Wednesday, September 12, 2018

নাটক : বিভাজন

নাটক,pendrive,পেন-ড্রাইভ
নাটক : বিভাজন 


বঙ্গরঙ্গমঞ্চে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পূর্ব-ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনবার যজ্ঞে অগ্নিহোত্রী আজকের 'বিনোদিনী'রা....

ইতিহাসকে কখনওই কোনো 'সভ্যতার পরাকাষ্ঠা' দেখিয়ে অস্বীকার করা যায় না। শুদ্ধিক্রমে 'উন্নত' যারা আজ আর পাঁচজন খেটে-খাওয়া মানুষের থেকে 'তাদেরকে''যৌনকর্মী' বলে আলাদা চোখে দেখতে চেয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে অভ্যাস করে এসেছে, 'তাদের' অ-মানবিক চিন্তনের দুর্দিন তবে এসেই গেল। আজ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, বিকাল ৪টায় তার আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা হয়ে গেল। নাটক 'বিভাজন' -এর উদ্যোগে ও আন্তরিক উপস্থাপনায় ছিলেন 'দূর্বা' সংগঠনেরই 'কোমল-গান্ধার' নাট্যজনরা।

নটী বিনোদিনী 'যে বাংলা থিয়েটার'-এর নটী-আদর্শ, আজ তার উত্তর পুরুষ হিসেবে এই সময়ের অবনমন সত্যিই দৃষ্টিপথে ঝাপসা! বকশিক্ষিত সমাজ আজ 'যৌনকর্মী' বলে যাঁদের অসম্মান ভরে স্মরণ করে, বাংলা থিয়েটারের ঐতিহ্যের গম্বুজ গুনলে দেখা যাবে তাতে তাঁদের ভাগ কিন্তু পুরুষের মতোই আট আনা! পেশাদারি রঙ্গমঞ্চভিত্তিক অভিনয়ে যখন ভাটা পড়ে যায় তখনই অস্তিত্বের বিলোপ হতে থাকে তাঁদের। ক্রমাগত গ্রুপ থিয়েটারের ভাবনা ও ব্যাপকতা, দেশভাগ, অর্জিত স্বাধীনতার স্বাদ, বিশ্বায়ন ও আজকের চূড়ান্ত বিলাসিতা এবং স্বার্থমগ্নতা আমাদের এই পূর্ব-ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দিতে সহযোগ করে চলেছে সেই অদূর পঞ্চাশের দশক থেকে। আজকের ব্যক্তিসত্বা একভাবে যেমন নিজেকে বাদ দিয়ে অন্যকে নিয়ে বেশি(খারাপ ভাবে) ভেবে চলেছে তেমনই আবার ভাবতেই ভুলে গেছে(মানবিক ভাবে) কে তারা, কি তাদের আসল পরিচয় - মানুষ না যন্ত্র!

ফলে, আবারও সুযোগ এসেছে নিজেদের প্রমাণ করবার যে মনুষ্যত্ব এখনও সবটা মরে যায়নি। তাই আসুন, চিহ্নায়নের বদভ্যাস দূরে রেখে 'যৌনকর্মী' না মনে করে 'সমাজকর্মী'দের থিয়েটার দেখুন; কেবল করতালি আর অভিবাদন নয়, সহযোগ করুন, যাতে তারা আক্ষরিক অর্থেই সমাজের মূল স্রোতে ফেরার উপপথ খুঁজে পায়।




0 comments: