Sunday, November 18, 2018

ইস্কুলবাড়ির গল্প

   

school barir golpo



 পর্বঃ ১
                                                    #আমি _ছেলেধরা_আমি _আবার _আসবো                                                                                                 

ক্লাস ইনফ্যান্ট থেকে ফোর অব্ধি আমি যে স্কুলে পড়তাম, তার নাম রামসাধন স্মৃতি বিদ্যালয়। "এল" প্যাটার্ন এর স্কুল। সামনে ৯০° এর মত মাঠ। সামনে দিয়ে চলে গেছে বড় পিচের রাস্তা। সেটা মেইন রোডের সাথে সংযুক্ত হওয়া পাড়ার রাস্তা। তাই মাঝে মাঝে বড় গাড়িও চলতো।

তখন আমরা ক্লাস টু তে পড়ি।মাঠে কোনো পাঁচিল নেই। মাঠ টপকানো বারণ। সেদিন টিফিনের সময় আমাদের ক্লাসের ই কিছু ছেলে মেয়ে পাকামি করে সেই মাঠ আর রাস্তা টপকে "গুপ্তধনের সন্ধানে" বেরিয়ে পড়ল। স্কুলের উল্টোদিকে একটা গলি চলে গিয়েছিল, পাড়ার মধ্যে। সেখানে ছিল বড় বড় কিছু দেওদার গাছ। ছায়া ছায়া অন্ধকার আর বিড়াল ছানার ঝোপ।  সেটাই ছিল ছেলেমেয়েদের গন্তব্যের স্থল।

প্রায় ৭/৮ জনের একটা টিম  যখন সেখানে পৌঁছালো, এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে একটা ছোট্ট নয়নতারার ঝাড়ের তলায় খুঁজে পাওয়া গেল একটা চিরকূট। তাতে লেখা--

"আমি ছেলেধরা। আমি আবার আসবো"

ছেলেধরার এই চিরকূট সবার মনেই ভীতি সঞ্চার করলো। চিরকূট হাতে নিয়ে গোয়েন্দার দল দৌড় লাগালো স্কুলের দিকে! সবাই সেই চিরকূট নিয়ে জমা দিল  হেড স্যারের কাছে।

 প্রথমে টিচাররা ভ্রু কুঁচকে রইলেন খানিক্ষণ!  তারপর অফিস রুমেই  আমাদের কান ধরে দাঁড়াতে হলো, স্কুলের গন্ডী ছাড়িয়ে দূরে যাওয়ার জন্য! এত বড় গুরুত্বপূর্ণ খবর আনার জন্য শাস্তি কেন হলো, সেই আলোচনা করলাম আমরা!

ততক্ষণে সারা স্কুলেই ছড়িয়ে পড়েছে সেই খবর! কী করে যেন নানা রকম ঘটনা শোনা যাচ্ছে, কেউ বলছে, টিফিনের সময় একটা বড় কালো জিপ কে দাঁড়াতে দেখা গেছে স্কুলের মাঠের সামনে। কেউ কেউ বলছে কালো স্যুট পরা কোনো ছেলেধরাকে সেই গাড়িতে উঠতেও দেখেছে কেউ কেউ! ইনফ্যান্ট এর কোনো বাচ্চাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা - এরকম শোরগোল ও শোনা গেল! সারা স্কুল জুড়ে ভয়াবহ একটা পরিবেশ!

সত্যি ই কি কাউকে তুলে নিয়ে গেল  ছেলেধরা! আবার আসবে মানে কি পরে এসে আবার কাউকে তুলে নিয়ে যাবে!

আমাদের দাদুস্যার, যার মাথার সমস্ত চুল সাদা, বাঁশের মত লম্বা, রোগা অথচ স্ট্রং তিনি! হাতে সবসময় বেতের ছড়ি নিয়ে ঘুরছেন! শোনা যায় ওই ছড়ি তিনি আগে অনেক ছাত্র ছাত্রীর পিঠে ভেঙেছেন! তবে আমরা শুধু হাতে আর পায়েই খেয়েছি ওই ছড়ির ঘা!

 যাই হোক, দাদুস্যার  সমস্ত ক্লাসের ছুটি বন্ধ করে দিলেন! আটকে দিলেন সব ছেলেমেয়েকে।

 এদিকে গার্জেনরাও এসে দাঁড়িয়ে আছেন৷ তাদের চোখে মুখেও চিন্তা!

 স্যার নির্দেশ দিলেন, ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর অব্ধি সমস্ত ছেলেমেয়ে তাদের খাতায় লিখুক, "আমি ছেলেধরা। আমি আবার আসবো!"

তারপর সেই খাতা স্যার চেক করবেন!

সুতরাং আমরা সবাই খাতায় লিখলাম "আমি ছেলেধরা, আমি আবার আসবো"
তারপর সেই খাতা স্যার চেক করলেন!

হাতের লেখা মিলিয়ে মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্লাস ফোরের একটি বিচ্চু ছেলের সাথে হাতের লেখা হুবুহু মিলে গেলো!!

শেষ অব্ধি বোঝা গেল আসল ছেলেধরা রহস্য!

স্যার তার কান পাকিয়ে বললেন,

" তোমার এইম অফ লাইফ কি ছেলেধরা হওয়া?!"

সারা ক্লাস হো হো করে উঠল!

আমরাও ছেলেধরা ধরা পেয়েছে খবর পেয়ে ক্লাস ফোরের ঘরে গিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতে লাগলাম!

তাকে নিয়ে স্যার অফিস রুমে গেলেন!  তার গার্জেন কল ও হলো।
স্যার আমাদের শাসিয়ে দিলাম, স্কুলের বাউন্ডারি আর কখনো না পার করার জন্য!
তারপর স্কুল ছুটি হলো। প্রায় এক ঘন্টা দেরী হয়ে গেছে ততক্ষণে!


                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                      পর্ব  ২                                                                                                                             #স্কুলের #মাঠে #লাদেন                                                           

আমার তখন ক্লাস টু। টিফিনের আগের পিরিয়ড থেকেই লাস্ট বেঞ্চে কীসব গুজগুজ ফুসফুস হচ্ছিল! ম্যাম বিরক্ত হয়ে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিলেন তাদের!

তখন কে জানতো সেখানে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা চলছিল!!

সময়টা সম্ভবত শীতের ই ছিল! ছোটবেলা। দেড়টার সময় টিফিন হলো, লাস্ট বেঞ্চের সেই ছেলেরা আর ক্লাস থ্রিয়ে পড়া একজন ফেল করা দাদা স্কুলের পিছন দিকে গিয়ে লাস্ট মোমেন্ট মিটিং  করে এলো!

মিটিং এ কী কথা হয়েছিল, আমাদের জানার কথা নয়!

টিফিন শেষ হয়ে  যখন ক্লাস শুরু হলো তখন হঠাৎ ই স্কুলের পিছন থেকে বিশাল জোরে বোম ফাটার শব্দ হলো!

প্রথমে সবাই শব্দে চমকে উঠলেও বোঝা গেলো সেটা চকলেট বোম! হেডস্যার হেব্বি রেগে গেলেন! আমাদের স্কুলে একজন দারোয়ান থাকতো। শোনা যেত সে সুস্থ ছিল, কিন্তু প্রেমে দাগা খেয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিল! হেড স্যার তাকে পাঠালেন বোমারু দের খোঁজ করতে!

মিনিট খানেক বাদে কান ধরে হিড় হিড় করে টানতে টানতে সে তিন ছোঁড়াকে নিয়ে এলো!

- তোদের এত বড় সাহস তোরা ক্লাস না করে স্কুলের পিছনে গিয়ে বোম ফাটাচ্ছিস?!

তারা আমতা আমতা করে জবাব দিল, ক্লাস থ্রি এর দাদা তাদের বলেছে স্কুলের পিছনে চকোলেট বোম ফাটাতে পারলে তাদের আরো চকলেট বোম দেবে!

ছেলেগুলোর ব্যাগ সার্চ করে কিছু পাওয়া গেলনা!
তারপর ডাকা হলো সেই থ্রি য়ে লিডার কে!

লিডার এর ব্যাগ থেকে প্রায় দশখানা বোমা উদ্ধার হলো!

এখন এদের কী শাস্তি দেওয়া  যায়!!

দাদুস্যার উপস্থিত হলেন। লিডার কে হেঁকে বললেন,

"এই যে লাদেন, মোট দশাখানা বোম উদ্ধার হয়েছে! সেগুলো আপনাকেই ফাটাতে হবে! এই স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে!!"

স্কুলে  যত দাপুটে ই হোক না কেন, দাদুস্যার কে দেখে ভয় পাবেনা, এমন একজন ও নেই! হেডস্যার ও কথা বলতে পারেন না তাঁর উপরে!

লাদেন হাঁউমাউ করে কেঁদে ফেলে বললো,
"আমি ফাটাতে পারিনা স্যার!!"

- তাহলে টু য়ে বাচ্চাদের ফাটাতে বলেছিলে কেন?

- কালীপুজোয় অনেক বেশী হয়েছিল স্যার! সেগুলো ওদের দিয়েছিলাম!

স্যার কিন্তু কাউকেই ছাড়লেন না!

মাঠের মধ্যে দশটা চকলেট বোম!  ওসামা বিন লাদেন আর তার তিন শাগরেদ!

থ্রি ফোরের বাচ্চারা ওপর থেকে মুখ ঝুঁকিয়ে দেখছে!
আমরা ওয়ান আর টু 'রাও বারান্দায় বেরোনোর সাহস নেই! দরজা জানলা দিয়ে উঁকি মেরে ভিড় করে দেখছি!

মাঠে গার্জেনরা দাঁড়িয়ে দেখছেন! রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে পথচারীরা থমকে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে! সাইকেলওয়ালারা সাইকেল থেকে নেমে পড়ে তামাশা দেখছে!!

আমাদের এক বন্ধুর মা না জেনেই মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসছিলেন, স্যার তাঁকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, "দাঁড়ান দাঁড়ান! বোম ফাটবে! ওখানেই দাঁড়ান!"

হঠাৎ হকচকিয়ে গিয়ে তিনি খানিকটা দৌড় লাগিয়ে দিয়েছিলেন! তারপর আবার  ফিরলেন!

বাচ্চাগুলো তিন জন এ তিনটে বোম ফাটালো!
কিন্তু লাদেন এর ক্কী ভয়! সে আর ফাটাতে পারেনা! শেষ অব্ধি চারখানা বোম সে ফাটালো!

স্কুলের মাঠ ধোঁয়ায় ধোঁয়া! চারমূর্তি ভয়ে আর ধোঁয়ায় ভ্যাবাচাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে!

স্যার বললেন,  "শিখেছ? আর কোনোদিন বেশি হবে কালীপুজোর চকলেট?"

তখন সারা মাঠ, সারা স্কুল মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসছে!

লাদেন ঘাড় নাড়ল।

ব্যস! তারপরেই সারা স্কুলে, সারা পাড়ায় সে লাদেন নামে বিখ্যাত হয়ে গেল! আসলে নামটাই তার ভুলে গেল সবাই!! লজ্জায় সে দুষ্টুমি করাই ছেড়ে দিল! স্কুলে আর কোনো খারাপ রিপোর্ট তার পাওয়া গেলোনা!

এখন লাদেন কলেজ পাশ করে গেছে! কালীপুজোয় এখন তার চকলেট বোম বেশি হয় কিনা জানিনা,  তবে লাদেন এখন বেশ শান্ত ছেলে হয়ে গেছে, কিন্তু তার "লাদেন" নামটি  আজও ঘোচেনি!!

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                       পর্বঃ ৩
#ভুঁদুর #গল্প


ধরা যাক তার নাম মৌঋতা বোস। আসল নাম যাই হোক, 'ভুঁদু' নামেই সে পরিচিত। ক্লাস থ্রি আর ফোর এই দুটো বছর মাত্র সে আমাদের সাথে পড়েছিল।

তার আগে সে পড়ত ক্যানিং নদী পেরিয়ে '"হাড়ভাঙা" এলাকার একটি স্কুলে। এমনিতেই সেই স্কুলটি দুনিয়ার বিচ্চু বদমাশদের বোর্ডিং স্কুল হিসেবে কুখ্যাত ছিল! অতিষ্ট বাবা মায়েরা বাচ্চাদের সেই স্কুলে দিয়ে এসে শান্তি পেতেন! অঞ্চলটির অনন্য নামকরণও বোধহয় ওই 'হেড়োভাঙ্গা' স্কুলের দৌলতেই!

আমাদের ভুঁদু সেই স্কুল থেকে পালিয়ে, অর্থাৎ স্কুলের উঁচু পাঁচিল ডিঙিয়ে, জোয়ারে পুষ্ট সুন্দরবন এলাকাগামী নদী সাঁতরিয়ে, এপারে এসে, ট্রেন ধরে কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছেছিল মাত্র সাত আট বছর বয়সেই!

তারপর তার বাবা মা তাকে আমাদের স্কুলে এনে ভর্তি করে দেন!

তার অত্যাচার-এর সব কিছু এতদিন পরে সত্যিই আমার আর বিশেষ মনে নেই! লোকের জামা কাপড়ে পেন দিয়ে লিখে দেওয়া, পেনের রিফিল খুলে চিবিয়ে খেয়ে ফেলা, হোম ওয়ারকের খাতা লুকিয়ে রাখা, হিংসুটেমি ইত্যাদি স্বাভাবিক বদবুদ্ধি তো ছিলোই, তবে আসলে সে ছিল অত্যন্ত বোকা আর ভীতু! ফলত সে সারা ক্লাসের নামেই টিচারদের কাছে সারাদিন নানা রকম নালিশ করত আর হাস্যকর নানা কাজ করে যেত। আর ক্লাসের বাকিরাও তাকে ভীষণ উত্যক্ত করতে ছাড়তোনা।

ক্লাস ফোরে একদিন তার জামার মধ্যে কয়েকজন ফড়িং ধরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল!
আর তাকে ভয় খাইয়ে দিয়েছিল যে আরশোলা ঢুকেছে তার জামার মধ্যে!

ক্লাসের মধ্যে তার চীল চিৎকার আর ভয়ানক নাচ শুরু হয়ে গেল! আমরা প্রথমটা বুঝতেই পারিনি কী ঘটছে! তারপর যখন চীৎকার শুনে 'পিপিলীকা ম্যাম' ক্লাসে এলেন,  ততক্ষণে ভুঁদু উপরের টিউনিক খুলে ফেলে ক্লাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।

আর তাকে মাঝখানে রেখে হো হো করে যাচ্ছে সারা ক্লাস!

স্কুলের স্টোর রুমে,  একটা বড় কার্টুন বা পিচবোর্ডের বাক্স রাখা ছিল। কয়েকদিনের জন্য সেই দরজাটা খোলা থাকায় আমরা তিন চার জন একটা ভাল খেলা পেয়েছিলাম।  সেই বড় বাক্সটার মধ্যে বসতে গিয়ে পড়ে যেতাম। ভিতরটা শোলায় ভরতি থাকত বলে আমাদের লাগতোনা। হাল্কা বাচ্চা তখন।

আমাদের খেলা দেখে ভুঁদু একদিন খেলতে এলো! বাক্সটার ঢাকনা মুড়ে দিয়ে তার উপর বসতে হবে, আর বসলেই ঢাকনা খুলে গিয়ে সাঁ করে সোজা বাক্সের পেটের ভিতর!

ভুঁদু মোটাসোটা মেয়ে! মজা তো নিতেই পারলোনা! যেই না বসতে গেল, বাক্সের মধ্যে গলে গিয়ে একদম মাথা নীচে পা উপরে হয়ে ভিতরে ঢুকে গেল!

ব্যস সেই রকম অবস্থায় না পারছে বেরোতে,  না পারছি আমরা তিন জনের মিলে ওকে টেনে তুলতে।

 সেই অবস্থায় আঁ আঁ করে ও চেঁচাতে লাগল! টিচাররা যখন দৌড়ে এলেন, তখন বাক্সের পেটের ভেতর থেকে শুধু দুটো মোজা পরা পা দেখা যাচ্ছে।

তার আগে ওকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ওর পা ধরে টেনে টেনে জুতো দুটো খুলে ফেলেছি আমরা।

স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের উপর দিয়ে তিরস্কারের কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেল, সে নিয়ে আর কিছু লিখছিনা!

আর একবার স্কুল আসার পথে ভুঁদু হাই ড্রেনে পড়ে গেছিল! স্কুলের একটু আগেই হাইড্রেন থেকে নোংরা তুলে রাখাও ছিল। সেসবেই পা স্লিপ করে ও ড্রেনের ভেতর ঢুকে যায়!

সেদিন আবার বাড়ি নিয়ে গিয়ে ওর মা ওকে ফ্রেশ করে সেকেন্ড পিরিয়ড নাগাদ স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সেদিন ই টিফিনের সময় স্কুলের টিউবওয়েলের পাশে পিছল জায়গায় পা স্লিপ করে বেচারি ফের একবার পড়ে যায়!

কী কারণে যেন সেই অবস্থায় ওকে আর বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়নি, তাই অচ্ছুৎ এর মত একধারে একটা বেঞ্চে বসেছিল ও।

ভিতরে ভিতরে সবাই হাসছিল। কিন্তু ক্লাসের এক ছেলে প্রকাশ্যে এতটাই দাঁত বের করছিল যে ভুঁদু  উঠে গিয়ে তাকে এমন এক ঘুষি মারে যে সে পরের তিন দিন আর স্কুলে আসতে পারেনি। আসলে জামার মধ্যে  ফড়িং ঢোকানোর পিছনেও এই ছেলেটির হাত ছিল।

অবশ্য ফোরের অ্যানুয়াল পরীক্ষার আগে সেই ছেলেটিরই প্রেমে পড়ে তাকে চিঠি দিয়েছিল ভুঁদু!!  অর্থাৎ শত্রুতা টারন্ ড  ইন্টু প্রেম! সে যাক্, এতদিন পর আর সে বিষয়ে আলোকপাত না করাই ভালো।

প্রথম যখন ও স্কুলে আসে থ্রি-তে, কী কারণে ক্লাসের মধ্যেই ও একবার এক সহপাঠী কে "খচ্চর" বলেছিল!

কথাটা 'পিপিলীকা ম্যামে'র কানে ওঠায় উনি ওকে বুঝিয়েছিলেন, খচ্চর হল গাধা আর ঘোড়ার সংমিশণে তৈরি পাহাড়ি এলাকার এক প্রাণী।
সেই নিয়েও আমাদের কী আলোচনা! এত সাহসী মেয়েও হয়! থ্রি তে পড়ে, ক্লাসমেট-কে 'খচ্চর' বলছে!

আর একবার 'দাদুস্যার' ভুঁদুর হাতে ছড়ি দিয়ে মেরেছিলেন বলে,  স্কুল ছুটির পর ভুঁদু ওর মায়ের কাছে বায়না ধরেছিল তক্ষুনি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ডায়েরি করতে হবে স্যার কেন ওকে মেরেছেন!

লোকজনের টিফিন চুরি যেত মাঝেমাঝেই। প্রায় ই দেখা যেত সেটা ভুঁদুর ই কাজ।

স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে পতাকা উত্তোলনের জন্য একটা ঘরে সব ফুল জড়ো করা হতো, ভুঁদু সেই সব ফুল একবার ব্যাগে পুরে বাড়ি নিয়ে চলে এসছিল। তখন ফুলের খোঁজ খোঁজ পড়ে গিয়েছিল যে এত ফুল কোথায় গেল! অনেক খুঁজেও না পাওয়া গেলে, আবার ফুল আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে জানা গিয়েছিল যে কাজটা ভুঁদুর ই!

চক চুরি তো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা! অবশ্য একদিন গার্জেন মিটিং এর পর চারখানা চক চুরি যাওয়ায় সবাই যখন ভুঁদুকেই দূষছিল, তখন জানা যায় যে একজন গারজেন ই মিটিং শেষে চকগুলো আঁচলে পুরে নিয়েছেন!

ক্লাস ফাইভে অন্য স্কুলে চলে যাওয়ায় ভুঁদুর সাথে দেখা হয়নি। তবে শুনেছিলাম যে ওকে আবার একটা হোস্টেলে দিয়ে আসা হয়েছিল আর আবার ও সেখানকার দারোয়ানকে ঘুষি মেরে পালিয়ে এসেছে!

তবে ছেলেবেলায় ওকে হিংসুটে মনে হলেও এখন এসব ভাবতে ভাবতে ওকে খুব ইম্ম্যাচিওর একটা বাচ্চা মনে হচ্ছে! ভুঁদুর সাথে দেখা তো হয়নি বহুযুগ!

তবে ওর কথা আমার মনেও পড়তোনা যদি না পুজোর সময়ে হঠাৎ এক পুরোনো বান্ধবীর মুখে শুনতাম,
 "ভুঁদু এখন আর ভুঁদু নেই রে! ভুঁদু এখন মডেলিং করছে!!"

                                                                                                                                                          অদিতি রায়।।                                                                                                                                               #pendrive


0 comments: