Saturday, March 2, 2019

মধুরেণ সমাপয়েৎ




 বাড়ির পরিবেশটা থমথমে হয়ে আছে। এই নিয়ে সাত নম্বর সম্বোন্ধটাও ভেঙে গেলো। সেই এক অবস্থা, প্রতি বারের মতো ছেলের বাড়ির লোকের সামনে গিয়ে বসতে হলো মোহর কে, আর প্রতি বারের মতোই এক প্লেট মিষ্টি, চা, লুচি, তরকারি সব পেট পুরে খেয়ে,  জানিয়ে গেলো, " মেয়ের গায়ের রঙটা না একটু চাপা, তাই...... " । ভালো লাগেনা মোহরের , বারবার এই এক অপমানজনক ঘটনা ওর আর ভালো লাগেনা।  বাবা, মার শুকনো মুখ, বৌদির কটূক্তি, বোনের ঠেস মারা কথা,  মোহর আর সহ্য করতে পারছেনা। বোন পূর্বা, মোহরের থেকে পাঁচ বছরের ছোট, বিরক্ত হয়ে উঠলো, মোহরের ওপর, " তুই কেন এরকম কালো হয়ে জন্মালি দিদি? তোর জন্য তো আমারও বিয়ে হচ্ছে না। বাবা মার কিছু বস্তাপচা মানসিকতা, বড় মেয়ের বিয়ে না দিয়ে ছোট মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবেনা।ব্যস, আর কি, বড় মেয়েরও বিয়ে হবে না, আর আমারও না। তোর মতো একটা কাউকে জোগাড় করতে পারলি না, এতদিনে? নিশ্চয়ই রাজপুত্র আসবেনা তোর জন্য?" পাশ থেকে বৌদি টোন কাটলো, " তোমার জন্য কষ্টও হয় পূর্বা, তোমার কপালে মনে হচ্ছে বিয়ে নেই, ওই দিদিই তোমার কুন্ডলিতে কালসর্প যোগ গো।" জানলার পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিলো মোহর তার দুচোখে দিয়ে জলের ধারা। এই কথাগুলো বহুদিন ধরে শুনছে, তাও যে কেন এখনও ওর এতো কষ্ট হয় কে জানে। বিয়েতো ও করতেই চায় না , শুধু শুধু মা, বাবা ওর জন্য পাত্র খুঁজে চলেছে। এমন সময় মোহরের মা, মলিনা দেবী ঘরে ঢুকলেন, " তোমরা এবার থামো। যাও যে যার ঘরে। "
" ঘরে না, এবার ঘর ছেড়ে, বাড়ি ছেড়ে আমার যাওয়ার সময় এসেছে। " মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো পূর্বা, " দ্যাখো মা, দিদির বিয়ের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছিনা। তপন চাকরিটা পেয়ে গেছে। দুবাই চলে যেতে হবে ওকে। ওর বাব মা র
ইচ্ছে তপন একবারে বিয়ে করে আমাকে নিয়ে দুবাই যাক। তোমরা যদি রাজি থাকো ভালো, না হলে আমি কিন্তু বাড়ি থেকে চলে যাবো, রেজিষ্ট্রি ম্যারেজ করে নেব। " মা কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই পূর্বা গটগট করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। পিছন পিছন বৌদিও।
" অনেক হয়েছে, আর ন্যাকা কান্না কাঁদতে হবেনা। আমাদের কাঁদিয়ে হচ্ছে না ? এবার খেয়ে এসে আমাকে উদ্ধার কর। " মলিনা দেবী বিরক্তির গলায় বললেন।
" মা, তুমিও কি আমাকেই দোষ দেবে? "
" না, দোষ তোমার না, দোষ তো আমার, তোর মতো কালো মেয়েকে জন্ম দিয়ে মস্ত বড়ো অন্যায় তো আমি করেছি। কপাল ভালো পূর্বাটা তোর মতো হয়নি। "
" আমি কি করবো মা, বলে দাও আমাকে। "
মলিনা দেবী কঠিন স্বরে বললেন, " পারলে মরে আমাদের মুক্তি দাও। "
"মা....... " শুভর চিৎকারে চমকে উঠলো দুজনেই। শুভ হলো মোহর আর পূর্বার দাদা। এই পুরো বাড়িতে শুভ একমাত্র মানুষ যে মোহরকে অসম্ভব ভালবাসে, মোহরকে বোঝে, ওর মনের খবর রাখে। অফিস থেকে ফিরে সোজা মোহরের ঘরেই রোজ আসে শুভ, আজও তার ব্যতিক্রম হলোনা। ঘরে ঢুকতে গিয়ে মলিনা দেবীর বলা শেষের কথা গুলো শুনতে পেয়ে রেগে চিৎকার করে ওঠে শুভ।
" তোমার কি মাথাটা খারাপ হয়ে গেলো মা? তুমি বোনাই কে কেন এরকম ভাবে বলছো? ( শুভ মোহরকে বোনাই ডাকে)বাবা বায়রে মুখটা হাঁড়ি করে বসে আছে, এখানে তুমি এসব আজেবাজে কথা বলছো, কেন কি হয়েছে? সম্বন্ধই তো ভেঙেছে। এর থেকেও ভালো সম্বন্ধ আসবে বোনাই এর জন্য।" বৌদির এরমধ্যে ফোন করে দাদাভাইকে খবর দেওয়াও হয়ে গেল? নিজের মনে মনে ভেবে হাসলো মোহর।
এবার মলিনা দেবী কেঁদে ফেললেন, " বাজে কথা কি আর এমনি এমনি বলি রে শুভ, আমি তো মা, আমার কি কষ্ট হয়না ওকে বাজে কথা বললে? তিরিশে পা দিলো গত মাসে। এরপর কে ওকে বিয়ে করবে বল। পূর্বা তো বলেই দিলো আমরা ওর বিয়ে এবার না দিলে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করবে। তপন ভালো চাকরি পেয়েছে। বিয়ে করে একেবারে দুবাই চলে যাবে। তপনের বাবা মা রও তাই ইচ্ছা। তুই বল, আমি কি করে নিজের মাথাটা ঠান্ডা রাখতে পারি? তোর বাবার দিকে তাকিয়ে দেখেছিস ভালো করে? চিন্তায় চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে মানুষ টা। "
" সব দেখছি, সব বুঝছি মা। কিন্তু বোনাই এর কোথায় দোষ তুমি বলো। " শুভ এগিয়ে গিয়ে মোহরের চোখের জলটা মুছিয়ে দিল। " সবাই ওর বায়রেটা দেখে মা, যে ওর ভিতর টা দেখে ওকে আপন করবে সেই বুঝবে কিরকম খাঁটি সোনা সে পেয়েছে।"
" বাঃ, খুব ভাল, তোর মতো দাদা থাকলে হলো, ওর বিয়ে। " রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলেন মলিনা দেবী।
"কাঁদিস না  বোনাই। তুই কাঁদলে আমার যে বড্ড কষ্ট হয় রে। "
শুভ জড়িয়ে ধরল মোহরকে। " দাদাভাই, আমার জন্য মা, বাবা, বোন, বৌদি সবার কত জ্বালা বলতো। আমি যে কি করি, বুঝে উঠতে পারছিনা। কোথাও দূরে চলে যাবো? তাহলে আমার কালো ছায়া এই বাড়ির লোকগুলোর ওপর থেকে সরে যাবে। একে মেয়ে সন্তান, তার ওপর কালো, এরকম জন্মের থেকে মরে যাওয়া ভালো, দাদাভাই। "
" খবরদার বোনাই, এসব কথা আর কখনও বলবিনা বলে দিলাম। তুই কত শিক্ষিত, কত ভালো গান করতে পারিস, রান্না করতে পারিস। সবার বিপদে ঝাঁপিয়ে পরিস, উপকার করিস। তোর ভালো না হয়ে পারে? আর দেখা? কালো তো কি? তাকা আয়নার দিকে,এত সুন্দর নাক, চোখ, মুখ আছে কারোর? তুই হলি আমার  ব্ল্যাক বিউটি। একদম মন খারাপ করবি না, আমি আছি তো তোর পাশে। চল এবার, খুব ক্ষিদে পেয়েছে।" মোহরকে জোর করে নিয়ে গেল শুভ, মোহর না করলো না, কারন বোনাই কে ছেড়ে যে দাদাভাই খাবেনা।

হালকা আকাশি রঙের লিনেন শাড়ি টা পড়লো মোহর। কোমড় ছাড়ানো এক ঢাল চুলে বিনুনি,  চোখে কাজল, ছোট্ট টিপ, ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিক, এক হাতে ঘড়ি, ব্যস, এই টুকু। আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখলো মোহর, নাহ্, একদম ফেলে দেওয়ার মতো ও নয়।হাইট টাও বেশ ভালো। পূর্বার মতো গায়ের রঙ টা পেলে আজ ওকে এতো অপমান আর সহ্য করতে হতোনা। বায়রের ঘরে বড় দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে নটা বাজলো। নিজের চিন্তাভাবনায় লজ্জা পেলো মোহর। হেসে ফেলল। কাঁধে ব্যাগটা নিয়ে বাবার ঘরে এলো। মোহরের বাবা বাদল বাবু শান্ত, চুপচাপ প্রকৃতির মানুষ। রিটায়ার করেছেন, ভালোই পেনসন পান। এখন ওনার জীবনে একটা সাধ, মেয়েদু়টোকে ভালো ঘরে বিয়ে দেওয়া। ইদানিং তাই মোহরকে নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন।
" কি করছ, বাবা? "
" কিছু বলবি? আয় কাছে আয়। "
মোহর বাবার পাশে গিয়ে বসলো। " বাবা, আমার দুটো কথা ছিল, রাখবে? "
" কি কথা? "
" বাবা, আমার বিয়ের আর চেষ্টা তোমরা করো না। যদি হওয়ার হয় হবে, না হলে হবেনা। কিন্তু বারবার সং সেজে আর অামি অপমানিত হতে পারছিনা বাবা, তোমাদেরও আর হেনস্তা হতে দেখতে পারছিনা। "
" কি বলছিস, মোহর, বিয়ে করবিনা তো, সারাজীবন তুই কি নিয়ে থাকবি? আমি, তোর মা কি সারাজীবন বাঁচবো? তোকে কে দেখবে ?"
" আমাকে কারোর দেখতে হবে না বাবা। তুমি আমাকে এত লেখাপড়া শিখিয়েছ। আজ আমি সুপ্রতিষ্ঠিত,   কলেজের লেকচারার,সবই তো তোমাদের আশীর্বাদ। আমি ভালো আছি, আমাকে এরকমই থাকতে দাও,প্লিজ। মাকে তুমি বুঝিয়ে বলবে। আর একটা কথা তোমায় রাখতে হবে। আমি তপন কে ফোন করে ওর বাবা মা কে নিয়ে আসতে বলেছি। তুমি আর মা ওদের সাথে কথা বলে ডেট ঠিক করে নাও। পূর্বা আর তপনের বিয়েটাতে আর দেরী করোনা। ঠিক আছে? এবার আমি আসি? এগারোটা থেকে ক্লাস। " বাদল বাবু চুপ করে শুনলেন, " যা ভালো বুঝিস,  কর।" ঘর থেকে বেড়োতে গিয়ে মোহর দেখলো, শুভ আর পূর্বা দাঁড়িয়ে। শুভর দিকে তাকিয়ে হাসলো, মোহর। বোনের গালটা টিপে দিলো, " কি রে, খুশি তো?"  রাস্তায় বেড়িয়ে ট্যাক্সি ধরলো মোহর, আজ খুব হালকা লাগছে ওর। এতদিন যেন ভারী কিছু মাথার ওপর চাপিয়ে ঘুরছিল। আজ ভারমুক্ত হলো। ব্যাগ খুলে ভিতর থেকে একটা ফটো বার করলো, অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো ফটোটার দিকে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার ঢুকিয়ে রাখলো ব্যাগে।মোহরের মনের সিন্দুকে থাকে এই ফটো।

 মোহর ইংলিশের প্রফেসর। স্টুডেন্টরা ওকে খুব ভালোবাসে, সম্মান করে। এত সুন্দর করে মোহর পড়ায় যে ওর কোন ক্লাস কেউ মিস করেনা। ক্লাস নেওয়া হয়ে গেলে ফাঁকা ক্লাসরুমে চুপ করে বসে থাকলো মোহর। আজ কে প্রিয়দার কথা খুব মনে পড়ছে, কাল বারোই অগাষ্ট, এই দিন টা কি মনে আছে প্রিয়দার?   এই দিনটা কোনদিন ভুলতে পারবেনা মোহর।.......... প্রিয়, মানে প্রিয়ব্রত রায় ছিল মোহরের দাদার কলেজের বন্ধু। অবাধ যাতায়াত ছিল মোহরদের বাড়ি। মোহর তখন এম. এ পড়ছে। একটি মেয়ে তার স্বামীর মধ্যে যেসকল গুণ চায় তার সবকিছু ছিল প্রিয়র মধ্যে। মোহর প্রিয়র চোখের দিকে তাকিয়ে বেশিক্ষণ কথা বলতে পারতো না, দুর্বল হয়ে পড়ত সে। মোহরের আকর্ষণ প্রিয়র প্রতি বেড়েই যাচ্ছিল।..... সেদিন ছিল বারোই অগাস্ট,
বাড়ির সবাই জামসেদপুর, মোহরের পিসির বাড়ি গেছে। রাতে কেউ ফিরবেনা, শুধু শুভ ফিরে আসবে, পরদিন অফিস যেতেই হবে, নতুন চাকরি, কামাই করা
যাবেনা। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা বলে মোহর বাড়িতেই আছে। বায়রে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। তিনটে নাগাদ কলিংবেল বাজলো।   দরজা খুলতেই দেখলো, কাকভেজা অবস্থায় প্রিয় দাঁড়িয়ে।
" এবাবা, কি অবস্থা, তাড়াতাড়ি ভিতরে এসো।"  দরজার সামনে থেকে সরে গেল। " ছাতা ছাড়া কেউ বেড়োয়? " তোয়ালেটা প্রিয়র দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো মোহর।
" আর বলোনা, সকালে তো আকাশ একদম পরিস্কার ছিল। হঠাৎ এই দুর্যোগ।" মাথাটা মুছতে মুছতে বললো প্রিয়।
" দাদা তো বাড়ি নেই।" ইতস্ততঃ করে বললো মোহর, " বাড়িতে কেউই নেই।"
" জানি তো , তোমার পিসির বাড়ি গেছে সবাই। তুমি যে যাবেনা , সেটাও জানতাম। " সরাসরি মোহরের চোখের দিকে তাকালো প্রিয়, "কেন আমাকে ভয় করছে?"
আবার সেই দৃষ্টি, যা মোহরকে দুর্বল করে দেয় বারবার, আজকেও তাই হল। কথা ঘোরানোর জন্য  তাড়াতাড়ি করে নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে বললো, " তুমি পুরো ভিজে গেছ, প্রিয়দা, দাদার ঘরে গিয়ে চেঞ্জ করে নাও।"
নিজের ঘরে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়ালো,বুকটা কেমন যেন ধড়ফড় করছে। " কেউ বাড়িতে নেই জেনেও কেন এলো প্রিয় দা? " কিছুতেই কিছু বুঝতে পারছে না।
" মোহর,আসবো ?"
" এসো "
" তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।"
" বলো।"
" শুভর সাথে যখন প্রথম এই বাড়িতে আমি আসি, আর প্রথম যখন তোমাকে দেখি, সত্যি বলছি মোহর, তোমার ঐ চোখ দুটো আমাকে সারারাত ঘুমোতে দেয়নি। রোজ চেষ্টা করতাম এই বাড়িতে আসার, একবার তোমায় দেখার জন্য ছটফট করতাম। তোমার মনে আছে, একদিন রাত এগারোটার সময় এসেছিলাম শুভর কাছে।সারাদিনে  আসতে পারিনি ,তাই রাতে আসতেই হলো ফালতু অজুহাত নিয়ে, শুধু তোমাকে একবার দেখবো বলে।" কথাগুলো শুনতে শুনতে মোহর যেন হারিয়ে যাচ্ছিল কোন এক স্বপ্নের দেশে। হঠাৎ কাঁধে হাতের ছোঁয়া পেয়ে চমকে উঠলো, প্রিয়ব্রত মোহরের কাঁধ ধরে সামনে ঘোরালো। প্রিয়ব্রত এত কাছে, যে মোহরের মুখে প্রিয়র গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। মোহরের বুকের ভিতর এত জোরে ধড়ফড় করছে, যে নিজেই যেন সেই আওয়াজটা শুনতে পারছে,নাকের ওপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, হাতের তালু ঘেমে যাচ্ছে।
প্রিয় মোহরের থুতনিটা ধরে তুলে ধরলো, " আমি তোমায় বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি, মোহর। আমি তোমায় খুব সুখে রাখবো, খুশি তে রাখবো।"
মোহর লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিল। " তুমি রাজি হলে আমি শুভর সাথে কথা বলবো।" মোহর ভাবতেও পারছেনা, ওর কপালে এতো সুখ আছে।ছোট বেলা থেকে শুনে আসছে, কেল্টি মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র পাওয়া যাবেনা। আর আজ মোহরের মনের মানুষ টাই মোহরকে নিজের করতে চাইছে!
" কি হলো, মোহর, তুমি কি তাহলে আমায় পছন্দ করোনা?"
" না না,  আসলে আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা, যে এত সুখ আমার কপালে আছে? " মোহর হালকা হাসলো।
মোহরের কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো প্রিয়, " কাল তোমার কলেজের সামনে দাঁড়িও বারোটা নাগাদ। তোমাকে মা র কাছে নিয়ে যাবো।"
মোহরের গালে হাতটা রাখলো, " আজ আসি মোহর। আজকের দিনটা কোনদিন ভুলবোনা। আজ থেকে তুমি আমার হলে, আর আমি শুধু তোমার।" মোহর আর প্রিয় তাকিয়ে থাকলো দুজন দুজনের দিকে। ................মোবাইল টা বাজতেই যেন সম্বিৎ ফিরে পেল মোহর। অতীতের সুন্দর মূহুর্তগুলো যেন কেমন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
" হ্যালো, হুম্, মা বলো।"
" তোর কি আসতে দেরী হবে?"
" না না, আমি তিনটের মধ্যে চলে যাবো।"
" তপন ফোন করেছিল, চারটে নাগাদ আসবে বলেছে। ওরা একেবারে ঠাকুরমশাই নিয়ে আসছে, আজকেই দিন ঠিক করে পাকা কথা বলে, পূর্বাকে আশীর্বাদ করে যাবে বলেছে। "
" বাহ্, এটাতো ভীষন ভালো খবর।"
" তুই তাড়াতাড়ি চলে আসিস।" ফোনটা কেটে হাসলো মোহর। পূর্বা ওর মনের মানুষকে পেতে চলেছে, এর থেকে ভালো কিছু হতেই পারে না। কবজিটা ঘুরিয়ে ঘড়ির টা দেখলো, দুটো বাজে। আজ আর কোন ক্লাস নেই, এখন বেড়িয়ে গেলেই হয়। কলেজের বায়রে  মিষ্টির দোকান থেকে তিন চার রকমের মিষ্টি নিয়ে ট্যাক্সি তে উঠলো মোহর।

"যাক্ বাবা ভালোয় ভালোয় সব মিটলো।" ডাইনিংটেবিলে বৌদির প্রথম উক্তি। বাবাকে অনেকদিন পর খুব নিশ্চিন্ত দেখাচ্ছে দেখে মোহর খুব খুশি। পূর্বা তো প্ল্যান করেই যাচ্ছে কি কিনবে, কোথা থেকে কিনবে। মলিনা দেবী খুশি মনে সবাই কে খেতে দিচ্ছে, বৌদিও পূর্বার সাথে যোগ দিয়েছে। কতদিন পর এইরকম খুশির পরিবেশ বাড়িতে, মোহরের মন ভরে যাচ্ছে দেখে। হঠাৎ খেয়াল হলো শুভ নেই, " মা, দাদাভাই কোই?"
মলিনা দেবী বলার আগেই বৌদি বলে উঠল, " অফিসের কি একটা কাজ করছে, পরে খাবে বললো।"
মোহর উঠে গেল শুভ কে ডাকতে। শুভ বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল।
" দাদাভাই, খাবি চল।"
" তুই খুশিতো বোনাই?"
" ওমা, খুশি হবোনা? বায়রে গিয়ে দেখ, মা, বাবা, বোন, বৌদি সবাই কত খুশি, কতদিন পর বাড়িতে একটা উৎসব উৎসব ভাব, আর তুই জানতে চাইছিস আমি খুশি কিনা? "
" এবার সিরিয়াস হো, বোনাই। "
" কিসের সিরিয়াস? এত গম্ভীর গম্ভীর কথা আজ আর বলিস না দাদাভাই। চল, খাবি চল। তাড়াতাড়ি আয়।" একরকম যেন পালিয়ে গেল দাদার থেকে। বেশিক্ষণ  কাছে থাকলে ওর মনের ক্ষতটা দাদাভাই ঠিক দেখে ফেলবে।
মোহর চলে যেতে, শুভ মনে মনে বললো, " এখনকার মতো পালিয়ে যাচ্ছিস যা বোনাই, কিন্তু তোর পাওনা এবার যে তোকে পেতেই হবে। আর আমি তোকে সেটা দিয়ে তবে ছাড়বো।"

বাড়িতে লোকজন আসা শুরু হয়ে গেছে । কাল  পূর্বার বিয়ে। আজ কলেজে গিয়ে মোহর পাঁচদিনের ছুটির দরখাস্ত জমা করবে। এমনিতে ও কামাই করে না বলে প্রচুর ছুটি জমা পরে আছে ওর। কলেজ থেকে বেড়িয়ে একটা বড় শাড়ির দোকানে ঢুকলো মোহর। মা র জন্য শাড়িটা কেনা হয়নি। খুব সুন্দর একটা গরদের শাড়ি কিনলো, যেটা পরে মলিনা দেবী তপনকে বরণ করবেন। বাড়িতে ঢুকে মলিনা দেবী কে শাড়িটা দিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা টা দিয়ে জানলাটার পাশে দাঁড়ালো মোহর। মনটা তার উড়ে চলে গেল অতীতের কিছু অপ্রিয় মূহুর্তে।.................প্রিয়ব্রতর কথা মতো কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল মোহর। বারোটা দশে বাইক নিয়ে এলো প্রিয়। মোহর ভীষণ লজ্জাজনক পরিস্থিতি তে পড়লো যখন প্রিয়র পিছনে শুভ কে দেখতে পেল। শুভ জড়িয়ে ধরল মোহরকে, " আমি খুব খুব খুব খুশি বোনাই, প্রিয় আমাকে সব বলেছে। তোরা খুব সুখী হবি, দেখিস। আমি আজকেই বাড়িতে বলবো।"
" না দাদাভাই, আজ না, আগে ওর মা র কাছ থেকে ঘুরে আসি। প্রিয়দার একার পছন্দে তো হবেনা, মাসিমার আমাকে পছন্দ হবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।" প্রিয় শুভর দিকে তাকালো, " বোঝা, তোর বোনাই কে, আমার ভালোবাসার মানুষকে আমার মা কাছে না টেনে  পারবে?" শুভ হাসলো, মোহর বাইকে উঠে বসলে, ওদের দুজনকে অল দ্য বেস্ট বললো।

প্রিয়র মা, স্মিতা দেবী একটু রাশভারী মানুষ। প্রিয়র বাবা মারা যাওয়ার পর
পুরো ব্যবসাটা উনিই দেখছেন। প্রিয় মোহরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে, মোহরকে কেন এনেছে সেটাও বললো স্মিতা দেবীকে। মোহর বুঝতে পারলো ,স্মিতা দেবী একটুও খুশী হননি।  প্রিয়র সামনেই, স্পষ্ট ভাবে মোহরকে বলে দিলেন, " তোমাকে কি দেখে প্রিয় পছন্দ করলো আমি জানিনা, তবে তোমাকে কোনভাবেই আমি আমার ছেলের পাশে দেখতে চাইছিনা। প্রিয়র বাবা নেই, ওর সব আবদার আমি তাই পূরণ করার চেষ্টা করি, কিন্তু এটা অসম্ভব। আমার মত নেই এই সম্পর্কে। মোহর এই রকম কিছু আশংকা করছিলো। তাই কষ্ট পেলেও অবাক হলো না। প্রিয় কিছুতেই মা কে বোঝাতে পারলো না। স্মিতা দেবী কিছু শুনতেও চাইলেন না। নিজের ঘরে চলে গেলেন। প্রিয় অবাক হয়ে গেলো, মা র ব্যবহারে। " স্যরি, মোহর, আমি...... " প্রিয়কে থামিয়ে দিলো মোহর,
" তোমাকে পাওয়া আমার কপালে নেই। বাঁদরের গলায় কি মুক্তোর মালা মানায়, বলো। তুমি মনে কোন ক্ষোভ রেখোনা প্রিয়দা। তোমার মা একদম ঠিক বলেছেন, তোমার পাশে কোনভাবেই আমাকে মানায় না। পারলে আর আমার সাথে দেখা করোনা কখনও, তুমি কাছে এলে আমি দুর্বল হয়ে যাই।   আমি নিজেকে আর দুর্বল করতে চাইনা।" কাঁদতে কাঁদতে বেড়িয়ে গেল মোহর, প্রিয়কে কিছু বলার সুযোগই দিলো না। বাড়িতে এসে শুভকে জড়িয়ে খুব কেঁদেছিল মোহর। শুভ শান্তনা দেওয়ার কোন ভাষা পায়নি। প্রিয় অনেকবার ফোন করেছে, মোহর কথা বলেনি। শুভ অনেক বোঝালো মোহরকে যাতে প্রিয়র সাথে কথা বলে, কিন্তু কাজ হয়নি।
পরদিন প্রিয় দেখা করতে এলো মোহরের সাথে।
" কেন তুমি আমার সাথে এরকম করছ মোহর? মা যা খুশি বলুক, আমি তোমাকে ভালোবাসি, এটাই শেষ কথা।"
" না, প্রিয় দা এটাই শেষ কথা নয়। তোমার উচিৎ,তোমার মার ইচ্ছাকে সম্মান দেওয়া।"
" আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি মোহর। আমরা বিয়ে করে আলাদা থাকবো। তুমি আমাকে এই ভাবে ফিরিয়ে দিওনা, প্লিজ।"
" এটা কখনও হয়না। তুমি তোমার মা কে ছেড়ে চলে আসবে, আমায় নিয়ে আলাদা ঘর বাঁধবে, আর তোমার মা, তাঁর কি? সেকি একা হয়ে যাবেনা? মা কে কাঁদিয়ে সুখী হওয়া যায়না প্রিয়দা। তুমি ফিরে যাও। "
" আমি তোমাকে না পেলে কোনদিন আর কাউকে বিয়ে করবো না। মা কেও বলে দিয়েছি সে কথা। আজ আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছ, মোহর, তুমি কি ভালো থাকবে আমায় ছেড়ে। "
মোহর কিছুতেই দুর্বল হবেনা, কথা দিয়েছে নিজিকে, তাই একবারও প্রিয়র দিকে তাকিয়ে কথা বললো না, " আমি সব পারি প্রিয় দা, সব পারি। তুমি চলে যাও, আর কোনদিন এসোনা। "
" মোহর... "
" প্লিজ প্রিয়দা, চলে যাও।" একভাবে জানালা দিয়ে বায়রের দিকে তাকিয়ে থাকলো।  চলে গেল প্রিয়দা। পরে শুভর কাছে শুনেছিল, প্রিয় দা ব্যাঙ্গালোরে চাকরি নিয়ে  চলে গেছে । ওখানেই একটি কোম্পানি তে চাকরি করছে। আর কোনদিন প্রিয়র সম্বন্ধে কোন কথা মোহর জানতে চায়নি।............

দরজায় আঘাত পড়াতে মোহর পিছন ফিরলো।
" কি করছিস বোনাই? কারও কথা ভাবছিস? "
মোহর কখনও কিছু শুভর কাছে লুকোতে পারেনা, এমনকি ওর মনের ভিতরে কি চলে সেটাও কেমন করে যেন ওর দাদাভাই ঠিক বুঝে যায়।
মোহর উত্তর দিলোনা, মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো। শুভ এগিয়ে এলো, মোহরের হাতে একটা প্যাকেট ধরালো, " দেখতো, পছন্দ হয়েছে কিনা? "
মোহর প্যাকেট টা খুলে দেখলো,  লাল বেনারসি শাড়ি।আর সোনার একটা কান গলার সেট। অবাক হয়ে তাকালো মোহর, " এগুলো কেন কিনলি দাদাভাই? বিয়েটা কি আমার? কেন এখন ফালতু খরচ করলি? "
" থাক, তোকে বেশী পাকামো করতে হবেনা। কালকে এগুলো পরে সুন্দর করে সাজবি,বুঝলি।" মোহরের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল শুভ। একটু পরে মলিনা দেবী ঘরে ঢুকলেন, " মোহর, দেখি মা, একটু হাত টা দে তো। এমা, এই বিয়ে থার সময় হাতটা এরকম কেউ ফাঁকা রাখে? এটা পরে থাকতো। " মলিনা দেবী নিজের বালাদুটো জোর করে পরিয়ে দিলেন মোহরকে। মোহর কিছুই বুঝতে পারছে না। বাড়ির লোকগুলোর আজ হলো কি? বিয়ে তো হচ্ছে পূর্বার, কিন্তু সবাই ওকে নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছে কেন? মোহর মাথা কাজ করছে না।

আজ বিয়ে। সকালে দধিমঙ্গল খাওয়ার সময় পূর্বা হঠাৎ জেদ করলো মোহরকে আগে খেতে হবে, তারপর ও খাবে। পূর্বার জেদের কাছে হার মানতে হলো মোহরের। গায়ে হলুদ হচ্ছে পূর্বার। মোহর নিজের ঘরে এসেছে স্নান করতে, এমন সময়, বৌদি ঘরে ঢুকলো, " মোহর, হলুদ শাড়ি টা পরে খুব ভালো লাগছে তোমায়। কিন্তু একি, তোমার গালটা ফাঁকা কেন?" বলেই একটা বাটি থেকে খাবলা করে হলুদ নিয়ে মোহরের দুই গালে, হাতে লাগিয়ে দিয়েই চলে গেল। মোহর থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। বাড়ির লোকগুলো কি করতে চাইছে, কে জানে? তবে কারোর আচরন স্বাভাবিক নয় । মোহরের একদমই ইচ্ছে ছিল না, তাও  বেনারসি, গয়না পরে নিলো, দাদাভাই কে যে ও না করতে পারেনা। বৌদি হঠাৎ একটা মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো, মোহরকে সাজিয়ে দিতে বললো। মোহর এবার একটু বিরক্তই হলো, "কি হচ্ছেটা কি বৌদি, কেন তোমরা এরকম করছ? আমাকে নিয়ে আর মজা নাই বা করলে। অনেক তো হলো।" বৌদি কিছু বলার আগেই শুভ ঘরে ঢুকলো,
" কেউ তোকে নিয়ে মজা করছেনা, বোনাই। আজ যে একটা বিশাল আনন্দের দিন। একটু সেজে নে না, বাবু।" মোহর আর কিছু বলতে পারলোনা। কিছুক্ষনের মধ্যেই মেয়েটি খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিল মোহরকে। আয়নায় নিজেকে দেখে অবাক হলো মোহর , বিশ্বাস হচ্ছিল না নিজেকে দেখে। হঠাৎ চেনা একটা গলা শুনে চমকে পিছনে তাকালো...........
"আমার বনে দোলা লাগে, মুকুল পড়ে ঝরে,
চিরকালের চেনা গন্ধ হাওয়ায় ওঠে ভরে,
মঞ্জরিত শাখায় শাখায়,
মৌমাছি দের পাখায় পাখায়,
ক্ষণে ক্ষণে বসন্তদিন ফেলেছে নিঃশ্বাস,
মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ।"
এ কাকে দেখছে সামনে, প্রিয়দা! অবাক, হতবাক হয়ে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকলো মোহর। প্রিয় একদম কাছে চলে এলো, মোহর কে কাছে টেনে নিলো, "অবাক হলে? কি করবো বলো, পারলাম না, অনেক চেষ্টা করলাম মনটাকে তোমার থেকে সরিয়ে নিতে, কিন্তু পারলামনা। অনেক তো হলো, মোহর, আর না, এবার আর বাধা দিওনা।" মোহর তাকিয়ে থাকলো প্রিয়র দিকে, কত বছর পর দেখছে ওর মনের মানুষ কে। " তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে মোহর। আমার মোহর।" বুকটার মধ্যে জড়িয়ে ধরল প্রিয়, মোহরকে। প্রিয়র পাঞ্জাবি টা মোহরের চোখের জলে ভিজে গেলো।
" কিরে, কেমন দিলাম বোনাই?" শুভর গলা শুনে ওরা দুজনেই নিজেদের সামলে নিলো। মোহরের মা, বাবা, বৌদি, বোন, এমনকি অবাক হয়ে দেখলো মোহর, প্রিয়র মা, স্মিতা দেবী হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। শুভ বলে চললো,
" সেদিন কি একটা কাজে তোর ঘরে ঢুকেছিলাম, বোনাই। আমার হাত লেগে তোর ব্যাগটা পড়ে গেল ,ওটা তুলতেই ভিতর থেকে বেড়িয়ে এলো প্রিয়র ফটো। সব পরিস্কার হয়ে গেলো, বুঝলাম তোর ভিতরের ক্ষতটা এখনও সারেনি। তোর ক্ষত সারাবার মলম কে ফোন করলাম। প্রিয়র সাথে আমার যোগাযোগ সবসময়ই ছিল, কিন্তু তোর জেদ, আর প্রিয়র অভিমানের জন্য কেউ কারোর খবর নিতিস না। প্রিয়র সাথে কথা বলে জানলাম ও এখনও তোকেই ভালোবাসে। আমি আর সময় নষ্ট করলাম না। প্রিয়র  মাসিমার সাথে গিয়ে দেখা করলাম।" একদমে শুভ বলে গেল।
" আমি ভুল করেছিলাম। গায়ের রং দিয়ে মানুষ বিচার করা আমার ঠিক হয়নি। আমার একটা ভুলের জন্য দুটো জীবন নষ্ট হয়ে গেল।" স্মিতাদেবী এগিয়ে এসে মোহরের হাত দুটো ধরলেন, " তোমাকে প্রিয়র থেকে আলাদা করতে গিয়ে নিজে দূর হয়ে গেলাম। এত বছরে ছেলেটা একবারও আসেনি আমার কাছে। আমি নিজে সেধে যেতাম ওর কাছে। প্রিয়র চোখে আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাইনি কখনও। শুভ একবার বলাতেই আমি আমার ভুলটা শুধরে নেবার এই সুযোগ তাই ছাড়তে পারলামনা। আমাকে ক্ষমা করে দাও মোহর।"
" মাসিমা রাজি হতেই সব প্ল্যান করে নিলাম। বাড়িতে জানালাম। তোকে যাতে কেউ না বলে কিছু, সেদিকে বিশেষ করে বলে দিলাম। এবার আমার দুই বোনের একসাথে বিয়ে হবে। তুই খুশি তো বোনাই?" শুভকে জড়িয়ে কেঁদে উঠল মোহর, শুভও আটকাতে পারলো না নিজেকে।
" হয়েছে, আর কাঁদতে হবেনা, এত বছর অপেক্ষা করতে করতে বেশ কিছু চুল পেকে গেছে, আর দেরী করাস না ভাই, তাহলে পুরো বুড়ো হয়ে যাবো। তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে নিতে দে।" প্রিয়র কথায় সবাই হেসে উঠল।

চারিদিকে উলুধ্বনি পড়লো, মোহরের সিঁথি রাঙিয়ে উঠলো প্রিয়র দেওয়া সিঁদুরে। একেই বোধহয় বলে, মধুরেণ সমাপয়েৎ।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                           জয়িতা বোস

0 comments: