Saturday, January 18, 2020

চারু দত্ত চারু মজুমদার সংখ্যা ও লিটল ম্যাগাজিন



বাংলা কবিতার পাঠকমাত্রই জানেন যে কবি মৃদুল দাশগুপ্তের ‘কবিতাসহায়’ নামক একটি বই ধারালো ও প্যাশনেট গদ্যে ঠাসা। কবিতার মল-মূত্র ঘেঁটে কৃমি খুঁটে বের করবার বদলে মৃদুল এই বইটিতে আবেগের বিস্ফোরণে সৎ ও অকপট। এই বইটির ‘এখন এরকম’ গদ্যে মৃদুল লিখেছেন,’আমি জলার্ক পত্রিকার চারু দত্ত সংখ্যা, চারু মজুমদার সংখ্যাকে সমর্থন করবোই। সম্পাদক যদি অধিক প্রচার সম্ভাবনা আগাম বুঝেও এইসব সংখ্যা করেন, তাহলেও আমি বলবো, দারুণ। কিন্তু বৈদগ্ধ পত্রিকার জ্যোতি বসু সংখ্যাকে আমি লিটল ম্যাগাজিন বলবোনা।’ বুঝহ হে রসিকজন, যা বুঝবার। কিন্তু মৃদুল যে একটি বিশেষ দিকে আঙ্গুল তুলে দিয়েছেন, সেই দিকটিতে তাকালে আমাদের অনেকেরই পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে উঠতে পারে। শুরু হতে পারে এক অস্বস্তির। 

এই গদ্যটিতে যদিও মৃদুল বেশি  আলোকপাত করেছেন লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কয়েকটি প্রবণতার দিকে, তবুও উপরের কথাগুলির মধ্যে নিহীত থাকে লিটল ম্যাগাজিন কী, কেন ও তার গতিপথ ঠিক কেমন হওয়া উচিত, সেটিও। লিটল ম্যাগাজিন, তা সে গদ্যের, কবিতার বা প্রবন্ধের, যাই হোক না কেন তার মূলে যে ভাবনা, সেটি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে খুব একটা পরিবর্তিত হয়ে যাবে এমনটি আমি বিশ্বাস করিনা। আমি বিশ্বাস করি লিটল ম্যাগাজিন কেবলমাত্র দু’ধরণের হতে পারে। সৎ সম্পাদক বা সম্পাদকমন্ডলীর দ্বারা প্রকাশিত সৎ লিটল ম্যাগাজিন এবং অসৎ উদ্দ্যেশ্যে  চালিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা প্রকাশিত অসৎ লিটল ম্যাগাজিন। এর বাইরে আর কোনো বিভাজন থাকতে পারেনা। ফলে লিটল ম্যাগাজিনের কবিতভাবনা কী রকম হওয়া উচিত, এই বিষয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা উক্ত পথ ধরেই ঘোরাফেরা করবে, এটাই স্বাভাবিক। 

সাহিত্য নিয়ে বাণিজ্য করতে চান যারা তাদের বিষয়ে আমার কোনো গাত্রদাহ নেই। এবং এই কথাটি বলবার সুবাদে আমার মত তুচ্ছ কবিতা-লেখকের দিকেও ছুটে এসেছে তীব্র আক্রমণ। লিটল-ম্যাগাজিনের সঙ্গে যুক্ত বুকে বারুদ ঠাসা বন্ধুরাও ভুল বুঝেছে। আজ আরও পরিষ্কার করে বলবার সুযোগ পেয়ে এর সঙ্গে আমি আরেকটি কথাও যোগ করে দিতে চাই। বাণিজ্যের অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। আর এমনকি শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এই মৌলিক অধিকারের প্রতি আমার সমর্থনও আছে বেশ কিছুটা। 

সেই বাণিজ্য সফল করতে গেলে বাণিজ্যপন্থীরা যা যা করবার করবেই। বাণিজ্যকে পুষ্ট করতে গেলে তাদের ধরতেই হবে নিজস্ব পথ। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতি যদি আমার সমর্থন না থাকে তাহলে কোনও একজন ব্যক্তি মানুষের বহুজাতিক কোম্পানির প্রতি, তার কমোডিটির প্রতি একই যুক্তিতে সমর্থনও থাকতেই পারে। এই ২০১৭ সালে এসে গেরিলা যুদ্ধের পদ্ধতি যেমন ট্র্যাডিশনাল নেই আর, ঠিক তেমনই প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার অভিমুখও পাল্টে যেতে বাধ্য। গ্রাম-শহরের সীমারেখা ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। ঠিক একই রকম ভাবে ভেঙ্গে গেছে গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরে ফেলার স্বপ্নও। এই কথাটি বলা হলো একটি বিশেষ প্রবণতাকে চিহ্নিত করতে। 

অস্বীকার করবার উপায় নেই যে বাণিজ্যপন্থীরা বেশীরভাগ সময়েই দ্রুত সফলতা পেয়ে যান। পাওয়াই স্বাভাবিক। প্রশ্ন উঠতেই পারে, সেই বাণিজ্যের চোরা ফাঁদে যদি আমি-যাকে-সৎ সাহিত্য বলে মনে করছি, সেটি আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে পড়ে তখনও কি এই অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব? সম্ভব এই ইনডিফারেন্স বজায় রাখা? 

এখানেই একটা বড় প্রশ্ন ও বিপদ কাজ করে। এই বিষয়টিকে একটু পরিষ্কার করা দরকার। প্রশ্নটা ইনডিফারেন্স বা উদাসীনতা বজায় রাখার নয়। বিষয়টি একটি ক্যাসেল বা দূর্গ গড়ে তোলার। নিজস্ব একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কোনও ভাবেই ঢুকে পড়তে পারবেনা বাণিজ্য-বায়ু। এমন এক চেতনার স্তরে নিজেকে উন্নীত করা যেখানে এই বাণিজ্যিক মানসিকতাই নয়, এমন কী অবাণিজ্যিক মানসিকতারও কোনও অস্তিত্ব থাকতে পারেনা। এই দুইই একই রকম ভাবে ইররেলিভেন্ট হয়ে পড়তে পারে সেখানে। রাষ্ট্রহীন সমাজতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তরে যেমন এক স্বপ্নের সম্ভব হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পেয়ে থাকি আমরা ঠিক সেই ধরণের এক স্তর। এটা কোনো improbable probablity নয়। আমার মতে এটি রীতিমত একটি probable improbablity. পথটি কঠিন হতেই পারে। কিন্তু সম্ভব। এবং শিল্প নিয়ে এই সব বাণিজ্য, যার বিপ্রতীপে তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ, সেখানে তোমার অস্ত্র একমাত্র তোমার শিল্পই। বাদবাকী যা কিছু সব বাহ্যিক। তোমার কবিতাকেই অস্ত্রের মতো করে ব্যবহার করে যেতে হবে। আত্মরক্ষার স্বার্থেই তোমাকে সেটি করতে হবে। এবং সেই অস্ত্র কিন্তু ব্যক্তি বা প্রকাশের প্ল্যাটফর্মকে চেনে না। সে শুধু চেনে একটি প্রবণতাকে। কারণ প্রতিষ্ঠানিকতা বা বাণিজ্য কিন্তু একটা প্রবণতাই। একটা দৃষ্টিভঙ্গী। 

প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্য সব সময়েই বেশ কিছু ইমিডিয়েট রিটার্ন দেয়। সেই ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে এমন একটা সফলতার গন্ধ লেগে থাকে যে অনেক সময়েই সেটিকেই একমাত্র পথ ভেবে ভুল হতে পারে। হয়ও। এখানেই, এখানেই সবথেকে কঠিন লড়াইটি অপেক্ষা করে থাকে। কারণ, এই মানসিকতার বিপরীত যে পথটি তুমি বেছে নিয়েছ, সেটির থেকে ইমিডিয়েট রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূণ্য। তাই তোমার লড়াই অনেক বেশি কঠিন। তার থেকেও বড় কথা, এই পথ তোমার নিজের বেছে নেওয়া পথ। তোমার ভালোবাসা ও লড়াই করার পথ। যে পুরুষকার, যে সাহসে অনিশ্চিত ঝুঁকি ভরা একটা পথ তুমি বেছে নিয়েছ সেই মানসিকতা কোনও রকম শহীদ মনস্তত্বকে প্রশ্রয় দিতে পারেনা। কোনো অশ্রুমোচন, সান্ত্বনা বা প্রবোধবাক্য তোমার জন্য নয়। তোমার মোক্ষ নয় সেটা। সেটি হলে কিন্তু তোমার অবস্থানটিকেই অপমানজনক একটি ঘেরাটোপের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। ফলে তোমার অবস্থানটিকে ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে হবে বিপ্রতীপে থাকা শক্তিটির নিরপেক্ষ। 

লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা ভাবনার ক্ষেত্রেও আমার এক ই ভাবনা। একই অবস্থান। আমি বিশ্বাস করি, লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা বলে আসলে কিছুই হয়না, হতে পারেনা। 

অধিকাংশ সময়ে প্রতিষ্ঠানকে অদৃশ্য প্রতিপক্ষ খাড়া করে লিটল ম্যাগাজিনের এক বড় অংশের সম্পাদক ও বেশ কিছু কবি সর্বদা ভ‍্যোকাল থাকেন। ফলে অনবরত এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষের সাপেক্ষে নিজের অবস্থানটিকে চিহ্নিত করে যেতে হয় তাদের। এ এক কবন্ধ প্রবণতা। নিজের অবস্থান অন্যের সাপেক্ষে এই ভাবে অনবরত চিহ্নিত হবার থেকে বড় অসহায়তা আর কিছুই হতে পারেনা। লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা ভাবনার সঙ্গে চিরায়ত সৎ কবিতা ভাবনার কোনও বিরোধ নেই। থাকতেও পারেনা। পৃথিবীর ইতিহাসে সব সময়েই খারাপ ও ভালো কবিতাই লেখা হয়েছে। সার্থক কবিতা লিখিত হবার সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমে ভয়াবহভাবেই কম। অনেকটা ধ্রুবকের মত কাজ করে এই সংখ্যাটি। লিটল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রেও এটাই সত্যি। সেখানেও রোজ শ’য়ে শ’য়ে সার্থক কবিতা লিখিত বা প্রকাশিত হতে পারে না। একটি কালখণ্ডে শতকরা এক শতাংশ লেখাও যদি ইশারা রেখে যায়, পাঠককে ভাবায়, আলোড়িত করে তাহলেই বুঝতে হবে  ওই সময়ে ভাষাটি ভীষণভাবেই বেঁচে র’য়ে গেল। এর পর যে কথাটি আমি বলতে যাব তার জন্য আমায় শ্রেণী শত্রু হিসাবে বিবেচনা করা হতেই পারে। আমার সামান্য লেখালেখির বেশিরভাগটাই লিটল ম্যাগাজিনেই প্রকাশিত। কিন্তু প্রশ্ন এটাও যে, ওই এক শতাংশ লেখা, যা কি না একটি ভাষার সম্পদ হয়ে রয়ে যায় অনেকটা সময় জুড়ে, তার জন্য লিটল ম্যাগাজিনই বা অনিবার্য হতে যাবে কেন? সেটি তো প্রতিষ্ঠানিক কোনও পত্রিকাতেও প্রকাশিত হতে পারে। এবং হতেই পারে। 

এইখানে এসেই সেই অনিবার্য কথাটিই আবার বলতে হয় একটি কবিতা লেখার সময় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকা একজন কবির সচেতন বা অবচেতন মনে দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কিছু শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা থেকেই যায়। লিটল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে সেখানে অনন্ত স্বাধীনতা। সীমাহীন একটা দূরত্ব পর্যন্ত ভাঙচুর করবার অনন্ত সম্ভাবনা। সার্থক কবিতা লিখিত হবার ক্ষেত্রে কোনও শর্তপূরণের শর্ত থাকতে পারে না। ফলে যারা ব্যাক অফ দ্য মাইন্ডে  প্রতিষ্ঠানের শর্ত পূরণ করবার ভাবনা রেখে শব্দ লিখে যান তারা কবিতা থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। 

আবার উল্টো দিকে লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকাও সব সময়ে সন্দেহের ঊর্ধ্বে  নয় প্রতিষ্ঠানের শর্ত পূরণ না যেমন কোনও লেখকের কাজ হতে পারে না, ঠিক তেমনই কোনও সম্পাদক বা সম্পাদকমন্ডলীর ইগো  স্যাটিসফাই করাও কোনও কবিতা লেখকের কাজ হতে পারেনা। অনেক সময়েই দেখা যায়, স্বাধীনতা প্র্যাকটিস করতে দেবার নামে লিটল ম্যাগাজিনের যে মঞ্চ খুলে দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে  সূক্ষ্ম ভাবে লুকিয়ে রয়ে যাচ্ছে শর্ত আরোপ করবার সূক্ষ্মত্তর রূপ। মিশে যাচ্ছে সম্পাদকের ইগো স্যাটিসফাই  করবার মত নরকের ছায়া। সেই ছায়াই আহ্বান করছে কবিতা, সেই ছায়াই  প্রকাশ করছে কবিতা। কবিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কবিতার শর্ত ব্যতীত অন্য কিছু কিছু প্যারামিটার গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে। এটি দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিকতার থেকেও বেশি ঘৃণার। বেশী ক্ষতিকর। কারণ এ ক্ষেত্রে কাজটি করা হচ্ছে এক পবিত্র নামাবলীর আড়ালে। 

কোনও একজন লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক নিজে এক বিশেষ ধারার  কবিতাকেই প্রকৃত কবিতা বলে মনে করতে পারেন। তিনি নিজে কোনও একটি আন্দোলনের জন্ম ও দিতে পারেন। নস্যাৎ করে দিতে পারেন সমস্ত প্রাচীন লিগ্যাসি নামক চিনের প্রাচীর। নিশানদিহি খাম্বা  উপড়ে উপড়ে চলা সেই সব সম্পাদক এবং লেখককে আমি সম্মান করি। কিন্তু কবিতাকে বিচার করার ক্ষেত্রে, তাকে প্রকাশ করবার ক্ষেত্রে যদি সম্পাদকের দেবদূতের মত চোখ আচ্ছন্ন হয়ে থাকে কবিতা বহির্ভূত কোনও বিষ বাষ্পে  তাহলে আমাকে বলতেই হবে তার মধ্যে খেলা করে চলে এক ফান্ডামেন্টালিস্ট মানসিকতা। দেখতে আলাদা হলেও প্রতিষ্ঠানিকতার সঙ্গে তার তেমন কোনও ফারাক নেই। আমার স্থির বিশ্বাস  বাংলা কবিতার এক একটি স্তম্ভ, যার কোনও একটির নাম রমেন্দ্রকুমার আচার্যচৌধুরী বা মনীন্দ্র গুপ্ত বা গীতা চট্টোপাধ্যায় বা শক্তি চট্টোপাধ্যায়... এক একটি চির-সবুজ বৃক্ষ, যার একটির নাম জয় গোস্বামী একটির নাম শ্যামলকান্তি দাশ একটির নাম পার্তপ্রতীম কাঞ্জিলাল... এঁদের কেউ কেউ শুধুই লিটল ম্যাগাজিনে লিখেছেন। কেউ কেউ আবার প্রতিষ্ঠানে ও লিটল ম্যাগাজিনে সমানভাবেই লিখে গেছেন। কিন্তু একটি এদের কবিতার মধ্যে লুকিয়ে রয়ে গেছে একটি ফান্ডামেন্টাল ট্রুথ। সেটি হল, যাঁর দুহাত ভরে বাণিজ্যিক পত্র-পত্রিকায় লিখলেন বা যাঁরা শুধু লিটল ম্যাগাজিনেই লিখে গেছেন, তাঁদের সার্থক কবিতাগুলি লিখিত হবার সময়ে প্রতিষ্ঠান বা লিটল ম্যাগাজিন—কোনও মাধ্যমের কোনও শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা কাজ করেনি। ভেসে ওঠেনি কোনও সম্পাদকের মুখ বা তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ইতিহাস। 

প্রতিষ্ঠানকে আপনি কাঠগড়ায় তুলে রাখবেন নাকি তার পায়ে প্রণাম রাখবেন তা দিয়ে কবিতার ইতিহাসের খুব একটা কিছু যায় আসে না। ততদূর পর্যন্তই আপনার কবজকুণ্ডল যতদূর পর্যন্ত আপনি কবিতা লিখিত হবার সময়ে বা চিন্তাসূত্রটি বয়ে বেড়াবার সময়ে, সেই বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি খাতা নিয়ে ঘুরে বেড়াবার সময়ে এ সবের থেকে দূরে থাকলেন। সৎভাবে বিস্মরণের দিকে হেঁটে গেলেন। প্রতিষ্ঠান ও লিটল ম্যাগাজিন—দুটোই সেই মুহূর্তে ইররেলিভ্যান্ট হয়ে উঠলো আপনার কাছে। 


ঠিক এই একই জায়গা থেকে মনে হয় লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা উড়ে এলে, সেই কবিতার লেখক জমি অধিগ্রহণের বিরোধীতা করেছেন নাকি তিনি এল.জি.বি.টি-দের প্যারেডে হেঁটেছেন—সেটি একজন সৎ সম্পাদকের বিচার্য বিষয় হতে পারেনা। আমার বিশ্বাস বেশিরভাগ  ক্ষেত্রে হয়ও না সেটা। তাই সামান্য বিচ্যুতি থাকলেও বাংলার লিটল ম্যাগাজিনগুলি আজও এত সবুজ।



কলমে  : পার্থজিৎ চন্দ

0 comments: