Saturday, February 16, 2019

পায়েস




সদ্য মা-হারা সৃজার মনটা যখন জন্মদিনের পায়েসটার জন্য বিষন্নতায় ভরে উঠেছিল ঠিক তখনই ওর পাঁচ বছরের বন্ধু আর দুই বছরের প্রেমিক শৌনক নিজে হাতে রান্না করে পায়েসের বাটি ধরেছিল ওর মুখের সামনে| তারপর প্রায় জোর করে নিয়ে গিয়েছিল গঙ্গার ধারে, সেখানে খোলা আকাশের নীচে বাতাসের গানে আর জলের ঢেউ-এ নৌকায় ভাসতে ভাসতে কেক কেটেছিল সে| রাতের চাঁদ আর তারাকে সাক্ষী করে সৃজার ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে প্রতি জন্মদিনে পায়েস রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিল শৌনক| আর জন্মদিনের উপহার হিসেবে নিজের বাইকে রাতের কোলকাতা ঘুরতে নিয়ে গেছিল সে|দুঃখের সাগর ছেড়ে ক্ষনস্হায়ী খুশির জোয়ারে গা ভাসিয়েছিল সৃজা| ঠিক সেই মুর্হুতেই একটা দ্রুতগামী ট্রাক এসে পিষে দিয়েছিল শৌনকের অতি প্রিয় বাইকটা| শঙ্কটজনক অবস্হায় হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল দুই জনেই| টুকরো টুকরো হয়েছিল সৃজার দেহের হাড়গুলো , চোখের আলো সারাজীবনের মতো হারাল সে আর পরবর্তী তিন দিন যমের সাথে লড়াই করে হার মেনেছিল শৌনক| অবশেষে ডাক্তাররা শৌনকের চোখের আলোয় আলোকিত করেছিল সৃজাকে|

কথাগুলো মনে পরতেই চোখের কোনটা ভিজে উঠল সৃজার| আজ পুরো একবছর হল সেই অভিশপ্ত অ্যাকসিডেন্টের| হটাৎ যেন মনে হল মৃদু বাতাস এসে কানে কানে বলে গেল, " যা পায়েসটা রান্না কর, আমি তো সাথেই আছি|"

চালে-দুধে মিশিয়ে অপটু হাতে পায়েস রান্না করে মুখে দিতেই অবাক হল সৃজা| ঠিক যেন শৌনকের রান্নার স্বাদ| রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে রজনীগন্ধার মালা ঝোলানো ফটোটার দিকে চোখ পরতেই সৃজার মনে হল শৌনক যেন খুশিতে ঝলমলিয়ে উঠে বলছে, "কি রে আমার কথাটা রাখলাম তো?"

(সমাপ্ত)                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                নীলাঞ্জনা

0 comments: