুড়ে শত্র“পক্ষের বিমান ধরাশায়ী করতে। সোজাসুজি ২০০ মাইল দূর পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবে এই বিম, চারদিকে ছড়িয়ে যাবে না। ডেথ রে তৈরি করতে যে যন্ত্রের কথা বলেছিলেন টেসলা, সেটা ছিল খুব সম্ভবত এক ধরনের পার্টিকল অ্যাকসিলারেটর। তবে শেষ পর্যন্ত তার এই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। অনেক গবেষক বলেন, টাঙ্গুস্কার বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পেছনে রয়েছে টেসলার ডেথ রে এক্সপেরিমেন্ট। খুব সম্ভবত পরীক্ষা চালানোর সময় তার ডেথ রে নির্দিষ্ট দূরত্বের চেয়েও দূরে পৌঁছে আঘাত হেনেছিল সাইবেরিয়ার ওই অঞ্চলে। সত্যিই কি টেসলা তৈরি করে ফেলেছিলেন তার ডেথ রে মেশিন?

এই টাঙ্গুস্কার ঘটনা  আর ফিলাডেলফিয়ার জাহাজের রহস্য আজও পৃথিবীর সেরা অমীমাংসীত রহস্যের মধ্যেই পড়ে ! দুটোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন টেসলা ! তাঁর কার্যকলাপ এতোটাই গড লেভেলের ছিল যে নানা অদ্ভুতুড়ে ব্যাপারে তাঁর নাম জড়াবেই !

আসলে আমার বক্তব্য টেসলাকে নিয়ে নয় ! তাঁকে আর আজব ঘটনাগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করব! এই পোস্ট মূলত আমার মারাত্মক প্রিয় ছবি 'ড্য প্রেস্টিজ' নিয়ে! টেসলা ঘটনাচক্রে এ ছবির এক পার্শ্বচরিত্র! কিন্তু তাঁর আবিষ্কার নিয়েই সারা ছবিজুড়ে টেনশন চলেছে !
অদ্ভুতুড়ে আর অলৌকিক ক্ষমতা থাকা জাদুকরদের 'প্রেস্টিজ' কোথায় ? যখন তাঁদের ট্রিকস জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায় তখনই !

দ্য প্রেস্টিজ সিনেমাটার পুরোটাই ম্যাজিক !
 দু'জন ম্যাজিশিয়ান রবার্ট অ্যানজিয়ার আর আলফ্রেড বরডেনের মধ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে।  ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে দুজনেরই দাঁত-নখ বেরিয়ে পড়ে। একসময় তাদের কম্পিটিশন প্রাণ নিয়ে খেলতে থাকে। ম্যাজিক নিয়ে খেলতে গিয়ে শেষপর্যন্ত পুরো সিনেমাই একটা ম্যাজিক হয়ে দাঁড়ায়।

শুরুতেই দেখা যায় বরডেনের শিশুকন্যার সঙ্গে জন কাটারের ম্যাজিকালোচনা। সে বলে  প্রতিটা ম্যাজিকের তিনটে অংশ থাকে- ১. দ্য প্লেজ ২. দ্য টার্ন ও ৩. দ্য প্রেস্টিজ। দ্য প্রেস্টিজ ধাপটা ম্যাজিকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই ধাপেই হারিয়ে যাওয়া কোনোকিছু ফিরিয়ে আনা হয়। দ্য প্রেস্টিজের জন্যই দর্শকরা অবাক হয়, হাততালি দেয়। অমর সংলাপ এটা !

এর পরেই ঘটতে থাকে নানান ঘটনা।  তিনচাকায় ভর করে  সিনেমা এগোয়- বর্তমান, ফ্ল্যাশব্যাক আর ডায়েরি।
বর্তমান অংশে দেখানো হয় অ্যানজিয়ারকে হত্যার অভিযোগে বরডেনের বিচার। শেষপর্যন্ত বরডেনের ফাঁসির আদেশ হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে খোলসা হতে থাকে এক সত্য, আসলে অ্যানজিয়ার মরেনি,সে জীবিত। একই সঙ্গে একটি মানুষ জীবিত আর মৃত! কীভাবে ?

স্মৃতি ও ডায়েরিতে  তাদের অতীত উঠে আসে। যেখানে এক ত্রুটির জন্য বরডেন অ্যানজিয়ারের স্ত্রীকে খুনের দায়ে মাথায় নিয়ে। সেজন্য অ্যানজিয়ার বরডেনকে শাস্তি দেওয়ার জন্য উতলা হয়ে ওঠে। সেটাই ক্রমশঃ প্রতিযোগিত হয়ে তাদের দ্বন্দ্বের মূল বিষয়ে গিয়ে দাঁড়ায়। কে কতো বড় ম্যাজিশিয়ান এটা প্রমাণের নেশায় মাতে  দু’জনে। বরডেন এক নতুন ম্যাজিকের ট্রিক নিয়ে হাজির হয়। অ্যানজিয়ার সেটা  নকল করে তার 'দ্য গ্রেট ডানটন' ম্যাজিক শো নামায়।কিন্তু এক তীব্র মানসিক অতৃপ্তি তাকে কুরে কুরে খায়, কেননা ম্যাজিকের প্রেস্টিজে সে অনুপস্থিত। তার ধারণা, বরডেন এমন এক কৌশল পেয়েছে যাতে করে সে প্রেস্টিজের স্বাদ সত্যিই পেয়ে থাকে। তার এই ভুল ধারণাই তাকে বিজ্ঞানী টেসলার কাছে নিয়ে যায়।
 টেসলা অ্যানজিয়ারকে এমন এক মেশিন দেন যা দিয়ে যেকোনো কিছুর ডুপ্লিকেট বানানো সম্ভব।

সিনেমায় তিন নারীর ভূমিকা সাংঘাতিক। একটি অ্যানজিয়ারের স্ত্রী জুলিয়া, তার সহযোগী কাম প্রেমিকা অলিভিয়া আর বরডেনের স্ত্রী সারাহ বরডেন।। আবার জন কাটার আর ফ্যালন নামে দুই ইন্টারেস্টিং চরিত্রও আছে !

আমাকে অনেকে মারতে আসবেন গল্প বলে দিচ্ছি বলে... কিন্তু এই ছবির গল্প( মূল কাহিনি ক্রিস্টোফার প্রিস্ট) লাখবার বললেও কিস্যু ক্ষতি হবে না ! ক্রিস্টোফার নোলানের ম্যাজিক এখানেই! আমি কিন্তু রিভিউ ও লিখছি না ! ভবিষ্যতে কখনো লিখব ! প্রথম দেখার পর আমি এই ছবি দেখি পরপর প্রায় দশবার ! এখনও অনেককিছুই বুঝিনি ! গল্পের মধ্যে গল্প , কনফিউশনের উপর কনফিউশন ! মাঝেমাঝেই মনে হবে এই বুঝে ফেলেছি ,পরক্ষণেই এক চুটকিতে সেটা উধাও ! প্রতি মুহূর্তে বীভৎস সব ট্যুইস্ট আবার মাঝেমাঝেই ছবিজুড়ে ক্লু ও ছড়ানো !ছবি শেষেও ধাঁধা !
এরকম ছবি বিশ্বে আর নেই ! আর হবে কিনা সন্দেহ ! গল্প বলার কি স্টাইল !কি ভাবনা ! এভাবেও ভাবা যায় !
এই ছবি যে দেখবে না অনেককিছু হারাবে !

অ্যানজিয়ার আর বরডেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন  হিউ জ্যাকম্যান এবং ক্রিস্টিয়ান বেল। বেল এর কথা তো ছেড়েই দিলাম !তিনি ঈশ্বর!কিন্তু জ্যাকম্যানও যে কত বড়ো মাপের আর আন্ডাররেটেড অভিনেতা সেটা এ ছবি দেখলে বোঝা যায় !  স্যর মাইকেল কেইন অভিনয় করেছেন জন কাটার চরিত্রে !

0 comments: