Friday, March 1, 2019

পড়াশুনো


পড়াশুনো
পড়াশুনো


"বাবা, আমি আর্টস্ নিতে চাই|", কৃষানু কথাটা বলতেই যেন মুখার্জী বাড়ীর ড্রয়িংরুমে বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটল|
"কী বলতে চাইছ তুমি", কড়া গলায় বললেন কৃষানুর বাবা বিনয় মুখার্জী|
-"আমি আর্টস্ নিয়ে পড়াশুনা করতে চাই | তাই রেসাল্ট বেরনোর আগে আমি আর সায়েন্সের টিউশনি পড়তে যাব না|"
-"নিজের জীবনটাকে এভাবে শেষ না করলেই কী নয়? আর্টস্ পড়ে আজ-কাল কিছু হয় না বুঝেছ| আর পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে আমার মান-সম্মান কোথায় দাঁড়াবে ভেবে দেখেছ?"
-" বাবা, আমার সাইন্স পড়তে ভালো লাগেনা | আমি অঙ্কের ওতো বড়ো ক্যালকুলেশন বুঝতে পারি না, ফিজিক্স আমার মাথার উপর দিয়ে যায় আর কেমিস্ট্রির রিঅ্যাশনের ভারে আমার মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায়|", কাঁদ কাঁদ গলায় বলে উঠল কৃষানু |
-"পড়াশুনো করতে শুরু করলে সব ঠিক হয়ে যাবে | ও সব ফাঁকিবাজী আমাকে দেখিও না | তুমি খুব ভালো করেই জান এটা আমাদের মুখার্জী বাড়ীর ট্রাডিশন| আমাদের বংশে জন্মে আর্টস্ পড়া যায় না| আমি ইঞ্জিনিয়ার, তোমার দাদু ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন| তোমার বড় পিসি চাইল্ড স্পেশালিষ্ট, ছোটো পিসি গাইনোকোলজিস্ট, আমরা সবাই সাইন্স পড়েছি |  এমনি এমনি কারো ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে না| বুঝতে পেরেছ আশা করি?", ঠান্ডা গলায় বলে ওঠেন বিনয় বাবু|
-" কিন্তু..."
-"আর কোনো কিন্তু নয় তুমি সাইন্স পড়বে আর..." স্ত্রী মিনতি দেবীর চোখে চোখ পড়তেই থেমে যান তিনি |
মনে পড়ে যায পাঁচ বছরের আগের একদিন | ঠিক এভাবেই বিনয়বাবু নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিলেন বড় ছেলে ঈশানের উপর | রাশভারী বাবার মুখের উপর সেদিন প্রতিবাদ করতে পারনি ঈশান | কিন্তু মা মিনতী দেবীকে বলেছিল তার অসহায়তার কথা | সেদিন কিছুই করতে পারেননি তিনি, চুপচাপ পড়াশোনার নামে ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে দেখেছিলেন তার বড় ছেলেকে| আর সে ইঁদুর দৌড়ে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে পিছিয়ে পরতে পরতে অবসাদের অন্ধকার জগৎ তে ডুবে গিয়েছিল| যার পরিনতি হয়েছিল মৃত্যু | হ্যাঁ ঈশান সুইসাইড করতে বাধ্য হয়েছিল |
-"বাবা শুনছ...", কৃষানুর কথায় বাস্তবে ফিরে এলেন বিনয় বাবু |
-"হ্যাঁ", বলে একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে ছেলের কাঁধে হাত রাখলেন তিনি |                                                                                                                                                                                                                  লিখছেন - নীলাঞ্জনা

0 comments: